বর্তমানে আফগানিস্তানে পশ্চিমের জোট থেকে প্রায় ৯৮ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে. এই বাহিনীর মূল অংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোদ্ধারা. এই বাহিনীর এক বড় অংশ আগামী বছরে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবে. আমেরিকার সেনাবাহিনীর কত বড় গোষ্ঠী সেখানে থেকে যাবে, তা সঠিক করে জানা নেই. সংখ্যা আট থেকে পনেরো হাজার সৈন্যের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে. “টেরা আমেরিকা” নামের সাইটের প্রধান সম্পাদক বরিস মেঝুয়েভ, এই থেকে যাওয়া সেনারা আফগানিস্তানে কি করতে চলেছে, তা নিয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“প্রাথমিক ভাবে প্রহরার কাজ. সরকারি ভবনগুলোকে পাহারা দেওয়া, সব রকমের সামরিক কেন্দ্র গুলোকে পাহারা দেওয়া. দ্বিতীয়তঃ, তারা আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীকে তালিম দেবে, যাতে কোন রকমের স্বল্প বিস্তর যুদ্ধে প্রস্তুত একটা বাহিনী বানানো যেতে পারে. আর শেষমেষ, সেই সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, তারা অংশ নেবে সেই ধরনের আক্রমণে, যেখানে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যারা লড়াই করবে, তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া হবে. ঠিক একই রকমের কাজ করা হচ্ছে ইরাকে: সেখানে রয়েছে স্বল্প সংখ্যক আমেরিকার সেনা, তারা প্রায় একই ধরনের কাজ করছে”.

ওয়াশিংটন ও কাবুলের মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী হামলার প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশী বিরক্তির কারণ হয়েছে. কয়েকদিন আগে হামিদ কারজাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা নিয়ে আফগানিস্তানের সারা আফগান মুরুব্বী সভা লইয়া-জির্গা সমর্থিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেছেন. প্রাথমিক শর্ত হিসাবে তিনি দাবী করেছেন যে, আমেরিকার সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের সঙ্গে সহমতে না পৌঁছে যেন কোন রকমের অপারেশনে না যায়. আরও একটা সমস্যা রয়েছে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনীর লোকদের আইন সঙ্গত মর্যাদার প্রশ্নেও. ওয়াশিংটন জোর দিয়েছে যে, তারা শুধু আমেরিকার আদালতের অধীনে থাকবে, আফগানিস্তানের নয়. ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফগানিস্তান হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা এবারে বাত্সরিক চারশো কোটি ডলার করে সহায়তা যা আফগানিস্তানকে দেওয়া হয়ে থাকে, তা বন্ধ করে দেবে আর নিজেদের বাহিনী আফগানিস্তান থেকে ফেরত নিয়ে যাবে.

কিন্তু আমেরিকার লোকরা আফগানিস্তানে নিজেদের উপস্থিতি নিয়ে কারজাই তাদের সহায়তা নিয়ে যতটা উত্সুক, তার চেয়ে কিছু কম আগ্রহী নয়. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি আলেকসান্দ্রভ বলেছেন:

“আমেরিকার লোকদের আফগানিস্তানে উপস্থিতি কি কারণে প্রয়োজন? এটা স্পষ্টই বুঝতে পারা যাচ্ছে: এটা চিনের দিকে প্রভাব বিস্তার করার সম্ভাবনা, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত থাকা ইরানের উপরে প্রভাব ফেলা, মধ্য এশিয়াতে প্রভাব বিস্তার করার সম্ভাবনা, আর এর মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার উপরেও প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা. আফগানিস্তান, এটা বলা যাতে পারে যে, এমন একটা বিন্দু, যেখান থেকে একেবারেই নানা রকমের দেশের উপরে প্রভাব ফেলা যেতে পারে”.

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার লোকরা যে, কোনদিনও যাওয়ার জন্য তৈরী নয়, সেই যুক্তির সমর্থনে বলে সেই বাস্তব ঘটনাই যে, তারা আফগানিস্তানের ভেতরে নটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি তৈরী করেছে. তার ওপরে আবার কান্দাহারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন কিলোমিটার লম্বা বিমান ওঠানামা করার রানওয়ে রয়েছে. শুধু আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরী করা হয়েছে, এটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন. তাই অনেক বেশী করেই সম্ভব যে, আফগানিস্তানের ঘাঁটি – এটা ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজির অংশ, যা নিজেদের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় রাজনৈতিক লক্ষ্য পরিবর্তনের সঙ্গেই জড়িত. আর হতে পারে যে, ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অগ্রবর্তী হওয়া চিনের সঙ্গে বিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় অগ্রিম ব্যবস্থা.