রথীন চট্টোপাধ্যায়. এই অনুষ্ঠানে আমরা উত্তর দিয়ে থাকি আমাদের কাছে পাঠানো রাশিয়া সম্পর্কে পাঠানো আগ্রহোদ্দীপক প্রশ্নাবলীর. আজ আমরা ব্যাঙ্গালোর থেকে পাঠানো রাজেন্দ্র কুমারের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিঃ রাশিয়ায় কতগুলো সংবাদসংস্থা আছে?

উত্তর দিচ্ছিঃ রাশিয়ার লেখকদের কোন উপন্যাস সবচেয়ে জনপ্রিয়, যে প্রশ্নটা আমাদের পাঠিয়েছেন উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বেরিলি থেকে আবিদ-আলি মনসুর . সুতরাং, এবার আসা যাক ব্যাঙ্গালোর থেকে রাজেন্দ্র কুমারের রাশিয়ার সংবাদসংস্থাগুলি সম্পর্কিত প্রশ্নে.

এই মুহুর্তে রাশিয়ায় হাজার খানেক সংস্থা আছে, যারা নিজেদের স্বাধীন সংবাদসংস্থা বলে প্রচার করে. সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত সবচেয়ে বড়মাপের সরকারি সংবাদসংস্থা ছিল – ‘ইতার-তাস’ এবং ‘রিয়া নোভোস্তি’ এবং বেসরকারি এজেন্সি – ‘ইন্টারফ্যাক্স’.

‘ইতার-তাস’ – এই শব্দটার মধ্যে দুটি আলাদা শব্দের মিলন ঘটেছে. ১৯০২ সালে তখনো জারের শাসনাধীন রাশিয়ায় ইনফরমেশন্যাল টেলিগ্রাফিক এজেন্সি অফ রাশিয়ার(ইতারের)প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল আর ১৯২৫ সালে সোভিয়েত আমলে তার সাথে যুক্ত হয়েছিল ‘তাস’ - টেলিগ্রাফ এজেন্সি অফ সোভিয়েতস্কি সয়ুজ.

রাশিয়ার ইনফর্মেশন এজেন্সি ‘রিয়া-নোভোস্তি’ এই দেশে ছিল বৃহত্তম গত কুড়ি বছর যাবত্, কিন্তু গত ৯ই ডিসেম্বর দেশের রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত আদেশনামা অনুযায়ী, ঐ এজেন্সি এবং তার সাথে আমাদের বিদেশে সম্প্রচারের রাষ্ট্র–পরিচালিত কোম্পানীকে উচ্ছেদ করে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে অন্য রাষ্ট্র-পরিচালিত প্রতিষ্ঠান – ‘রাশিয়া ট্যুডে’র হাতে ১লা জানুয়ারী থেকে.

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্টারফ্যাক্সের পত্তণ করা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে. ওটা বর্তমানে ১৫টা কোম্পানীর শিখন্ডী এবং শেয়ার মার্কেটে সরকারি প্রতিনিধিত্বকারী কোম্পানী.

ইন্টার ফ্যাক্সের নিজস্ব শাখাও আছে, যেমনঃ ইন্টারফ্যাক্স-আমেরিকা, ইন্টারফ্যাক্স-ইউরোপ, ইন্টারফ্যাক্স-জার্মানী – যারা আমাদের দেশের চটজলদি খবর সরাসরি বিদেশে সম্প্রচার করে.

‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ অনুষ্ঠানটি শুনছেন আপনারা. এবার আসি বেরিলি থেকে আবিদ-আলি মনসুরের পাঠানো প্রশ্নের উত্তরে – রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক কে ?

উনবিংশ শতাব্দীতে এবং বিংশ শতকের শুরুতেও সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস ছিল লেভ তলস্তোয় লিখিত ‘ওয়ার এ্যান্ড পীস’ ও ‘আন্না কারেনিনা’ এবং অবশ্যই ফেওদর দস্তয়েভস্কির উপন্যাস ‘ক্রাইম এ্যান্ড পানিশমেন্ট’.

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে মিখাইল শোলোখভের লেখা উপন্যাস – ‘ধীরে বহে দন’(Quite flows the Don) খুব খ্যাতি অর্জন করেছিল. ঐ উপন্যাসটির জন্য মিখাইল শোলোখভ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন.

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস হচ্ছে মিখাইল বুলগাকভের লেখা উপন্যাস – ‘মাস্টার ও মার্গারিতা’. এই উপন্যাসটিকে সাধারণতঃ তীব্র কৌতূহলী ফ্যাস্টাজি হিসাবে ধরা হলেও, ওখানে আছে তত্কালীন সোভিয়েত জীবনের বাস্তবতা নিয়ে খোলাখুলি বিদ্রুপ, আছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা.

এখন এই উপন্যাসটি রাশিয়ার সব মাধ্যমিক স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য. বিভিন্ন বয়সের পাঠকরা বিভিন্নভাবে এই উপন্যাসটির রসাস্বাদন করে, কিন্তু কেউ এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে নির্লিপ্ত থাকতে পারে না, বিশেষতঃ, উপন্যাসের দুই মুখ্য চরিত্র – মাস্টার ও মার্গারিতার ভাগ্যের ট্র্যাজিক পরিণতি পাঠকের হৃদয় মুচড়ে দেয়. থাক, ওসব প্রসঙ্গ. বরং এবার আমাদের আজকের অনুষ্ঠান শেষ করার আগে প্রথামাফিক একটা গান শোনানো যাক আপনাদের.

‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ অনুষ্ঠানটি এবারের মতো এখানেই শেষ করছি. শুভেচ্ছা জানাই.

ভালো থাকবেন.