তারই মধ্যে, বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরা এই রকমের একটা ধারণা রাখেন যে, “আল-কায়দা” ও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া কাঠামোগুলো এবারে আসাদ বিরোধী আন্দোলনের মূল অঙ্গ হতে চলেছে, যাতে সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনী ও তাদের মতো আরও লোকদের আর জায়গা হবে না. এই কথা উল্লেখ করে লেবাননের রাজনীতিবিদ হালেব কিনদাল বলেছেন:

“সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনী সরকারি ফৌজের সঙ্গে বিরোধের সময়ে ধ্বংস হতে বসেছে. এই কৃত্রিম একটা গোষ্ঠী, যা তৈরী করা হয়েছে কাতার ও সৌদী আরবের অর্থে আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের যোগাযোগ ব্যবহার করে, তারা স্রেফ সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে নি. এখন টেলিভিশনে প্রত্যহ দেখতে পাওয়া যায় কিভাবে শত সহস্র জঙ্গী বাশার আসাদ ঘোষিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রার্থনার কর্মসূচী অনুযায়ী সিরিয়ার প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করছে”.

একই ধরনের মতামত রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভিয়াচেস্লাভ মাতুজভ পোষণ করেন, তিনি বলেছেন:

“কোন সন্দেহ নেই যে, সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ ভাবেই নিজেদের মর্যাদা হারিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধান্ধা অনুযায়ী তাদের ভিত্তিতেই সরকারি ফৌজের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছে, তারা একজোট হওয়ার কথা ছিল. কিন্তু এই ধান্ধা এবারে নষ্ট হয়েছে. বাস্তবে যখন সলিম ইদ্রিস নিজেই উদ্বাস্তু হয়ে গিয়েছে, তখন তার ভূমিকা ও তার নেতৃত্বে থাকা সংগঠনের মর্যাদা একেবারেই শূণ্য হয়ে গিয়েছে. সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন, খুব সম্ভবতঃ, চেষ্টা করবে অন্য কাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করার বা তৈরী করার, যারা জঙ্গীদের উপরে সত্যিকারের প্রভাব ফেলতে পারে ও যুদ্ধ ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম”.

আর মনে হয়েছে যে, এই দিকে প্রথম পদক্ষেপগুলো ওয়াশিংটন থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে, আশা করা হয়েছে, শীঘ্রই ইস্তাম্বুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে “ঐস্লামিক ফ্রন্টের” দেখা হতে চলেছে, সেই ফ্রন্ট, যাদের জঙ্গীরা বাধ্য করেছে সলিম ইদ্রিসকে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে. প্রসঙ্গতঃ, আমেরিকার পক্ষ থেকে সেই ঐস্লামিকদের কথামতোই, প্রতিনিধিত্ব করতে আসবেন দামাস্কাসের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ড. বিশেষজ্ঞ মহলে তাঁকেই মনে করা হয়ে থাকে সিরিয়ার “আরব্য বসন্তের” এক প্রধান স্থপতি বলেই. আর তিনিই “জাতীয় জোটের” গঠনের কাজে সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন.

অর্থাত্, খুব সম্ভবতঃ, আমেরিকার লোকরা ঠিক করেছে এই অধ্যায়ে সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনীর বদলে বেশী করে কট্টরপন্থী লোকদের দলে নিতে, - এই কথা উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ মাতুজভ বলেছেন:

““ঐস্লামিক ফ্রন্টের” পরিপ্রেক্ষিতে জানা রয়েছে যে, তারা আলাদা সমস্ত জঙ্গী গোষ্ঠীদের জড়ো করতে পেরেছে, তাদের একদল কিছুটা সময় ধরে “ঝেভাত-আন-নুসরা” গোষ্ঠীর সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করেছে. তারই মধ্যে এই শেষোক্ত গোষ্ঠী, যাদের মনে করা হয় “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর সবচেয়ে কাছের, তারা একাধিকবার সিরিয়ার সরকারি ফৌজের সঙ্গে বিরোধের সময়ে বলা হয়েছে মুখ্য অঙ্গ বলেই. এই ধরনের মূল্যায়ণ, এরই মধ্যে অনেকবার শুনতে পাওয়া গিয়েছে সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন ডিরেক্টর মাইকেল হাইডেনের মুখ থেকে. জানা রয়েছে যে, তিনি এমনকি আমেরিকার প্রশাসনকে প্রস্তাব করেছিলেন যে, সিরিয়ার ফৌজ যে সন্ত্রাসবাদীদের ছত্রভঙ্গ করেছে, সে কথা যেন স্বীকার করে নেওয়া হয়. কিন্তু আমার ভয় হয় যে, এই ধরনের ঘোষণা ত্রিশঙ্কু অবস্থাতেই থেকে যাবে, কারণ এই অঞ্চলে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন ডিরেক্টর নন, বরং দামাস্কাসের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ড, যিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই “ঐস্লামিক ফ্রন্টের” নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন. আমি মনে করি যে, আমেরিকার লোকরা এবারে ঠিক করেছে এই সংগঠনের সঙ্গে সেতু তৈরী করে, তাদের সহায়তায় “ঝেভাত-আন-নুসরার” সঙ্গে যোগাযোগ করার.

সুতরাং মনে হচ্ছে যে, সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনীর এবারে ভাবার সময় এসেছে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে, কারণ এবারে তাদের মনে হচ্ছে ব্যবহার শেষ হয়ে যাওয়া ফেলে দেওয়ার জিনিষ বলেই. আর সেই রকমের ফালতু ওজন আমেরিকা ও তাদের জোটের লোকরা নিজেদের সঙ্গে মনে তো হয় না যে, বেশী দিন ধরে নিয়ে চলতে থাকবে.