ফলে দিল্লী শহরে, যেখানে কংগ্রেস গত ১৫ বছর ধরেই শাসন করেছে, সেখানে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিধানসভায় মাত্র নটি আসন পেয়েছে, যা গতকালও যে দলকে কেউই গুরুত্ব দিয়ে দেখে নি, সেই “আম আদমী পার্টির” চেয়ে তিনভাগ কম. আর শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মূল প্রতিপক্ষ – বিজেপি দল. এখানে মনোযোগ আকর্ষণ করে যে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোন রকমের লড়াই ছাড়াই বিজেপি দলকে জয় তুলে দিয়েছে আরও মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে, যে দুটি রাজ্যকে মনে করা হয়ে থাকে ভারতের হৃদয় বলে. শুধু ছত্তিশগড় রাজ্যেই তারা নরেন্দ্রে মোদীর দলের সঙ্গে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উঠতে পেরেছে, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রবল পরাজয়ের অর্থ কি তাহলে এটাই যে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস – একটা ডুবন্ত জাহাজ? আর আগামী বছরে দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন অবধারিত – বিজেপি দলই ক্ষমতায় ফিরবে, আর তাদের নেতা হবেন নরেন্দ্র মোদী? রবিবারে কংগ্রেসের জন্য এই নির্বাচন হয়েছে অশনি সঙ্কেতের মতো. নির্বাচন তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, দেশের নির্বাচকরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বর্তমানের যুগ নিয়ে হতাশ ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রশাসনের শীর্ষে আর রাখতে চায় না. কিন্তু তাও আগামী বছরে সর্বজনীন নির্বাচনে বিজয় যে বিজেপি দলের পকেটে, তা বলা এখনও তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. অন্ততপক্ষে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কালো রবিবার পার হওয়ার পরেও ক্ষমতাসীন দল এখনও চেষ্টা করতে পারে পরিস্থিতিকে পাল্টে দেওয়ার ও আগামী বছরের নির্বাচনী মরসুমে মুখ্য পুরস্কার জিতে নেওয়ার জন্য”.

ঠিক এই রকমই হয়েছিল ২০০৪ সালের নির্বাচনের সময়ে. কারণ সেই নির্বাচনের সময়ে খুব কম লোকই সন্দেহ করেছিল যে, বিজেপি দলই নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে. বিজেপি দল “শাইনিং ইন্ডিয়া” স্লোগান দিয়ে মনে হয়েছিল যে, দেশের জনগনকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হয়েছে যে, তারা দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দিতে সক্ষম হবে ও তারাই সরকারে থেকে যাবে.

কিন্তু যদিও ভোট গ্রহণ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব নিজেদের সম্পূর্ণ রকমের জয় নিয়ে ভরসা প্রকাশ করেছিল, বিজেপি তখন শুধু পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশী সদস্য আসন পাওয়া থেকেই বঞ্চিত হয় নি, বরং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে সদস্য পদের বিষয়েও জায়গা ছেড়ে দিয়ে বাধ্য হয়েছিল.

এই ভাবেই এখনই কংগ্রেসকে “কবর দেওয়ার” দরকার নেই, যাদের এমনিতেই অনেক রাজনৈতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে. আর তাও স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, কংগ্রেসের বিজয়ের জন্য, যদি তা সম্ভবও হয়, তবে বর্তমানের ক্ষমতাসীন দলকে কিছু একটা করতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব বলে মনে হতে পারে. আর তা হল যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভুল সংশোধন করতে হবে আর প্রস্তাব করতে হবে একেবারেই পরিবর্তন করে রাজনৈতিক আলোচ্যের তালিকা প্রকাশ. সেই তালিকা বাস্তবায়নের ভার নিতে হবে নেহরু- গান্ধী বংশের রাজীব ও সোনিয়া পুত্র রাহুল গান্ধীকেই, এই প্রসঙ্গে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এই ধরনের নির্বাচনের আশ্বাস কি রকমের হবে? এই প্রশ্নের আংশিক উত্তর দিচ্ছে দিল্লীর নির্বাচন, যা আম আদমী পার্টি নামক একটা নতুন ঘটনা নিয়ে বলতে বাধ্য করেছে. এই দলের চাঞ্চল্যকর ফলাফল বলে দিচ্ছে যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়ে এক প্রধান প্রশ্ন হবে দুর্নীতির প্রশ্নই. এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্য আর কিছুই করার থাকবে না, যদি না তারা ভারতীয় নির্বাচকদের প্রমাণ করে দেয় যে, তারা শুধু দুর্নীতির চল করতেই জানে না, তার সঙ্গে লড়াই করতেও জানে. তার ওপরে আবার এটা করতে হবে ক্ষমতায় ফিরে এসে বিজেপি যা করে ফেলতে পারে, তার থেকেও অনেক ভাল করে”.

সদ্য হয়ে যাওয়া স্থানীয় নির্বাচন শুধু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্যই নয়, এমনকি বিজেপির জন্যও শিক্ষামূলক হওয়া দরকার. ভারতীয় রাজনীতির এই দুই বৃহত্ শক্তিকে এবারে গোড়ালি আটকে দিচ্ছে ক্ষুদ্র স্থানীয় দলেরা. ভারতে রাজনৈতিক ভাবে আলাদা কিছুর জন্য একটা তাগাদা এসেছে. নির্বাচকরা অপেক্ষা করছেন শুধু রাজনৈতিক ভাবে একটা অন্য খসড়ার জন্যই নয়, বরং রাজনৈতিক মঞ্চের খেলোয়াড়দের পরিবর্তনেরও.

তাই বিজেপি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রয়োজন পড়বে খুবই মনোযোগ দিয়ে আধুনিকীকরণের বিষয়ে ভাবার, যা এই দলকে দ্বিতীয়বার যৌবন ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে, তবে সেটা যেন অবশ্যম্ভাবী নিভে যাওয়ার আগে জোর করে জ্বলে ওঠা না হয়ে দাঁড়ায়.