প্রায় একই সময়ে লন্ডনে দ্য গার্ডিয়ান কাগজের প্রধান সম্পাদক অ্যালান রাসব্রিজার ঘোষণা করেছেন যে, আপাততঃ স্নোডেনের ফাইলের মাত্র এক শতাংশই প্রকাশিত হয়েছে. তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের জন্য গুপ্তচর বৃত্তির জন্য লজ্জা পেতে আরও শতকরা ৯৯ভাগ কারণ যোগ হতে পারে.

ওয়াশিংটন ও লন্ডনের উপরে আরও একটি আঘাত হেনেছেন আমেরিকার সাংবাদিকতার এক বিখ্যাত ভেটেরান ও ওয়াশিংটন পোস্ট কাগজের সমীক্ষক কার্ল ব্রেনশ্টাইন. তিনি সেই জন্যই বিখ্যাত যে, ১৯৭০এর দশকে তাঁর সহকর্মী বব উড ওয়ার্ডকে সঙ্গে নিয়ে তিনি “ওয়াটার গেট স্ক্যান্ডাল” তৈরী করেছিলেন, যার ফলে তখনকার রাষ্ট্রপতি নিক্সনকে হোয়াইট হাউসের সিংহাসন থেকে পদত্যাগ পর্যন্ত করতে হয়েছিল. এখন ব্রেনশ্টাইন একটা খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন. তিনি এই চিঠিতে স্নোডেনের ফাঁস করে দেওয়া তথ্য নিয়ে যা সমস্ত ঘটছে, তার ওপরে দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিকদের সঙ্গে লন্ডনে ও ওয়াশিংটনে যা সব কাণ্ড করা হচ্ছে, তার সব কটাই বলেছেন অত্যন্ত ন্যক্কারজনক আর “বিপজ্জনক ভাবেই ক্যানসারের মত বিষাক্ত গুণে ভরা”. স্নোডেন কি করেছে তা নিয়ে যত খুশী তর্ক করা যেতে পারে, তার কাজের বিবেক সম্মত ও আইন সঙ্গত দিক নিয়েও আলোচনায় মত্ত হতে পারা যেতে পারে, কিন্তু এই সব কিছুই কোন রকমের সম্পর্ক রাখে না লন্ডন ও ওয়াশিংটনের প্রশাসনের সর্ব্বোচ্চ মহলের কাণ্ড কারখানার সঙ্গে. এই সব কাজ – “একটা চেষ্টা মাত্র, যাতে সরকারি মহলের রাজনৈতিক সমস্যাকে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর গ্রেট ব্রিটেনের বাড়াবাড়ি রকমের সরকারি বিষয়ে গোপনীয়তার আবহাওয়া তৈরী করা সংবাদ মাধ্যমের ব্যবহার দিয়ে ঢাকা দেওয়া যায়, যা আসলে, খুবই উচ্চ স্তরের দায়িত্বজ্ঞান থাকার পরিচয় ও সমস্ত রকমের প্রশংসারই দাবীদার হতে পারে”, লিখেছেন ব্রেনশ্টাইন, তাঁর খোলা চিঠিতে.