আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট “ইয়ারস” যার কথা বিশেষজ্ঞরা ভ্লাদিমির পুতিনের কথার মধ্যে বুঝতে পেরেছেন – এগুলো “তোপল-এম” রকেটের আধুনিকীকরণের ফল. প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের সহসভাপতি ইভগেনি বুঝিনস্কি আমাদের যেমন বলেছেন যে, নতুন আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল “আরএস-২৪” ভাগ হয়ে যাওয়া বোমা দিয়ে সজ্জিত ও তাতে চারটে থেকে ছটা পারমাণবিক বোমা রাখা হতে পারে, যাদের প্রতিটি ১৫০ থেকে ৩০০ কিলো টন শক্তি সম্পন্ন. এই ধরনের মিসাইলের সবচেয়ে মুখ্য নতুনত্ব হল যে, বোমাগুলি আলাদা করে লক্ষ্য স্থির করে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম আর তার মধ্যে সেই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, যা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেদ করে যেতে সক্ষম, যার ফলে প্রতিপক্ষের এই ধরনের “ইয়ারস” মিসাইলের অবস্থান এবং গতিপথ নির্ণয় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে.

মনে হচ্ছে যে, ইয়ারস মিসাইলের যুদ্ধের অস্ত্র আমেরিকার পক্ষ থেকে “ইউরো-প্রো” নামের রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন উদ্বিগ্ন হয়েছে, এই রকম মনে করে রুশ প্রজাতন্ত্রের সামরিক শিল্প পরিষদের সদস্য মিখাইল খদারেনক বলেছেন:

“ব্যাপার হল যে, যখন রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়ে আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের অস্ত্রকে ভেদ করার কথা বলা হয়ে থাকে, তখন মনে করা হয় যে, লক্ষ্য সরল পথে ও একই রকমের ত্বরণ বা গতিবেগ নিয়ে চলবে. তা না হলে কোন রকমের লক্ষ্য ভেদের পদ্ধতি ব্যবহার করা চলতে পারে না. যদি মনে করা হয় যে, ব্যালিস্টিক রকেটের মাথার অংশ তার উড়ানের শেষ পর্যায়ে কোন রকমের আচমকা ও পূর্বানুমান অযোগ্য গতিপথ পরিবর্তন করতে থাকে, তবে এই ক্ষেত্রে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে শতকরা একশ ভাগ ব্যর্থ হবে, তা বলাই বাহুল্য”.

নতুন কমপ্লেক্সের সংখ্যা নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, ইভগেনি বুঝিনস্কি মনে করেন এটা সংখ্যায় যথেষ্ট, এমনকি যদি সবচেয়ে কম সংখ্যক বোমা প্রত্যেক ব্যালিস্টিক মিসাইলে রাখাও হয়. তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা (রাশিয়া) স্ট্র্যাটেজিক রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত শেষ চুক্তির মধ্যে থেকেই এই কাজ করছি. আমরা এমনকি যতগুলো চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ততগুলো বোমাও বানিয়ে ফেলছি না. এখানে আমাদের পারমাণবিক ত্রয়ী বাহিনীর স্থল ভাগের অংশের শুধু আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে. এই রকমের একটা ফ্যাক্টর রয়েছে, যেমন আমেরিকার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সৃষ্টি করা. তাই প্রয়োজন পড়েছে এই সমস্ত কাজের একটা অসমান্তরাল প্রত্যুত্তর খোঁজার, কারণ তা না হলে স্ট্র্যাটেজিক ভারসাম্য নষ্ট হতে বসেছে, আর পারমাণবিক ক্ষেত্রে একে অপরকে বাধা দেওয়া এখনও কেউ বাতিল করে দেয় নি, আমরাও না আবার আমেরিকার লোকরাও না”.

তারই মধ্যে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির পুনর্জন্ম নিয়ে ওয়াশিংটনের অস্থিরতা ও হতাশা বৃদ্ধি হতে পারে খুবই সত্য বিষয়, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা করেছিল যে, রুশ প্রজাতন্ত্র নিজে থেকেই নিজেদের অস্ত্র বর্জন করবে. অন্য দিক থেকে আমেরিকার লোকরা ভাবেন নি যে, নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক ত্রয়ী আধুনিকীকরণ বন্ধ করার কোনও প্রয়োজন রয়েছে. শুধু বিভিন্ন কারণেই এই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হতে চলেছে রাশিয়ার পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পরে, যে কথা পশ্চিমের সহকর্মীরা ভেবেছিল তার থেকে খুবই দ্রুত ও আচমকা ভাবে আগেই রুশ পরিকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে.

রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি বর্তমানের সামরিক-রাজনৈতিক বিশ্ব নিয়মে- দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রধান ভরসাস্থল. কারণ আমেরিকার লোকরা রাশিয়াকে উচ্চ মানের লক্ষ্যভেদে সক্ষম অস্ত্র উত্পাদনে এগিয়ে গিয়েছে, পাইলট বিহীণ নানা রকমের ব্যবস্থা নির্মাণেও. তার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ব্যালিস্টিক রকেট এবারে পারমাণবিক বোমা ছাড়া সাধারণ বোমা দিয়েও সজ্জিত করছে, যা মস্কোর জন্য নির্দিষ্ট রকমের উদ্বেগের কারণ হয়েছে. তাই সমস্ত সিরিয়াস সামরিক বিশেষজ্ঞরাই একটি বিষয়ে একমত যে, আজকের দিনে বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তির জন্য এর চেয়ে বেশী ফলপ্রসূ ভরসার উপযুক্ত শক্তি হতে পারে না, যেমন হয়েছে পারমাণবিক শক্তি দিয়ে আটকে রাখার ব্যবস্থা. দুঃখের বিষয় হল যে, পারমাণবিক অস্ত্র বিহীণ বিশ্ব – এটা এখনও অনেক দূর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা মাত্র.