রাশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ ইরানের আজ পাঁচ শতকের বেশী সময় ধরে চলছে. দুই দেশের ইতিহাসে নানা রকমের সময় এসেছিল: তা যেমন, নেতিবাচক, তেমনই ইতিবাচক. আজ এই সম্পর্কের এক শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে. ঐস্লামিক বিপ্লবের আগে সোভিয়েত দেশের সহায়তায় ইরানে ৬০টিরও বেশী বড় প্রকল্প করা হয়েছিল. সামরিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা শুরু হয়েছিল. ইরানের অফিসাররা সোভিয়েত দেশে তাদের প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন. সোভিয়েত দেশের সহায়তায় তৈরী হয়েছিল সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র মেরামতের কারখানাও.

ঐস্লামিক বিপ্লবের পরেও গত শতকের নব্বইয়ের দশকে রাশিয়া ইরানের জন্য সামরিক অস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য নেতৃস্থানীয় সরবরাহকারী দেশ ছিল. ইরানের আমদানীতে রাশিয়ার অংশ ছিল শতকরা ষাট ভাগের বেশী. একই সময়ে জ্বালানী ও মহাকাশ ক্ষেত্রে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে কাজ করেছে. কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের সহযোগিতা বাস্তবে শূণ্যতে এসে ঠেকেছে. এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আজ রাশিয়া ইরানের সম্পর্ক একটা “ঘুমন্ত অবস্থায়” রয়েছে. কি করে এই সম্পর্ক জাগ্রত করা হবে? রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী লানা রাভান্দা–ফাদাই বলেছেন:

“বোধহয় প্রথমে সেই আগে করা কাজই নতুন করে শুরু করতে হবে, যা বিগত বছরগুলোতে স্বাক্ষরিত অবস্থায় অথচ বাস্তবায়ন না করা হয়ে রয়ে গিয়েছে, স্রেফ নানা রকমের ইচ্ছা পত্র, ঘোষণা ও সেই ধরনের কিছু হয়ে. এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে ২০১৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী হওয়া রুশ-ইরান আর্থ-বাণিজ্য সহযোগিতা পরিষদের দশম সম্মেলনের প্রোটোকল. এই দলিল আইন সঙ্গত ভাবেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রসার ও সামগ্রিক উন্নয়নের সম্বন্ধে করা সমঝোতাগুলোকে তৈরী করেছে, তার মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্র থেকে শুরু করে মহাকাশ, স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন রয়েছে”.

এখানে প্রাথমিক হতে চলেছে, মনে করা যেতে পারে তিনটি দিকের কাজ – যেগুলির উন্নতি নিয়ে তেহরান খুবই আগ্রহী.

এটা – জ্বালানী ক্ষেত্র, তার মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানীর ক্ষেত্রে, ইরান চেয়েছে আরও কয়েকটি রিয়্যাক্টর তৈরী করা হোক. আর সেখানেই রাশিয়ার বিজ্ঞানী ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকদের পেশাদারীত্ব, গুণমান এবং বুশের পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা নিয়ে বিরল অভিজ্ঞতা – খুবই বিরল ধরনের, যা রাশিয়াকে ইরানের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রকমের সহযোগী করেছে.

একই ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে মহাকাশ ক্ষেত্রে. ইরানের প্রয়োজন মহাকাশের কক্ষপথে থাকা উপগ্রহ মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টেলিভিশন সম্প্রচার করার. বর্তমানে ইরানের পক্ষে অতিক্রম যোগ্য রকেট মহাকাশ প্রযুক্তি তাদের উঁচু ভূ-স্থিতিশীল কক্ষপথে যোগাযোগের উপগ্রহ রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে না. ইরান রাশিয়ার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ ভাবেই ব্যবহার করতে সক্ষম হত, যদি রাশিয়ার রকেট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের উপগ্রহ পাঠাতে পারত.

আমরা সামরিক –প্রযুক্তি সহযোগিতার কথাও ভুলে যাব না, রাশিয়ার কাছে এমন সব অস্ত্র রয়েছে, যা ইরানকে দেওয়া যেতে পারে.

অবশ্যই এই সমস্ত ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাস্তব কাজকর্ম দিয়ে ভর্তি করা যেতে পারত শুধু সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে, যা আজ ইরানের উপরে রয়েছে. আর যদি ছয় মাস পরে - শেষ এবং অতি প্রসারিত চুক্তি ইরান ও “ছয় মধ্যস্থতাকারী” পক্ষের মধ্যে করা সম্ভব হয়, তবে এটা ইরানের উপর থেকে সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার জন্য আইনানুগ ভিত্তি হতে পারবে.