এই বছরে কৃষকদের জন্য আবহাওয়া ভালই ছিল. গম, পশু খাদ্য, চাল গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য রকম ভাবেই বেশী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে. আর সবচেয়ে ভাল সূচক দেখাতে পেরেছে ভুট্টা উত্পাদকরা, বিশেষ করে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনে. এখানে শুধু ভাল আবহাওয়াই কারণ হয় নি, বরং কৃষি বিশারদদের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বাজারের চাহিদা বুঝে নিয়ে চাষের জমি বাড়ানোও কারণ হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার দানাশষ্য জোটের সভাপতি আর্কাদি জ্লোচেভস্কি বলেছেন:

“বিশ্বের ফসলের সূচকে বৃদ্ধি প্রাথমিক ভাবে হয়েছে ভুট্টার চাষ বেশী করে হওয়াতে. তার চাহিদা গত মরসুমেও অনেক বেড়েছিল কিন্তু যথেষ্ট রকম ভাবে তা মেটানো যায় নি. এখন থাকা চাহিদা বুঝে উত্পাদন করা হয়েছে, চাষের জমি বাড়ানো হয়েছে, আবহাওয়া এতে সহায়তা করেছে. তাই রেকর্ড পরিমাণে ফসল তোলা সম্ভব হয়েছে”.

কিন্তু সব কিছু স্বত্ত্বেও বিশ্বে বুভুক্ষু লোকদের সংখ্যা কমছে না. বরং এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে এই সমস্যা আরও তীক্ষ্ণই হচ্ছে, কোথাও, যেমন ফিলিপাইনসে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে. কিন্তু খাবার জিনিষের অভাব ব্যাখ্যা করা যেতে পারে শুধু মানুষের কম আয়ের জন্যই, এই কথা উল্লেখ করে কৃষিজাত পণ্যের বাজার নিয়ে “সোভএকন” নামের বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্দ্রেই সিজভ বলেছেন:

“পুরো খেতে না পাওয়া – আর বিশ্বে এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মূল্যায়ণ অনুযায়ী প্রায় একশ কোটি মানুষ খেতে পাচ্ছেন না – এটা শুধু দানাশষ্যের অভাবের কারণেই হচ্ছে না. এটা মূলতঃ জনগনের কম আয়ের প্রশ্ন. মোটামুটিভাবে বলা যেতে পারে যে, লোকের কাছে যথেষ্ট অর্থ নেই, তাই তারা খাবার কিনতে পারছে না, তাই বুভুক্ষু হয়েই থাকছে. একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোতে খাবারের অনেক অংশই – প্রায় তিরিশ-চল্লিশ ভাগ স্রেফ জঞ্জালে ফেলে দেওয়া হচ্ছে”.

আর এটা আবার সেই সময়ে, যখন বিশ্বের খাদ্যের বাজারে যথেষ্ট কম দামেই খাবার পাওয়া যাচ্ছে. কৃষি পণ্যের অংশ - এমনকি এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম দামের, অন্তত উত্পাদকরা সেই রকমই মনে করেছেন. তাই আগামীতে – অবশ্যম্ভাবী ভাবেই খাবার ও অংশতঃ দানাশষ্যের দাম বাড়বে – এই রকম বিশ্বাস নিয়ে কৃষি সংক্রান্ত বাজারের বিশ্লেষক আন্দ্রেই সিজভ বলেছেন:

“যদি দানাশষ্যের দাম নিয়ে বলতে হয়, তবে এখন তা রয়েছে গত কয়েক বছরের সূচকের চেয়ে যথেষ্ট নীচে. ভুট্টার ক্ষেত্রে তা একেবারেই পড়ে গিয়েছে বলা যেতে পারে: গত মাসে বিশ্বে ভুট্টার দাম কমেছে দেড়গুণ. কিন্তু সব মিলিয়ে আমার মতে কম দামের যুগ শেষ হয়েছে. উত্পাদকদের বেশী দাম চাই স্রেফ সেই কারণেই যে, যাতে বিনিয়োগ ও কৃষি প্রযুক্তির জন্য অর্থের যোগান দেওয়া সম্ভব হয়, যাতে চাষের জমি বাড়ানো যেতে পারে ও শষ্যের পরিমাণ বাড়ানো যায়, যাতে পৃথিবী ভবিষ্যতে নিজেদের খাবারের যোগান দিতে সক্ষম হয়”.

বিশেষজ্ঞদের তরফ থেকে উত্তরের গোলার্ধে চাষ হওয়া শীতে বোনা গমের ফসল তোলার পূর্বাভাস আশাব্যঞ্জক. তারই সঙ্গে বাজারের অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কার প্রয়োজন নেই, কারণ বাড়তি ফসল কারো কাছেই নেই – বুভুক্ষু বিশ্বে খাবার বাড়তি নয়. তাই বরং উল্টো টের পাওয়া যাচ্ছে এরই খামতি. কিছু সংখ্যক ক্ষুধার্ত মানুষকে আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সহায়তা দেওয়া হবে, সেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্থাই দেবে. কিন্তু বুভুক্ষার সমস্যা সমাধান করার দায়িত্বের মূল অংশ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের উপরেই নির্ভর করে. ঠিক এই সমস্যাই আজকের দিনের অন্যান্য আলোচ্যের মধ্যে শীর্ষে থাকা দরকার.