আজকের দিনে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) – এটা এক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক জোট, যারা বিশ্বের শতকরা ৪৩ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধি ও বিশ্ব অর্থনীতির একের চতুর্থাংশের বেশী এদের দখলে রয়েছে. তারই মধ্যে ব্রিকস দেশগুলোর বার্ষিক গড় উত্পাদন পশ্চিমের দেশগুলোর চেয়ে দ্রুত গতিতেই বেড়ে চলেছে.

ব্রিকস জোটের অংশীদাররা এই বছরে বিশ্লেষক সভার অধিবেশনে ঠিক করেছেন যে, তাঁরা ব্যবসায়িক তথ্য নিয়ে একটি ডাটা ব্যাঙ্ক তৈরী করবেন ও নিজেদের উন্নয়ন ব্যাঙ্কও তৈরী করবেন. ভবিষ্যতের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সংস্থা অনেকেই মনে করেন যে, পশ্চিমের প্রভাবে থাকা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটা বিপরীত দিকের ভরকেন্দ্র বলে, এই কথা উল্লেখ করে “রাশিয়ার নামে ঐক্য তহবিলের” সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

“পাঁচ হাজার কোটি ডলার মূলধন – এটা যথেষ্ট বড় ধরনের অঙ্ক, যা যেমন এই ব্রিকস দেশগুলোর উন্নতির জন্য ব্যবহার করা সম্ভব, তেমনই আন্তর্জাতিক উন্নয়নের কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে. তার থেকে কিছু কম সংজ্ঞাবহ নয় ব্রিকস গোষ্ঠীর নিজস্ব স্থিতিশীলতা তহবিল তৈরী করা, যাতে রাখা হতে চলেছে দশ হাজার কোটি ডলারের সমান অর্থ, যা বিশ্বের বাজারে কোন রকমের অর্থ প্রবাহে অসুবিধা হলে ব্যবহার করা যেতে পারবে”.

সেই সমস্ত রাষ্ট্র – যারা ব্রিকস গোষ্ঠীর অংশীদার, তারা নিজেদের সামনে লক্ষ্য রেখেছেন বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করানোর জন্য, যার কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ভাদিম লুকভ বলেছেন:

“ব্রিকস – এটা একটা রাষ্ট্রসমূহের জোট, যারা স্ট্র্যাটেজিক উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গভীর সংস্কার করতে চায়. আমাদের দেশগুলোর সামনে রয়েছে সকলের জন্যই সমান রকমের হুমকি, যাকে ছোট করে উল্লেখ করা যেতে পারে – আধুনিকীকরণের চ্যালেঞ্জ বলে. সংস্কার সাধনের বিষয়ে খুবই বিরল রকমের অভিজ্ঞতা একজোট করা হয়েছে, রয়েছে বহুল পরিমাণে বিদেশী মুদ্রা বিনিয়োগের উপযুক্ত রকমের তহবিল. দেশের নেতৃ বৃন্দের তরফ থেকে রয়েছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা যাতে আমাদের দেশগুলোকে আরও দ্রুত অগ্রগতির পথে বার করে নিয়ে আসা সম্ভব হয়”.

ব্রিকসের ভিতরে পারস্পরিক সহযোগিতা এখন গতি অর্জন করে চলেছে. এখন ব্রিকস গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় কুড়িটি ধরনের সহযোগিতা চালু রয়েছে, তার মধ্যে বাত্সরিক ভাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের সাক্ষাত্কার থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা পর্যন্ত, যা করা হচ্ছে একেবারেই নিয়মিত ভাবে.