এই প্রকল্পের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ সের্গেই কনদ্রাতিয়েভ মন্তব্য করে বলেছেন:

“এই ধরনের জোট সেই বিষয়েই সহায়তা করবে যে, ভবিষ্যতে কম সংখ্যক বিদ্যুত উত্পাদন কেন্দ্রের প্রয়োজন হবে নানা রকমের অভূতপূর্ব বিপর্যয় পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার জন্য সঞ্চয় তৈরী করার জন্যে. এই প্রকল্প অবশ্যই ব্যবস্থা করে দেবে বিদ্যুত শক্তির জন্য খরচ কমাতে, আর এই সমস্ত দেশের গ্রাহকরা পাবেন ভরসা যোগ্য সরবরাহ”.

CASA-1000 প্রকল্পে দেখা গিয়েছে যে, বিদ্যুত শক্তি হাই ভোল্টেজ লাইন ব্যবহার করে হাজার কিলোমিটারেরও বেশী দূরে পাঠাতে হবে. নিজেদের বাড়তি বিদ্যুত তাজিকিস্থান ও কিরগিজিয়া থেকে গ্রীষ্মকালে ১৫ বছর ধরে পাঠানো সম্ভব হবে. এই প্রকল্পের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সূচক সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরী হয়ে গিয়েছে. এখন দেখা হচ্ছে কারা এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে. প্রথমে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা ঘোষণা করেছিল বিশ্ব ব্যাঙ্ক ও ঐস্লামিক উন্নয়ন ব্যাঙ্ক. তারপরে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রাশিয়া. তারা দিতে চেয়েছে প্রায় পঞ্চাশ কোটি ডলার. আমাদের দেশের এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে, এই কথা ব্যাখ্যা করে “ইনভেস্টকাফে” নামের তথ্য-বিশ্লেষণ সংস্থার বিশ্লেষক ইকাতেরিনা শিশকো বলেছেন:

“তাজিকিস্তানের এলাকায় রয়েছে সাঙ্গতুদিন জলবিদ্যুত কেন্দ্র- ১. এই কেন্দ্র, যার শতকরা ৮০ ভাগ রাশিয়ার এফএসকে- ইয়েএস ও ইন্টাররাও কোম্পানীর মালিকানার অংশ. আফগানিস্তান ও পাকিস্তান রাশিয়ার জন্য – স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ. সেখানে সম্ভাবনা রয়েছে পরে ভারতে সরবরাহ করারও. সেখানে রাশিয়ার জন্য রয়েছে নানা রকমের আগ্রহ উদ্দীপক শক্তি সংক্রান্ত প্রকল্প”.

এখানে বলা যেতে পারে না যে, CASA-1000 প্রকল্পের জন্য প্রস্তুতি সহজেই চলছে. কিরগিজিয়ার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রচুর সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে. তারা বলেছে যে, তাদের নিজেদেরই যথেষ্ট বেশী পরিমানে বিদ্যুত শক্তি নেই, সুতরাং বাইরে বিক্রী করার কথাই ওঠে না. উজবেকিস্তানও এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে. তাসখন্দের মূল্যায়ণ অনুযায়ী এই প্রকল্প এলাকার বর্তমানে থাকা বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে.

এখানে সমাধান না হওয়া অবস্থায় রয়ে যাচ্ছে আরও একটি গুরুতর সমস্যা, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে জ্বালানী শক্তি ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ সের্গেই কনদ্রাতিয়েভ বলেছেন:

“সবচেয়ে মুখ্য সমস্যার একটি হল- এটা এই ব্যবস্থা তৈরী করা ও তার ব্যবহারের সময়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার সমস্যা. তার ওপরে আবার এটা খুবই স্পষ্ট, কারণ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ও এমনকি তাজিকিস্তানেও পরিস্থিতি মোটেও শান্ত নয়. এটা এই প্রকল্পের রূপায়নের জন্য একটা বিরাট সমস্যা”.

তা স্বত্ত্বেও এই প্রকল্পের অংশীদাররা আশা করেছেন যে, ঐক্যবদ্ধ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিদ্যুত সরবরাহ প্রকল্প চালু হবে. এই প্রকল্পের ইতিবাচক দিকগুলো নেতিবাচক দিকগুলোর থেকে অবশ্যই অনেক বেশী. ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে, পাকিস্তানে ও তাজিকিস্তানে টেন্ডার ডাকা হয়েছে হাই ভোল্টেজ থেকে কমানোর জন্য ট্রান্সফর্মার কেন্দ্র তৈরী করার. CASA-1000 প্রকল্পের নির্মাণ চালু হওয়া পরিকল্পনা করা হয়েছে আগামী বছরের মাঝামাঝি আর তা চালু অবস্থায় হস্তান্তর করার কথা ২০১৭ সালে.