এর পরে – রেলগাড়ী চড়ে যাওয়া হয়েছে রাশিয়ার জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম শহর নভোসিবিরস্ক অবধি, এই শহরকে সাইবেরিয়ার রাজধানীও বলা হয়ে থাকে. এখানে দেশের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে. এই শহরে ২০১৪ সালের সোচী অলিম্পিকের প্রতীক দু’দিন কাটিয়েছে – ৬ও ৭ই ডিসেম্বর.

অলিম্পিকের উদ্বোধনের মুহূর্তে এই মশাল বয়ে নিয়ে যাওয়া আগুন অতিক্রম করতে চলেছে ১২৩ দিনের মধ্যে রাশিয়ার ভিতর দিয়ে ৬৫ হাজার কিলোমিটার পথ. বাইশতম শীত অলিম্পিকের ষ্টেডিয়ামের মশাল ২০১৪ সালে সোচী শহরে সেই মশাল দিয়েই জ্বালানো হবে, যেটি মহাকাশে গিয়েছিল. ঐতিহ্য মেনেই অলিম্পিকের উদ্বোধনের চরম মুহূর্ত হয়ে থাকে প্রধান ষ্টেডিয়ামের মূল মশালকে জ্বালানোর সময়. এই আগুন কি করে জ্বালানো হতে চলেছে ও কে এই মশাল জ্বালবেন, তাঁর নাম খুবই গোপন তথ্য হিসাবে রাখা হয়েছে.

সোচী অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হতে চলেছে মস্কো সময় ২০১৪ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারী ঠিক ২০টা বেজে ১৪ মিনিটে, অর্থাত্ সন্ধ্যা আটটা বেজে চোদ্দো মিনিটে. এই সংখ্যা নেওয়া হয়েছে রাশিয়াতে শীত অলিম্পিক প্রথমবার হতে যাওয়া বছরের সংখ্যা থেকেই.

২, গলফের বদলে

ইংরাজী শব্দ কার্ল বা ঘুরিয়ে দেওয়া থেকে কের্লিং খেলার নাম নেওয়া হয়েছে. এখানে নিয়ম হল: মসৃণ বরফের উপর দিয়ে বহু কিলো ওজনের পাথরের গোলা খেলার কেন্দ্রস্থলের দিকে এমন করে গড়িয়ে দেওয়া হয় যে, যাতে সেগুলোকে এই খেলার জায়গার ধারে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়. এই গোলা যাতে গড়িয়ে যায় ও দিক পরিবর্তন করে, তার জন্য খেলোয়াড়রা তার আগে যেতে থাকেন আর জমিটা ঘষতে থাকেন, যেন বলা যাক বরফ গলিয়ে ঢাল করে দেওয়ার জন্যই. খেলার জটিল তা হল যে, ঠিক কি করে বরফ ঘষা দরকার, কোন দিকে আর কত জোরে এই গোলা ছাড়া দরকার, যাতে তা ঠিক দরকার মতো জায়গায় গিয়ে থামে আর বিরোধী পক্ষের গোলা দিয়ে যেন সেটাকে জায়গা পাল্টে দেওয়া না যায়, তার ব্যবস্থা করা.

অলিম্পিকের একটা ধরনের খেলা হিসাবে কের্লিং যোগ হয়েছে বছর পনেরো হল, যদিও আসলে এই খেলার কথা জানা রয়েছে প্রায় পাঁচ শতক ধরে. আর এখানে মোদ্দা কথা হল কি কারণে এই খেলা ষোঢ়শ শতাব্দীতে স্কটল্যান্ডে জনপ্রিয় হয়েছিল, সেটা জানা. গলফের বদলে. কারণ সেখানে স্থানীয় পার্লামেন্টের মতে লাঠি ও বল দিয়ে খেলা গলফের জন্য সেই দেশের লোকরা সামরিক বাহিনীতে প্রশিক্ষণ ও চার্চে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাই আদেশ হয়েছিল গলফের অভ্যাস বন্ধ করার. তারই বদলে শুরু হয়েছিল কের্লিং.

এই খেলা প্রথমে শুরু করা হয়েছিল জমে যাওয়া হ্রদ, পুকুর ও নদীর ওপরে. আর প্রথম দিকে গোলার কাজ করত সাধারণ পাথরই. স্কটল্যান্ডের ডারওয়েল শহরের বর্ণনায় পড়া যেতে পারে যেমন, কি ভাবে তাঁতিরা কের্লিং খেলত: তাঁদের বোনার যন্ত্রের থেকে পাথর খুলে নিয়ে.

সময় পার হওয়ার সঙ্গে কের্লিং নিজের জন্মস্থানের বাইরেও জনপ্রিয় হয়েছিল. আর ১৯৯৮ সালে কের্লিং নাগানো অলিম্পিকের সময়ে উপস্থাপনা করা হয়েছিল.

৩. মৈত্রী বৃক্ষের চূড়াতলে

একই চূড়ার তলায় রয়েছে ৪৫টি গাছ. এই রকমের একটা অসাধারণ “মৈত্রীর বৃক্ষ” সোচী শহরের লেবুর বাগানে বড় হচ্ছে. গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে উদ্ভিদ নিয়ে শঙ্কর প্রজাতি সংক্রান্ত গবেষণায় রত বিজ্ঞানী ফিওদর জোরিন বুনো লেবুর গাছ বসিয়ে তাতে অন্য লেবু গাছের ও বাতাবী লেবুর শঙ্কর তৈরী করে এক অদ্ভুত নতুন রকমের লেবু গাছ তৈরী করেছিলেন.

তাঁর পরীক্ষা সফল হয়েছিল, আর প্রফেসর ঠিক করেছিলেন, তা চালিয়ে যাওয়ার. তিনি এক পরে এই গাছ লেবুর অন্যান্য ধরনের গাছের সঙ্গেও কলম করে দেখেছিলেন. এই বিরল ধরনের লেবু সমেত গাছের উদ্যান একটা স্যানাটোরিয়ামের কাছে রয়েছে, যাতে প্রায়ই বিখ্যাত লোকরা এসেছেন. আর তারপরে একটা ঐতিহ্য তৈরী হয়েছে যে, প্রতিবারেই নতুন ধরনের শঙ্কর গাছের কলম করেছেন বিখ্যাত ব্যক্তিরা. তাঁদের মধ্যে – পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গাগারিন, প্রথম মহিলা মহাকাশ অভিযাত্রী ভালেন্তিনা তেরেশকোভা রয়েছেন.

এই ধরনের এক অসাধারণ গাছ নিয়ে এখানে আসা ও স্থানীয় লোকদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে ও অনেকবারই দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. ফলে বিশ্বের বহু মানুষই এই ধরনের গাছের কলম করেছেন, আর সেই গাছ হয়েছে মৈত্রীর ও সহযোগীতার প্রতীক.

এখন এই উদ্যানে একটা অন্য রকমের যাদুঘর রয়েছে. তার সংগ্রহে রয়েছে বিভিন্ন উপহার, যা সারা বিশ্ব থেকেই সকলে এই মৈত্রীর গাছের জন্য এনেছেন. এটা নানা জাতির স্যুভেনির – বিশ্বের সমস্ত মহাদেশ থেকেই প্রায় কুড়ি হাজারেরও বেশী জিনিষ.