রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ইউরোসঙ্ঘ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার বাস্তবায়ন শুরু করতে বেশি সময় নিচ্ছে. এ সমঝোতা অর্জিত হয়েছিল নভেম্বরের শেষে জেনেভায় ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থ “ছয় দেশের” – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, গ্রেট-বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সাথে আলাপ-আলোচনায়. অনুমান করা হচ্ছে যে, প্রথম পর্যায়ে ইরান ইউরেনিয়ামের পরিশোধন যথেষ্ট কমাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোসঙ্ঘের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ক্রমশ হ্রাস করার পরিবর্তে. দুঃখের বিষয়, এ পর্যায়ের বাস্তবায়ন শুরু করতে বেশি সময় নেওয়া হচ্ছে, জানান সের্গেই লাভরোভ –

   ইউরোসঙ্ঘ আমাদের জানিয়েছে যে, এ সব সমঝোতা ইউরোসঙ্ঘের সমস্ত সদস্য দেশের দ্বারা অনুমোদিত হওয়া উচিত্. এর জন্য নিকটতম সম্ভাবনা দেখা দেবে ১৬ই ডিসেম্বর. তবে, এমন লক্ষণ বিদ্যমান আছে যে, ইউরোসঙ্ঘ এবারে এ সব দলিল অনুমোদন করে উঠতে পারবে না, আর সবকিছু রেখে দেওয়া হবে জানুয়ারীর জন্য. তার অর্থ, প্রথম পর্যায় পুরণের ছয় মাসের গণনা এক মাসের জন্য মুলতুবি রাখা হচ্ছে. আমাদের তা উদ্বেগ জাগায়, এবং আমরা ইউরোসঙ্ঘে আমাদের সহকর্মীদের কাছ থেকে সঠিক ভাবে জেনে নিতে চাই কি সেই "অনতিক্রমণীয় বাধা", যার দরুণ, বাস্তবিকপক্ষে বহু সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে সেই সমঝোতার অনুমোদন, যাকে সকলে ঐতিহাসিক অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছিল.

   ইন্টারভিউতে সের্গেই লাভরোভ সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং “জেনেভা-২” সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ও স্পর্শ করেন, যে সম্মেলন আগামী বছরের গোড়ায় হওয়ার কথা. এ সম্মেলন আহ্বানের উদ্যোগ প্রকাশিত হয়েছিল মে মাসে, কিন্তু তা আয়োজনের সময় একাধিকবার স্থগিত রাখা হয়েছিল. এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য – আলাপ-আলোচনার টেবিলে সিরিয়া সঙ্ঘর্ষের সমস্ত অংশগ্রহণকারীকে সমবেত করা, যাতে প্রায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ বন্ধ করা যায়.

   ২০শে ডিসেম্বর জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী এবং, সের্গেই লাভরোভ আশা করেন যে, শেষ প্রস্তুতিমূলক সাক্ষাত্ হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ, আরব রাষ্ট্র লীগ ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের. –

   আমাদের জন্য রয়েছে শুধু একটি দিক-নির্দেশক – নিরাপত্তা পরিষদের ২১১৮ নম্বর সিদ্ধান্ত, যাতে সিরিয়ায় রাসায়নিক নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া অনুমোদিত হয়েছে. তা পূর্ণ গতিতে চলছে, এবং কোনো রকম গুরুতর ব্যাঘাত ঘটবে না. ঐ সিদ্ধান্তেই “জেনেভা-২” সম্মেলনের আহ্বান অনুমোদিত হয়েছে, এর উপর জোর দিয়ে যে, সংলাপে অংশগ্রহণ করা উচিত্ সিরিয়ার সমাজের সব মতের প্রতিনিধিদের. অতএব, এমন করা উচিত্, যাতে উপযুক্ত মানে গোটা বিরোধীপক্ষের প্রতিনিধিত্ব থাকে, কোনো একটি বিন্যাসের নয়, যার কর্মক্ষমতায় বহু প্রশ্ন জাগে.

   সের্গেই লাভরোভ ইউক্রেনের পরিস্থিতি সম্বন্ধেও মন্তব্য করেন, যেখানে প্রায় এক মাস ধরে বিরোধীপক্ষের সভা ও মিছিল চলছে. বিরোধীপক্ষ অসন্তুষ্ট এ বিষয়ে যে, ইউক্রেনের সরকার ইউরোসঙ্ঘের সাথে অ্যাসোশিয়েশন সম্বন্ধে চুক্তি স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছে. বিরোধীপক্ষকে এ বিষয়ে খোলাখুলি সমর্থন করছে বিশিষ্ট ইউরোপীয় ও মার্কিনী রাজনীতিজ্ঞরা.

   এ প্রসঙ্গে সের্গেই লাভরোভ রাশিয়া ও ইউরোপের স্থিতির পার্থক্যের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেন. রাশিয়া বলছে যে, সকলের শ্রদ্ধা করা উচিত ইউক্রেনের জনগণের নির্বাচনকে. ইউরোপীয়রা বলছে – ইউরোপের পক্ষে ইউক্রেনের নির্বাচন সকলে শ্রদ্ধা করতে বাধ্য. এ সবকিছু দুঃখের চিন্তাধারা জাগায়, জোর দিয়ে বলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী.

   “ইউক্রেনীয় প্রশ্ন” সের্গেই লাভরোভ ইউরোসঙ্ঘে নিজের সহকর্মীদের সাথে ১৬ই ডিসেম্বর আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন. ব্রাসেলসে রাশিয়া ও ইউরোসঙ্ঘের মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পর্যায়ে স্থায়ী শরিকানা পরিষদের বৈঠক হবে.