এটা হবে তাঁর জন্য জয়ন্তী বর্ষের – অর্থাত্ দেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে রাষ্ট্রীয় সভার সামনে ভ্লাদিমির পুতিনের দশম ভাষণ. গত বছরে তা একই ভাবে সংবিধান দিবসে দেওয়া হয়েছিল. তখন প্রধান যে সমস্ত ধারণা বলা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল দেশের সরকারি কর্মচারীদের দেশের বাইরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ব্যবসা থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও রাশিয়ার দ্যুমার নির্বাচনে মিশ্র পদ্ধতির পুনরায় ব্যবহার. কিন্তু এক বছরও হয় নি, যখন এই সমস্ত নির্দেশ কার্যকরী করা হয়েছে. তবুও এমন সমস্ত প্রশ্ন রয়েছে, যার উপরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আঞ্চলিক প্রশাসনের কর্মচারীরা কাজ করেছেন কম দ্রুত ভাবেই. অনেক প্রশ্নই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা ও শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত রয়ে গিয়েছে. এই রকমের একটা পরিস্থিতিতে বিরোধী পক্ষ এখন বিশেষ করে আগ্রহী যে, এই ধরনের অবস্থা কি রাষ্ট্রপতির ভাষণে প্রতিফলিত হতে পারবে.

আরও একটি কৌতুহলের বিষয় হয়েছে সংবিধানে পরিবর্তন করা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর আলেক্সেই মাকারকিন বলেছেন:

“রুশ প্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনেক দিন ধরেই একেবারে অস্পৃশ্য অবস্থায় ছিল. ২০০৮ সালে তাতে রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রীয় দ্যুমার স্থায়িত্ব সংক্রান্ত পরিবর্তন আনা হয়েছিল. এখন আরও একটি বাড়তি যোগ হয়েছে দেশের সালিসী আদালত তুলে দেওয়া নিয়ে. আর আশা করা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যেতে চলেছে যে, সংবিধানে আরও কয়েকটি পরিবর্তন করা দরকার হবে. অন্ততপক্ষে আমি মনে করি না যে, সেই সমস্ত দিককে আলাদা করে বলা হতে চলেছে, যা নিয়ে এখন অনেক কথা হচ্ছে: দেশের জাতীয় আদর্শ নিয়ে মুখবন্ধ লেখা অথবা রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চের বিশেষ অগ্রণী ভূমিকার কথা সংবিধানে লেখা থাকা নিয়ে. কারণ এটা সংবিধানের ভিত্তি মূলক ধারার মধ্যে পড়ে. তার ওপরে রাশিয়া এক বহু প্রজাতির ও বহু ধর্মের দেশ বলে মনে করলে, এটা খুবই ঝুঁকি সম্পন্ন হতে পারে বলেই মনে করা যেতে পারে”.

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কয়েকটি সাক্ষাত্কার করেছেন দেশের পার্লামেন্টের নানা দলের লোকদের সঙ্গে ও নানা গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গেও, তাদের সঙ্গেই যে সব দলের লোকরা দেশের পার্লামেন্টে নেই, তাদের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন, তাদের প্রস্তাব ও ধারণা শুনেছেন, যা তাঁর ভাষণের অংশ হতে পারে. এই সমস্ত আলোচনার অংশ হতে চলেছে সেই ধরনের বিষয় সংক্রান্ত আলাদা করে অনুচ্ছেদ, যা উত্সর্গ করা হতে চলেছে যেমন জাতিগত ঐক্য, দুর্নীতি দলন, সংবাদ মাধ্যমের সামাজিক ভূমিকা, আর তারই সঙ্গে দেশপ্রেম নিয়েও. তাছাড়া দেশের নেতা সেই পরিস্থিতির প্রতিও নজর দেবেন, যা পররাষ্ট্র নীতিতে উদ্ভব হয়েছে, এই রকমের ভরসা নিয়েই আলেক্সেই মাকারকিন বলেছেন:

“রাশিয়ার বিগত সময়ে পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হয়েছে. প্রাথমিক ভাবে ইউক্রেনের সঙ্গে, যেখানে আমাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ ভাবেই উল্টো দিকে. আর তারই সঙ্গে সেই সম্বন্ধেও, যে আমাদের পক্ষে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না, আর তারও সঙ্গে যে, আমাদের বিবেক ও আদর্শও অন্য রকমের. যেমন, পশ্চিমের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে দোষ দেওয়া হচ্ছে যে, রাশিয়া বিরোধী পক্ষের স্বার্থকে হেয় করছে, আর রাশিয়া নির্দেশ করছে যে, পশ্চিমে এক লিঙ্গ বিবাহকে আইন সঙ্গত করা হচ্ছে ও বিবেক সংক্রান্ত প্রশ্নে অবক্ষয়কে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে. এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্বকে মানতে না চাওয়া, পশ্চিমের গণতান্ত্রিক আদর্শকেই একমাত্র বলে স্বীকার না করা, বোধহয়, এই সমস্ত নিয়েও কিছু বলা হবে”.

একই সঙ্গে রাশিয়ার লোকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বোঝা যে, রাষ্ট্রের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে কি করা হতে চলেছে, কি ধরনের পরিবর্তন দেশের পেনশন ব্যবস্থায় আনা হতে চলেছে, দেশের ঘর বাড়ী পরিষেবা বিষয়ে উন্নতির জন্য কি করা হতে চলেছে.

ঐতিহ্য মেনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হবে মস্কো সময় বেলা ১২টায় ক্রেমলিনের গিওর্গি নামাঙ্কিত কক্ষে. এখানে দেশের রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্যরা জড়ো হতে চলেছেন, প্রশাসনের কর্তারাও থাকবেন, দেশের সাংবিধানিক ও সর্ব্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিরা থাকবেন, রাজ্যপালেরা, দেশের মূল ধর্ম প্রতিষ্ঠানের কর্তারা, সর্ব বৃহত্ সংবাদ মাধ্যমের প্রধানরা, রাশিয়ার সামাজিক সভার প্রতিনিধিরা ও সংস্কৃতি জগতের বিখ্যাত লোকরাও উপস্থিত হবেন.