ঐ ইনস্টিটিউটের লেকচারার নিকোলাই সামোতায়েভ এই প্রসঙ্গে বলছেন –

‘ইলেকট্রনিক নাক’টা কাজ করে স্পেকটোমিটারের ওপর ভিত্তি করে. ওর আকৃতি নাকের মতো একটা নল. ঐ যন্ত্রটা সহস্রাধিক রাসায়নিক দ্রব্য খুঁজে বের করতে পারবে.

তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, যে যখন প্রকৃতিতেই অনুরূপ নির্ণায়ক আছে, তখন এত জটিল যন্ত্র উদ্ভাবন করার প্রয়োজনটা কি ? যেমন, ধরুন কুকুর. কুকুরের নাসারন্ধ্রে ২০ কোটি জীবন্ত কোষ এমনকি কয়েকটা অণু পরিমাণের রাসায়নিক পদার্থও ঘ্রাণশক্তি দিয়ে খুঁজে বের করতে পারে. তবে কুকুরও আদর্শ সন্ধানকারী নয় – বলছেন নিকোলাই সামোতায়েভ. –

“কুকুরদের কিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ? ওদের বিস্ফোরক দ্রব্যের গন্ধ শুঁকতে দেওয়া হয়. তার পরিবর্তে ওদের সুস্বাদু কিছু খেতে দেওয়া হয়. তারপর থেকে ওরা সারাক্ষণ শুধু বিস্ফোরক পদার্থ খোঁজে. কুকুরদের চরিত্র বদলানো কঠিন. কিন্তু যন্ত্রকে এমনভাবে প্রোগ্রামিং করা যায়, যে সে বিভিন্ন গন্ধ খুঁজে বের করতে পারে”.

বিস্ফোরক দ্রব্য ছাড়াও যন্ত্রগুলি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিমাণের বিষাক্ত বা মাদকদ্রব্যও সনাক্ত করতে পারে, এমনকি সন্দেহভাজন মানুষকেও সনাক্ত করতে পারে. –

যদি কোনো লোক ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়ে, তাহলে সে থাকে বদ্ধ জায়গায় এবং তার গায়ের গন্ধ ক্রমশঃ জমা হতে থাকে. ঐ গন্ধ ধ্বংসস্তুপের ছিদ্রগুলো দিয়ে নির্গত হতে থাকে. যদি আমাদের উদ্ভাবন করা যন্ত্রটা ধ্বংসস্তুপের তলায় ল্যাকটিক অ্যাসিডের সন্ধান পায়, তার মানে, ওখানে জীবন্ত মানুষ আছে.

কিন্তু, প্রাথমিকভাবে এই যন্ত্রটা ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে জীবন্ত মানুষ খুঁজে বের করার জন্য উদ্ভাবন করা হয়নি, করা হয়েছে পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয় পদার্থের লীক হওয়ার দিকে নজর রাখার জন্য. কিন্তু বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, যে এই যন্ত্রটার এত সূক্ষ সংবেদনশীলতা চিকিত্সকদের জন্যেও খুব উপযোগী হবে.

নিকোলাই সামোতায়েভ বলছেন – একসময় জাপান আমাদের এই যন্ত্রটার ব্যাপারে খুব আগ্রহশীল ছিল. ওদের তখন বার্ড’স ফ্লুর সংক্রামণের তীব্র সমস্যা চলছিল. আমাদের যন্ত্রটা বার্ড’স ফ্লু, টিবির মতো রোগ এক নিমেষেই নির্ধারণ করতে পারে – বলছেন সামোতায়েভ.