রাশিয়া আজকের দিনে সামরিক বাহিনীকে প্রসারিত ভাবেই নতুন করে অস্ত্র সজ্জিত করছে. তা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তিসঙ্গত হবে মনে করা যে, আগামী দশকে সামরিক বরাতের পরিমাণ কম হতে থাকবে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি যেমন উল্লেখ করেছেন যে, এই রকম হতে দেওয়া যেতে পারে না যে, আধুনিকীকরণের পরে প্রসারিত সামরিক শিল্পোত্পাদনের কারখানাগুলো সামরিক বরাত পাওয়া শেষ হলে বিনা কাজে দাঁড়িয়ে থাকবে. তারা আংশিকভাবে নাগরিক প্রয়োজনে যন্ত্র ও গাড়ী তৈরী করবে.

সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ার শেষ দিকের বছরগুলোতে ও রাশিয়া স্বতন্ত্র হওয়ার প্রথম কিছু বছরে বিপুল ভাবে সামরিক শিল্প ক্ষেত্রকে অসামরিক করার প্রথম প্রচেষ্টা করা হয়েছিল. এই ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ প্রকল্প ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি সঙ্কটে থাকা ও সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খারাপ থাকার কারণে সফল হতে পারে নি. এটা দেশে এই ধরনের প্রকল্প পরবর্তী কালে করা নিয়ে একটা সন্দেহবাতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে.

তারই মধ্যে চিন দেখিয়েছে কি করে সামরিক শিল্পকে সফল অসামরিক শিল্পে পরিণত করা সম্ভব. সেখানে সামরিক শিল্প অসামরিক যন্ত্র নির্মাণ শিল্পের বাজারে উপস্থিত হয়েছিল, যখন সেই দেশের অর্থনীতি দ্রুত উন্নতি করতে শুরু করেছিল. দ্রুত উন্নতিশীল বাজারে ও সরকারি সহায়তা পেয়ে চিনের কারখানাগুলো দেশে অসামরিক উত্পাদনের অংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল. এখন চিনের কিছু সামরিক- শিল্প কর্পোরেশনের, যেমন, চায়না নর্থ ইন্ডাস্ট্রিস কর্পোরেশনের (নোরিনকো) অসামরিক উত্পাদন তাদের বিক্রীর শতকরা নব্বই ভাগ. অন্যান্য কিছু বিশাল কারখানার ক্ষেত্রে যেমন আভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ার প্রথম যন্ত্র নির্মাণ কর্পোরেশন (৬১৭ নম্বর কারখানা, চিনের ট্যাঙ্ক নির্মাতা কোম্পানী) অসামরিক উত্পাদনের পরিমাণ শতকরা আশি ভাগ, তারা তৈরী করছে ভারী মাল বহনের উপযুক্ত গাড়ী.

চিনের অর্থনীতির তরফ থেকে মোটর গাড়ী, ট্রাক, কারখানার যন্ত্রপাতি, বিদ্যুত পরিবহনের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি নিয়ে বেড়ে ওঠা চাহিদা খুবই ভাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে চিনের সামরিক শিল্প ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য ও তা তাদের আর্থিক সূচক গুলোকে স্থিতিশীল করতে পেরেছে.

রাশিয়ার সামরিক শিল্প ক্ষেত্রে ২০১২ সালের পরিস্থিতি অনুযায়ী অসামরিক পণ্য উত্পাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র শতকরা ৩৩ ভাগ, আর বাইরের দেশে রপ্তানী করা হয়েছে শতকরা ২২ ভাগ পণ্য, আর বাকী অংশ – বরাত পাওয়া গিয়েছে দেশের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকেই. নিজের একটি বক্তৃতায় উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন, যিনি দেশের সামরিক শিল্প ক্ষেত্রের দায়িত্বে রয়েছেন. তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের অসামরিক পণ্য উত্পাদনের পরিমাণকে শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত বাড়াতে হবে.

যদি এই কাজ সমাধান করা সম্ভব হয়, তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্পোরেশনগুলো, যেমন, রসটেকনলজি, আলমাজ-আন্তেই, সংযুক্ত বিমান নির্মাণ কর্পোরেশন আর অন্যান্যগুলো ধীরে হলেও নিজেদের চিনা ভাইদের মতই দেখতে হবে, যারা বহু রকমের অসামরিক পণ্য উত্পাদন করে থাকে. তার মধ্যে রাশিয়া ও চিনের সামরিক শিল্প ক্ষেত্রে তৈরী হওয়া যোগাযোগ যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অসামরিক পণ্য উত্পাদনের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে বলে মনে করেছেন ভাসিলি কাশিন.