রাশিয়ার শহরগুলিতে আজ কয়েক বছর ধরেই চালু রয়েছে ‘১০০-বান্ধব’ নামক প্রকল্প. ঐ প্রোজেক্টে যোগদানকারীরা নিজেদের জন্য বিশেষ একটা সাইট খুলেছে, যেখানে তারা জিনিসপত্র বা পরিষেবা বিনিময় করে. ঐ সাইটের নিজস্ব কারেন্সী আছে – বিনিময় মুদ্রা.

ঐ কারেন্সীর দাম মোটামুটি রুবলের মতোই. প্রত্যেক প্রস্তাবকারী নিজেই নির্ধারণ করে যে, তার জিনিসের দাম ঠিক কত হওয়া উচিত্. প্রাথমিক পুঁজি পাওয়া যেতে পারে ওখানেই লোন নিয়ে অথবা অন্য কোনো অংশগ্রহণকারীকে ঐ প্রকল্পে ঢুকিয়ে পারিতোষিক হিসাবে. যদি উপোরক্ত কোনোটাই করা সম্ভব না হয়, তাহলে জলজ্যান্ত রুবল দিয়েও ঐ পুঁজি কিনতে পারেন. তারপরে অংশগ্রহণকারীরা সাইটের মাধ্যমে তাদের জিনিসপত্র ও পরিষেবার প্রস্তাব দিতে শুরু করে. যেমন ধরুন, কোনো গৃহিনী একটা সোয়েটার বুনেছেন, আর কোনো ছাত্র কম্পিউটার মেরামত করতে পারদর্শী. ফলে ছাত্রটি শীতের জন্য গরম সোয়েটার কিনতে পারে আর ঐ গৃহিনী একজন অংশগ্রহণকারীকে প্রকল্পে আনার সুবাদে পাওয়া পারিতোষিক মূল্য দিয়ে তার প্রয়োজনীয় যে কোনো জিনিস ও পরিষেবা কিনতে পারেন.

ঐ অদৃশ্য ওয়ালেটে কয়েকটি বিনিময়যোগ্য মুদ্রা জমা করে প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীরা তাদের প্রয়োজনমাফিক যে কোনো জিনিস বা পরিষেবা কিনতে পারেন. অনেকদিনের অভিজ্ঞরা বলেন যে, এই সাইটের দৌলতে তাদের মাসিক পারিবারিক বাজেটে অনেক আর্থিক সংকুলান হয়েছে.

‘একশো বান্ধব’ নামক এই প্রকল্পটির জন্মদাতা ইর্কুত্স্ক শহরের বাসিন্দা সের্গেই ভাগায়েভ. ২০০৮ সালে বিশ্বে সার্বিক আর্থিক সংকটের সময় অনেকের মতো তিনিও বেকার হয়ে গেছিলেন. সেইসময় অর্থের বিনিময়ে কোনোকিছু বিক্রি করা ছিল কষ্টকর, কিন্তু বদলাবদলি করতে অনেকেই রাজি ছিল.

তখন সের্গেই ভাগায়েভ নতুন সাইট খুললেন, বিনিময় মুদ্রাও মাথা খাটিয়ে বের করলেন. আজ যাদের সত্যিকারের অর্থ নেই, তারাও কিন্তু এই সাইটটির সুবাদে যে কোনো অত্যাবশ্যকীয় জিনিস বা পরিষেবা অল্পায়াসেই পেতে পারে.

‘একশো বান্ধব’ সাইট এখন ছড়িয়ে পড়েছে রাশিয়ার শহরে শহরে এবং বিদেশেও. এই সাইটের সদস্যদা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে বলছেন যে, তাদের লক্ষ্য মুনাফা কামানো নয়, মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা. তারা বলছেন – “এটা কোনো বাজার বা দোকানঘাট নয়, এটা বন্ধুদের ক্লাব”.