এই সফল অভিযান মহাকাশ বিদ্যাচর্চায় চীনের বিপুল অগ্রগতির প্রমাণ দেয়. বিশ্বে অনেক বিশেষজ্ঞই এই মত পোষন করেন, যে চীনারা শুধু অন্যদের হুবহু নকল করতে পারে, নিজেরা কিছু উদ্ভাবণ করতে জানে না. চীনারা এবার প্রমাণ করলো যে, এই ধারণা ভিত্তিহীন. লারিন বলছেন যে, ভবিষ্যতে হয়তো চীন শুধু তার বিশ্বে বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্নই বাস্তবায়িত করবে না, মহাকাশ অভিযানেও অগ্রণী ভূমিকা নেবে.

বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে চাঁদের আত্মীকরণের মহাযুদ্ধে রত ছিল আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, পরে উত্তরসূরী রাশিয়া. এখন চীনও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইছে – এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই – বলছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির অধ্যাপক আলেক্সান্দর সালিত্স্কি. –

কেউ কেউ মনে করছেন যে, এখানে নতুন কিছু নেই – সোভিয়েত এবং মার্কিনীরা চাঁদের পৃষ্ঠদেশ খানাতল্লাসী করে দেখেছে. চীনারা নতুন কি করবে? কিন্তু ১৯৭৬ সালে চাঁদে কার্যরত সোভিয়েত মুন-ওয়াকারের পরে সেখানে আর কিছু ছিল না. চীনারা সেটাই করে দেখালো. উপরন্তু, প্রায় চল্লিশ বছর পরে এবং সম্পূর্ণ নিজের প্রযুক্তি দিয়ে. তদুপরি, মহাকাশ আয়ত্বীকরণ সম্পর্কে ওরা ব্যাপক প্রচার করে. আর সেজন্য প্রয়োজন খাতাকলমে কিছু করে দেখানোর. নেফ্রাইটিস শশকের চাঁদে অবতরণ দিয়ে ওরা অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করার সর্বসম্মতি নিতে চায়. চীনারা বাস্তবিকই গোটা পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে.

চাঁদে চীনের রোবটের সফল অবতরণের পরে পশ্চিমী দুনিয়ায় অবশ্যই সাথে সাথে ঐ উপগ্রহে চীনের সামরিক শিবির গড়ার অভিসন্ধি নিয়ে বোলচাল শুরু হয়ে গ্যাছে. সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির এভসিয়েভের মতে – এটা বাড়াবাড়ি, কিন্তু সেইসঙ্গেই চীনের মহাকাশ প্রকল্পের দ্বিমুখী উদ্দেশ্য থাকতেই পারে. শুনুন তার মতামত. –

চাঁদ – এটা পরিপ্রেক্ষিত. চীন সর্বদাই পরিপ্রেক্ষিত মেপে কাজ করে. আমার মনে হয় না যে, এখনই চাঁদে চীনের কোনো সামরিক স্বার্থ আছে. আমার মনে হয় না, যে চীন সামরিক প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া, যেক্ষেত্রে তারা আমেরিকা ও রাশিয়ার থেকে অনেক পিছিয়ে আছে, এই বড় মহাকাশ প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে বিনিয়োগ করছে, এখানে চীনের অন্য উদ্দেশ্যও আছে বলে মনে করছেন ভ্লাদিমির এভসিয়েভ. তিনি বলছেন যে, আসলে মহাকাশ প্রকল্প চীনকে সারা পৃথিবীব্যাপী প্রতিদ্বন্দিতায় জনমানসের অনুপ্রেরণা যোগাবে. –

চীন এখন মহাকাশে আমেরিকার মোকাবিলা করার জন্য বেশি প্রস্তুত বা তার প্রস্তুতির কাজ সারছে. চীন জানে যে, যদি আমেরিকার সেনাবাহিনীর মহাকাশ থেকে মদত পাওয়া আটকানো যায়, তাহলে পৃথিবীতে তার একাধিপত্যেও রাশ টানা যাবে. চীন চাইছে আমেরিকাকে মহাকাশের সব বাড়তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে – পর্যবেক্ষণ, নজরদারী, যোগাযোগ ইত্যাদি থেকে.

চীনের নেফ্রাইটিস শশক প্রকল্পের মেয়াদ তিন মাস. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ২০১৭ সালে চীন এমন একটা যান চাঁদে পাঠাবে, যে পৃথিবীতে চাঁদের মাটির নমুনা নিয়ে আসবে.