আজ পাকিস্তানের ও বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম ইফতিকার চৌধুরীর দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালতের শীর্ষ স্থানে থাকার সাফল্যের কথাই উল্লেখ করেছে. তার মধ্যে রয়েছে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবের থেকে বাঁচিয়ে রাখা ও সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে চাপের থেকে আগলে রাখা, আর মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত কাজ করা আর অংশতঃ, সেই রকমের সমস্যা সঙ্কুল প্রদেশ, যেমন বেলুচিস্তানে সেই কাজ করা এবং দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করা ইত্যাদি আরও অনেক কিছু.

এখানে জনাব চৌধুরীর ব্যক্তিগত ভাগ্যের নানা অধ্যায়ের কথা মনে করা হচ্ছে: সেই ঘটনা কি করে ২০০৭ সালের মার্চ মাসে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ পদচ্যুত করেছিলেন, আর সেটাও যে, তার পরে কি হয়েছিল: এক প্রবল বিরোধের চাপে পড়ে নিজের পদেই প্রত্যাবর্তন ও শেষমেষ, সেই মুশারফেরই ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে পদত্যাগ.

সর্ব্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির সক্রিয়তা তাঁর প্রধান বিরোধীর রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার পরেই মোটেও কমার দিকে যায় নি: রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির রাষ্ট্রপতিত্বের বছরগুলোতে সেই বিচার প্রশাসনের উদ্যোগেই চেষ্টা করা হয়েছিল জারদারির বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলোকে আবার করে পুনরুজ্জীবিত করার. তিনি অবশ্য নিজের পদে সংবিধান সম্মত মেয়াদ পর্যন্তই থেকে যেতে পেরেছিলেন, কিন্তু শুধু সেই কারণেই যে, কিছু মন্ত্রী ও এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানিকে বলি দিয়ে তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন. তাই রুশ স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রসঙ্গতঃ, বোধহয়, যখন সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে ইফতিকার চৌধুরীর সভাপতিত্বের বছরগুলোতে দেশের বিচার ব্যবস্থায় স্বাধীনতার বৃদ্ধি হয়েছে, তখন আসলে তারা কিছুটা কমিয়েই দেখে থাকে এই সময়ে কি হয়েছে, সেই ব্যাপারকে. এখানে বরং বলা যেতে পারে যে, আদালত বেশী স্বাধীন হয় নি, বরং পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জীবনের অনেক বড় অংশ আরও বেশী করেই বিচার প্রশাসনের অধীনস্থ হয়েছিল”.

আর এই বিষয়ে কৃতিত্ব শুধু ইফতিকার চৌধুরীর নয়, এই রকম মনে করেন বরিস ভলখোনস্কি. বলা যেতে পারে, খুব কম করে নয়, হতে পারে বেশী করেই এই প্রক্রিয়াতে সামরিক বাহিনীর সেই অবস্থানই কাজ করেছে, যা এই সমস্ত বছর ধরেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আশফাক কায়ানি নিয়েছেন. তাঁর সময়ে সামরিক বাহিনী খুব চেষ্টা করেই সরাসরি রাজনীতির বাইরে থেকেছে, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও দেশের সংবিধান ও অখণ্ডতার একমাত্র গ্যারান্টি হয়েই রয়েছে.

এই ভাবেই সমস্ত ইতিহাসের জন্য পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী অসামরিক সরকারের পরিবর্তে মাঝেমাঝেই সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের ধারা নষ্ট হয়েছে, যারা সবসময়েই অভ্যুত্থানের পথে ক্ষমতায় এসেছিল, তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“কিন্তু সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিজেদের সরাসরি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে সরিয়ে নেওয়া মোটেও নিজের থেকে দেশের অসামরিক প্রশাসনের ক্ষমতার গ্যারান্টি হতে পারে নি. অন্ততপক্ষে এটা এর আগের আসিফ আলি জারদারির নেতৃত্বে থাকা প্রশাসনের পক্ষে বলা যেতে পারে একদম ঠিক. আর সেই খালি থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর জায়গাই নিয়ে রেখেছিল পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতি বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভ্যুত্থানের চেয়ে বেশী করেই গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতির সঙ্গে মেলে. কিন্তু আবার বিচার সংক্রান্ত প্রশাসনের তরফ থেকে খুবই বেশী করে রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ, যা করা হয়েছে মুশারফ ও জারদারির সময়ে, তা মোটেও দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মজবুত থাকা সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেয় না.

সুতরাং প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও নব নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি তাস্সাদিক গিলানিকে এখনও অনেক কাজই করতে হবে.