“তেরঙ্গা পতাকা বহুদিন ধরেই রাশিয়ার জাতীয় পতাকা ছিল. এই একই পতাকা ছিল ১৯১৭ সালের রাজতন্ত্র বিরোধী বিপ্লবের প্রতীক. অনেকটা এই কারণেই ঠিক করা হয়েছিল এটাকেই আবার জাতীয় পতাকা করার. সেই পতাকা, যা তখন রাশিয়ার ছিল সোভিয়েত দেশের একটি প্রজাতন্ত্র হিসাবে, তাকে নেওয়া হয় নি সেই কারণে যে, সেটা সোভিয়েত পতাকারই একটা রূপ ছিল. তাই ঠিক করা হয়েছিল পুরনো রাশিয়ার পতাকাকেই ফিরিয়ে আনা”.

সাদা-নীল-লাল পতাকার ইতিহাস প্রায় তিনশ বছরেরও বেশী. মনে করা হয় যে, তা প্রথম আবির্ভূত হয়েছিল ১৬৬৭ সালে জার আলেক্সেই এর সময়ে. আর ১৭০৫ সালে আলেক্সেই এর পুত্র রাশিয়ার সম্রাট পিওতর প্রথমের রাজত্বকালে, তেরঙ্গা পতাকা দেওয়া হয়েছিল রাশিয়ার সমস্ত বাণিজ্য তরণীকে. আজ বহু রকমের ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে যে, কেন এই রঙগুলোকেই বাছা হয়েছিল. একটি ধারণা অনুযায়ী সাদা, নীল ও লাল নির্দেশ করত আভিজাত্য, আনুগত্য ও বীরত্বের ধারণাকেই.

রাশিয়ার তেরঙ্গার ইতিহাসে ভুলে যাওয়ার সময়ও ছিল, এই কথা মনে করে দিয়েছেন হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের ফলিত রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের রীডার কনস্তানতিন ত্রুয়েভ্তসেভ বলেছেন:

“ফরাসী বিপ্লবের পরে (অষ্টাদশ শতকের শেষ) রাশিয়ার তেরঙ্গা সেই ভিত্তিতে পাল্টানো হয়েছিল যে, তা ফরাসী বিপ্লবের নতুন পতাকার সঙ্গে রঙে মেলে. এই সময়ে অন্য প্রতীক নেওয়া হয়েছিল. কিন্তু উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে তেরঙ্গা আবার ধীরে ফিরে আসতে শুরু করেছিল জাতীয় প্রতীক হিসাবেই”.

আরও একবার তেরঙ্গা পতাকাকে ভুলতে চাওয়া হয়েছিল আবার বিংশ শতাব্দীতে. বৈপ্লবিক পুনর্গঠনের পরে ১৯১৮ সালে নতুন প্রশাসন ঠিক করেছিল সমস্ত কিছু থেকেই আলাদা হতে, যা রাশিয়ার জারদের রাজত্বের সময়ে মনে করিয়ে দিতে পারত.

আবার রাশিয়ার তেরঙ্গা স্মরণ করা হয়েছিল ১৯৯১ সালের আগষ্ট মাসে. সোভিয়েত দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিখাইল গরবাচভকে সরানোর চেষ্টা করার সময়ে ও তাঁর রাজনীতিকে বদল করার চেষ্টা করা হলে, মিছিলের লোকরা কংগ্রেস হাউসের উপরে, যা এখন রাশিয়ার মন্ত্রীসভা ভবন হয়েছে, সেখানে রাশিয়ার তেরঙ্গা পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছিল. সেই পতাকা ফিরে আসা হয়েছিল এক রকমের গণতন্ত্রের পথে প্রত্যাবর্তন, এই রকমই মনে করে কনস্তানতিন ত্রুয়েভ্তসেভ আবার বলেছেন:

“তেরঙ্গা পতাকা স্থির করার প্রক্রিয়া একই ধরনের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান তৈরী করার সঙ্গেই যোগ হয়েছিল. গণতন্ত্র – এটা প্রাথমিক ভাবে দেশের সংবিধান গ্রহণ ও দুটি কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রতিষ্ঠা. তাই এই পতাকা সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খেয়েছিল, যা রাশিয়াতে হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে”.

১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে নতুন এক রাষ্ট্রীয় উত্সব স্থির করা হয়েছিল – রুশ প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা দিবস. তা পালন করা হয়ে থাকে ২২শে আগষ্ট.

চলে যাওয়া বছরে, প্রসঙ্গতঃ, রাশিয়ার পতাকা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা পেয়েছে. জুলাই মাসে ভ্লাদিভস্তকের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা এক বিশাল অনুষ্ঠান করেছিল. তারা এক সেতুর উপরে তিনটি সারিতে দশ হাজার করে মানুষ সাদা, নীল ও লাল রঙের কাপড় নিয়ে হাতে করে দাঁড়িয়েছিল. গিনেস বুকে এই তেরঙ্গা পতাকাকে বলা হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় “জীবন্ত” পতাকা.