এই সম্মেলনের প্রধান প্রবন্ধকার হয়েছেন রাশিয়ার মুফতি সভার সভাপতি শেখ রাভিল গাইনুতদিন. বৃহত্তম কেন্দ্রীয় মুসলমান সংস্থার উদ্যোগে, যে সংস্থার তিনি প্রধান, মুসলমানদের অধিবেশন মস্কো শহরে প্রত্যেক বছরেই করা হয়ে থাকে. বর্তমানের অধিবেশন – ইতিমধ্যেই হিসাব অনুযায়ী দশমবার হয়েছে, এখানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন:

“এই সম্মেলনের দুটি মুখ্য আলোচ্য বিষয় – মুসলিম যুব সমাজের দেশ প্রেমিক শিক্ষা ও রাশিয়ার ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোর পুনরুজ্জীবন – যা একে অপরের সঙ্গেই খুব ওতপ্রোত ভাবেই জড়িত. এখানে সংযুক্ত করার মত অংশ হতে পারে বর্তমানে বড় হয়ে ওঠা প্রজন্ম – যুব সমাজ. আজ নবীন সমাজের জন্য বিবেক সঙ্গত ও বাস্তব বিনিয়োগ করা হলে, আমরা আমাদের সমাজের উন্নয়নের ভবিষ্যত দিক নির্দেশ করতে সক্ষম হবো. আমি মনে করি যে, দেশের ধর্মীয় নেতাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে যুব সমাজের সঙ্গে একই ভাষা খুঁজে পাওয়া, যাতে তাদের পক্ষে গুণমান সম্পন্ন শিক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়, তাদের শক্তি, যাতে সৃষ্টির কাজে যুক্ত হয়. আজ অনেক লোক রয়েছে, যারা আমাদের সমাজকে জাতীয় ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করে ভেঙে দিতে চাইছে, প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের জনগনকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে চাইছে. যতক্ষণ আমরা একসাথে থাকবো, আমরা যে কোন রকমের প্ররোচনাকে ঠেকিয়ে দিতে পারবো”.

রাশিয়াতে সরকারি ভাবে মুসলিম ধর্ম পালন করা লোকের সংখ্যা দুই কোটির বেশী. বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশী, কারণ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো থেকে ক্রমাগত অভিবাসীরা এসে পৌঁছাচ্ছেন, বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার মুসলিম ধর্ম প্রধান প্রজাতন্ত্রগুলো থেকেই.

যেমন পশ্চিম সাইবেরিয়ার এক বৃহত্তম কেন্দ্র ওমস্ক শহরে – ২ লক্ষ মুসলমানের মধ্যে একের চতুর্থাংশ – এরা অল্প কিছুদিন আগেই কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্থান থেকে আসা লোক.

তাদের রাশিয়ার বাস্তব জীবনে কি করে মানিয়ে নিতে হবে – এই নিয়েই সম্মেলনে কথা হয়েছে. রাশিয়ার এশিয়া অংশের মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নাফিগুল্লা-হজরত আশিরভ আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন:

“পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি! প্রথমতঃ, এখানে উল্লেখ করা দরকার যে কিরগিজিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে মুসলমানদের স্রোত, যা আজ রাশিয়াতে এসে উপস্থিত হচ্ছে, তা আমাদের সমাজে এক সারি নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে. তাই এই দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান একটি কাঠামো হিসাবে, যারা রাশিয়ার উম্মার ঐক্য সম্বন্ধে যত্নবান, তারা এই সমস্ত অভিবাসী মানুষদের এখানে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে. রাশিয়াতে অন্য দেশ থেকে মুসলমানরা এসে প্রথমে কোথায় যায়? মসজিদে. আর যদি সেখানে দেখতে পায় যে, মসজিদে তার সম্বন্ধে মনোযোগ দিয়ে, যত্ন নিয়ে দেখা হচ্ছে, তাহলে তারা আর সেই পথে নামে না, যা রুশ প্রজাতন্ত্রের আইন ভঙ্গের দিকে নিয়ে যায়. তারা কোন রকমের অপরাধী গোষ্ঠীতে গিয়ে যোগ দেয় না.

এমন হয় যে, রাশিয়ার মুসলমানেরা যারা উত্তর ককেশাসের রাজ্যগুলো থেকে মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরে এসে উপস্থিত হয়, তারা প্রথমেই নতুন বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না. আর সেখানেই তাদের সহায়তা করার জন্য মসজিদের ইমামদের এগিয়ে আসা দরকার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও, নতুন আসা লোকদের এখানের উপযুক্ত আচার ব্যবহার শেখানো দরকার. কারণ আমি মনে করি বর্তমানের সম্মেলন আমাদের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা এক ধরনের কাজের পরিকল্পনা আমাদের করতে সাহায্য করছে”.

এই মুসলমানদের সম্মেলনকে একটি সংজ্ঞাবহ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন মুরাদ জিয়াজিকভ, বর্তমানে – কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় এলাকায় রুশ রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধির ডেপুটি ও আগে যিনি ছয় বছর ধরে ককেশাস এলাকার ইঙ্গুশেতিয়া রাজ্যের রাজ্যপাল ছিলেন, তিনি বলেছেন:

“আমরা সব সময়েই বিশেষ করে উল্লেখ করেছি যে, রাশিয়া – বহু প্রজাতির, বহু ধর্মের ও নানা রকমের সংস্কৃতির দেশ. আর বর্তমানের অধিবেশনের মতো এই ধরনের অনুষ্ঠান – এটা সংজ্ঞাবহ ঘটনা. এখানে গুরুত্বপূর্ণ যে, এই সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ও কট্টরপন্থীদের মোকাবিলা করা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে. সন্ত্রাসবাদ – আমাদের সকলের বেদনার উত্স ও সকলেরই খেয়াল করার মতো ব্যাপার – তা যেমন রাষ্ট্রের, সমাজের তেমনই ধর্মীয় নেতাদেরও. আর ইসলামে সুস্থ শক্তির স্বর শোনা যাওয়া উচিত্ ও তার অর্থ থাকা দরকার”.

এই কাজের দিকেই লক্ষ্য দিয়েছেন নবম মস্কো মুসলমান অধিবেশনের প্রতিনিধিরা. এটা এমন এক সম্মেলন, যা রাশিয়ার মুসলমান সংস্থাগুলোর জন্য আগামী বছরের কাজ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে.