আড়ম্বর করে এক তৈরী এক অনুষ্ঠান সকলের জন্যই একটা চমক হবে. এই ষ্টেডিয়ামের গঠনই পরিকল্পনা করা হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথা মনে রেখে. যেমন, ষ্টেডিয়ামের ছাদে তৈরী করা হয়েছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নটা তথাকথিত রেল লাইন. ফলে সমস্ত কাঠামোটাই ষ্টেডিয়ামের এলাকা জুড়ে নানা রকমের ভারী জিনিষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে পারবে, এই কথা উল্লেখ করে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান উপস্থাপক কনস্তানতিন এর্নস্ট, তিনি বলেছেন:

“আমার মনে হচ্ছে যে, সবাই মিলে একটা বিরল ধরনের ষ্টেডিয়াম বানানো সম্ভব হয়েছে, বাস্তবে এর সঙ্গে তুলনীয় কোন ষ্টেডিয়াম ইউরোপে নেই, কারণ এরই মধ্যে একটা ষ্টেডিয়াম ও একটা বিশাল কনসার্টের জন্য ইনডোর ষ্টেডিয়ামের সমস্ত রকমের ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে”.

এই ষ্টেডিয়ামের ছাদটাই নিজে থেকে একটা বিরল রকমের গঠনের. বাইরে থেকে সেটাকে দেখলে মনে হয় সেটা পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় “ফিশ্ত” পাহাড়ের বরফ ঢাকা চূড়ার মতো, কিন্তু এটার দেখার মতো চেহারা ছাড়াও, এটা এক গুচ্ছ প্রয়োজনীয় কাজও করে থাকে. যেমন, তার ভেতরে বাড়তি জায়গা থাকবে আলো ও আতসবাজী রাখার জন্য. এই ছাদ যে জিনিষ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে, তা সূর্যের আলো ঢুকতে দেয়, কিন্তু তাও খুবই শক্ত ও তাতে জং ধরবে না. ঠিক এই জন্যেই “ফিশ্ত” ষ্টেডিয়াম আলো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও হাওয়া খেলার জন্য কম শক্তি ব্যয় করবে. তাছাড়া, সেই ধরনের ছাদ রয়েছে বলেই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়েও এই ষ্টেডিয়াম ব্যবহার করা যাবে.

আরও এই ষ্টেডিয়াম নিয়ে দু একটা গোপন কথা বলা যাক. ষ্টেডিয়াম ওভাল আকৃতির বলেই যে কোন জায়গা থেকেই দেখার জন্য দর্শকদের কোন অসুবিধা হবে না, তার ওপরে ৩৬ মিটার উঁচু ষ্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সেক্টর ও তলা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দর্শকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই. এদের প্রত্যেকটিরই আলাদা করে ঢোকা বের হওয়ার পথ রয়েছে. আর প্রায় হাজার খানেক জায়গা রাখা হয়েছে, যারা শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী, তাদের জন্য. যারা “ফিশ্ত” ষ্টেডিয়াম পরিকল্পনা করেছেন, তারা বলছেন যে, এখানে বিশ্বমানের কনসার্টও করা যাবে. ইতিমধ্যেই সেন্ট পিটার্সবার্গের মারিনস্কি থিয়েটারের প্রধান ভালেরি গিয়ের্গিয়েভ বলেছেন যে, তিনি এই ষ্টেডিয়ামে বছরে দুটি করে অপেরা দেখাতে তৈরী আছেন.