অলিম্পিকের প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা হবে রেলগাড়ী ও লোকাল ট্রেন. রেল পথেই মাত্র আধ ঘন্টায় কৃষ্ণসাগরের তীর দিয়ে শহরের কেন্দ্র থেকে সমুদ্র তীরের কাছে অলিম্পিকের জায়গায় পৌঁছনো যাবে. ক্রাসনায়া পলিয়ানা অবধি পথ যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টা. নতুন রাস্তা, যা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে পাক খেয়ে না গিয়ে পাহাড়ের ভেতর দিয়েই গিয়েছে, তা তৈরী করা হয়েছে বিশেষ করে অলিম্পিকের জন্যই. প্রতিযোগিতায় যারা টিকিট কিনেছেন, তাদের জন্য সেই দিনে রেলপথ ব্যবহারের মূল্য হবে শূণ্য, অর্থাত্ বিনা ভাড়ায়. বাকীদের জন্য একদিকে যাওয়ার খরচ ডলারে হিসাবে করলে হবে প্রায় আধ ডলার. কিন্তু খেলার জায়গায় পৌঁছনোর আরও পথ রয়েছে, এই কথা ব্যাখ্যা করে সোচী শহরের মেয়র দপ্তরের প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ বাউয়ের বলেছেন:

“যদি রেলপথে খুব ভীড় হয়, তবে দর্শকরা বাসে করেও যেতে পারেন. এই ভাবে সোচীর অলিম্পিক পার্কে শহরের কেন্দ্র থেকে পৌঁছনো যাবে, তারপরে যেতে হবে পায়ে হেঁটে নির্দিষ্ট ষ্টেডিয়ামে”.

খেলোয়াড় ও অতিথিদের রাস্তায় জ্যাম ও দেরী হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য রাস্তার আলাদা জায়গায় বিশেষ ধরনের অলিম্পিকে যাওয়ার লেন তৈরী করা হচ্ছে. যারা এই অলিম্পিকের রাস্তা দিয়ে আইন না মেনে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের প্রায় ২০০ ডলারের সমান জরিমানা দিতে হতে পারে. এই সমস্ত ব্যবস্থাই করা হয়েছে যাতে রাস্তায় হঠাত্ করে কোন রকমের সমস্যা না হয়, এই রকম একটা ভরসা নিয়ে অলিম্পিকের পরিবহন নিয়ন্ত্রক দপ্তরের জেনারেল ডিরেক্টর আন্দ্রেই ঝুকভ বলেছেন:

“রাস্তায় যাতায়াতের জন্য একটা সম্মিলিত ব্যবস্থা তৈরী করা হচ্ছে. এই ব্যবস্থাতে অলিম্পিকের জন্য আলাদা লেন ছাড়াও, রাস্তায় নানা ধরনের পথ নির্দেশ থাকবে আর ভিডিও ক্যামেরা, সেন্সর লাগানো হচ্ছে, যাতে এমন কি আবহাওয়ার পরিস্থিতিও দেখতে পাওয়া যাবে. যদি কোন রকমের পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, আমরা রাস্তার গাড়ীর প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করব. আমাদের চালকরা এই পরিস্থিতির জন্য তৈরী থাকবেন”.

অলিম্পিকের সরকারি সাইটে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের যাত্রাপথ ইতিমধ্যেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. আগে থেকেই শহরের মধ্যে ও অলিম্পিকের নানা জায়গার মধ্যে নিজেদের যাতায়াত নিয়ে পরিকল্পনা করে ফেলা যেতে পারে. জায়গা অনুযায়ী দিক ঠিক করার জন্য বহু সংখ্যক মানচিত্র থাকছে, আর থাকছে নানা রকমের ড্রইং ও রুটিন, যা এখানে প্রত্যেক বাসস্টপ ও স্টেশনেই রয়েছে. তাছাড়া থাকছে অনেক স্বেচ্ছাসেবক, যারা এই শহরে সমস্ত যান চলাচলের রাস্তা ও জায়গা চেনে, আর তাদের জিজ্ঞাসা করলেই হবে.