“চাক হেগেলের ইসলামাবাদ সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ঐতিহ্য মেনে আরও একবার দরাদরি করার সম্মেলন হয়েছে, যা করার সময়ে প্রত্যেক পক্ষই চেষ্টা করেছে নিজেদের জন্য সবচেয়ে বেশী লাভ করার ও তার মধ্যেই নিজেদের জন্য সবচেয়ে কম ছাড় দেওয়া ও ক্ষতি স্বীকার করার. তাই যে রকম আশা করা উচিত্ ছিল, তেমন করেই প্রত্যেক পক্ষ বলেছে, তাদের জন্য কি বেদনাদায়ক. নওয়াজ শরীফ আবার করে পাকিস্তানের এলাকায় ড্রোন বিমান হামলা চালু থাকা সংক্রান্ত প্রশ্নকে একেবারে তীক্ষ্ণ করেই উত্থাপন করেছেন, যা দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করেছে ও বাস্তবে তালিবদের সঙ্গে নতুন প্রশাসনের শুরু করা শান্তি আলোচনাকে নষ্টই করে দিয়েছে”.

নিজের পক্ষ থেকে চাক হেগেল, সারাক্ষণই জোর দিয়ে বলতে চেয়েছেন যে, মুখ্য হল – ড্রোন বিমান দিয়ে হামলা করা নয়, বরং আফগানিস্তানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর জন্য পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে রসদ আনা নেওয়ার সমস্যার ভাগ্য. পেন্টাগনের প্রধান ইসলামাবাদকে ইঙ্গিত করেছেন যে, যদি কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক নেতাদের উপরে প্রভাব ফেলতে না পারে, যারা ন্যাটো জোটের গাড়ীর সারির উপরে হামলার হুমকি দিচ্ছে, তবে এই দেশে আমেরিকা থেকে বহু লক্ষ ডলার সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা হতে পারে.

কিন্তু ড্রোন বিমান দিয়ে করা হামলাই আবার দুই দেশের সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হওয়ার কারণ হয়েছে. ইসলামাবাদে চাক হেগেলের সফরের ঠিক এক মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বিমানের আঘাতে পাকিস্তানের তালিবদের নেতা হাকিমুল্লা মেহসুদ নিহত হয়েছে. এটা ইসলামাবাদের জন্য একেবারেই আচমকা কাজ হয়েছে, আর তার ফলে জাতীয় শান্তি প্রস্তাবের পরিকল্পনাকে হুমকির সামনে উপস্থিত করেছে, যার উপরে নওয়াজ শরীফ বাজী ধরেছিলেন.

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে, সন্ত্রাসবাদ কম হোক. তাই আমাদের কাজ হবে – খাইবার পাখতুনভা প্রদেশ দিয়ে ন্যাটো জোটের জন্য মালপত্রের ট্রানজিট বন্ধ করে দেওয়া” – আঞ্চলিক বিধানসভার স্পীকার আসাদ কাইসার এই রকমের এক ঘোষণা করেছেন. আর এই প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল “তেহরিক –এ-ইনসাফের” নেতা ইমরান খান ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা ন্যাটো জোটের ক্যারাভান আটক করবেন, যা পাকিস্তানের আফগান সীমান্ত এলাকা দিয়ে গিয়ে থাকে.

রাষ্ট্রপতি নওয়াজ শরীফের সময়ে দুই বছর আগে এর আগের পাকিস্তানের নেতৃত্ব ন্যাটো জোটের ট্রানজিট বন্ধ করে দিয়েছিল সেই ড্রোন বিমান হামলার পরে, যাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকরা নিহত হয়েছিল. শুধু অনেকদিন ধরে চলার পরে এই উত্তেজনা কমার পরে মনে হয়েছিল যে, ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটন একে অপরের প্রতি ভরসা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে, আর ট্রানজিট নতুন করে শুরু হয়েছিল. কিন্তু বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রানজিটের সমস্যা খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে. আফগানিস্তানে থাকা জোট শক্তির জন্য মাল নিয়ে যাওয়া ক্যারাভান এবারে হামলার মুখে পড়তেই পারে, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব এবারে পাকিস্তানের পথে মাল পাঠানো বন্ধ করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“প্রসঙ্গতঃ, এই ট্রানজিটের পথ দিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া মোটেও পেন্টাগনের পরিকল্পনার মধ্যে পড়ে না, তার ওপরে আবার আগামী মাসগুলোতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সবচেয়ে বড় অধ্যায় সামনে আসতে চলেছে, এই কথা মনে করলে, তাই খুব একটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, পেন্টাগনের প্রধান ইসলামাবাদ উড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ও আরও একবার ট্রানজিট নিয়ে বিশ্রী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন”.

যদিও চাক হেগেলকে ইসলামাবাদে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানের ট্রানজিট কোন রকমের বাধা ছাড়াই নিয়মিত হবে, তবুও আমেরিকার জেনারেলদের সব রকমের ভিত্তিই রয়েছে এই নিয়ে সন্দেহ করার. কারণ পেন্টাগন চায় না ড্রোন বিমান দিয়ে আঘাত হানা বন্ধ করতে. আর তার মানে হল যে, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে কোন মুহূর্তে নতুন করে সঙ্কট উদ্ভব হতে পারে, যার প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই ট্রানজিট সংক্রান্ত চুক্তিই.