“আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাহিনী প্রত্যাহারের আগে, অর্থাত্ ২০১৪ সালের শেষের আগে সময় রয়েছে ১২ মাস. সামরিক পরিকল্পনা যাঁরা করেন, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী এই রকমের স্বল্প সময়ে আফগানিস্তানের প্রশাসনের শুধু জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সবচেয়ে বেশী রকমের মজবুত করারই দরকার নেই, বরং দরকার রয়েছে সেই প্রশ্নেরও সমাধান করা যে, পরবর্তী সময়ে কোন বিদেশী ক্রীড়নকের উপরে সমাধান সূচক বাজী ধরা হতে চলেছে. রাষ্ট্রপতি কারজাই দিল্লীতে যে আলোচনা করেছেন, তা দেখিয়ে দিয়েছে: এই ধরনের এক মুখ্য ক্রীড়নকের ভূমিকা খুবই দ্রুত ভাবে নিতে চলেছে ভারতবর্ষ”.

আফগানিস্তানের ভবিষ্যত নির্দেশ করার জন্য ভারতের ভূমিকা বৃদ্ধির একটি কারণ হয়েছে কাবুল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঠাণ্ডা হওয়া. “আমি ওদের বিশ্বাস করি না” – নিজের আমেরিকার জোটসঙ্গীদের সম্বন্ধে স্পষ্টই দিল্লীতে স্বীকার করেছেন কারজাই, যা তাঁর দিল্লী সফরের সময়ে উদ্ধৃত করা হয়েছে, এই এলাকার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনার সময়ে. তিনি রাষ্ট্রপতি ওবামার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন যে, তাদের প্রতিনিধিদের কথা ও কাজে বেশীর ভাগ সময়েই ফাঁক থেকে যাচ্ছে.

সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও কাবুল এবারে একে অপরের কাছ থেকে আরও দূরে সরে যেতে শুরু করবে. এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের নেতৃত্বের নজর পড়েছে এই এলাকার বৃহত্ ক্রীড়নকদের উপরেই – গত সপ্তাহের শেষে কারজাই প্রথমে ইরানে গিয়েছিলেন ও সেখানে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন কাবুল ও তেহরানের মধ্যে. আর সপ্তাহের শেষে তিনি ভারতে এসেছিলেন, এই প্রসঙ্গে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“কাবুলের জন্য ভারতের সাহায্য কতটা অনুভব যোগ্য হতে পারে, যারা আজ এখানে পুরনো জোটসঙ্গীদের হারাচ্ছে ও চেষ্টা করছে ২০১৪ সালের শেষের আগেই নতুন সঙ্গী খুঁজে নেওয়ার? ভারত ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের জন্য দুশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু এই সফরের সময়ে দিল্লী শহরে রাষ্ট্রপতি কারজাই স্পষ্টই বলেছেন যে, “এটা খুব কম. আমরা ভারতের ঠিক করার অধিকার রাখছি যে, তারা আমাদের সহায়তা করবে অথবা করবে না”. এটা প্রশ্নকে একেবারেই ক্ষুরধার করে উপস্থিত করা. প্রাথমিক ভাবে কাবুল ভারতের তরফ থেকে চাইছে আরও বেশী করেই সামরিক সহায়তা”.

সহযোগিতার আরও একটি সম্ভাব্য দিক রয়েছে – ভারতের পরামর্শদাতাদের আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি কর্মে ব্যবহার করার, তা যেমন ভারতে, তেমনই আফগানিস্তানের এলাকাতেও. ভারতে আজই সামরিক একাডেমীতে ৩০০ আফগান সেনা প্রশিক্ষণ পাচ্ছে. কিন্তু আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার কারণে এই প্রয়োজন আরও অনেক গুণে বেড়ে গিয়েছে, বিশেষ করে বিদেশী সামরিক পরামর্শদাতাদের জন্য, যারা আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা কর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম.

ভারতের সঙ্গে সামরিক –প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আফগানিস্তানের জন্যই শুধু নয়, বরং দুই দেশেরই স্বার্থের অনুকূলে. ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, কাবুলে যেন তালিবরা ক্ষমতায় না আসে – তাদের প্রত্যাবর্তনের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঐস্লামিক শক্তিদের সক্রিয়তা বাড়তে পারে. এর অর্থ হল যে, এই এলাকায় নতুন নিরাপত্তা বজায় রাখার ফর্মুলা দিল্লী ও কাবুলকে এবারে একসাথে খুঁজতে হবে.