কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ক্ষমতায় থাকার সময়ে নানা রকমের দুর্নীতি কি কিছু কম হয়েছে? – প্রশ্ন তুলেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন, তিনি বলেছেন:

“গত বছরের হেমন্ত কাল ছিল দুর্নীতির স্ক্যান্ডালের জন্য সবচেয়ে বেশী ফসল ফলার সময়. তখন ভারতের পুলিশ পাঁচটি বড় কোম্পানীতে খানা তল্লাশী চালিয়েছিল, যাদের কয়লা খনির জন্য লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছিল ও যারা নাকি পরে এই সব লাইসেন্স আবার বেচে দিয়েছিল. পুলিশের তথ্য নির্দেশ করেছিল যে, এদের মধ্যে কিছু কোম্পানী বিশেষ করে তৈরী করা হয়েছিল সরকারি সম্পত্তি কিনে নেওয়ার জন্য”.

ভারতের অডিটর জেনারেল যে রিপোর্ট দেশের পার্লামেন্টের জন্য তৈরী করেছিলেন, তাতে ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত, যখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশের কয়লা খনি ব্যক্তিগত মালিকানায় দেওয়া হয়েছে কোন রকমের অকশন না করেই, যার ফলে কিছু কোম্পানী এই খনি গুলো কিনে নিয়েছে কম দামে ও তার ফলে অডিটর জেনারেলের মতে দেশের কোষাগার তিন হাজার তিনশো কোটি ডলারের সমান অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে.

এই স্ক্যান্ডালে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে টেনে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, যিনি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন দেশের কয়লা মন্ত্রীও. তখন “ভারতীয় জনতা পার্টির” নেতৃত্বে বিরোধী জোট অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগের দাবী করেছিল.

ভারতীয় সরকারের মর্যাদার উপরে আরও একবার আঘাত করেছিল কয়লা খনি ব্যক্তি মালিকানা করা নিয়ে অস্বচ্ছ কাজ কারবার. আর তার থেকে দুই বছর আগে ভারতে মোবাইল পরিষেবার দ্বিতীয় প্রজন্মের বেতার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য নিলাম হওয়া নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে আরও একটা বিরাট স্ক্যান্ডাল শুরু হয়েছিল. পরীক্ষা করে দেখার পরে অডিটরেরা বলেছিল যে, বাজারের দামের চেয়ে কম দামে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিক্রী করাতে দেশের কোষাগারে তিন হাজার একশ কোটি ডলারের সমান অর্থ পাওয়া হয় নি.

দেশ দুর্নীতির চক্রে পড়ে কতখানি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তার প্রমাণ হয়েছিল এক বিপুল প্রতিধ্বনি, যা দেশে গান্ধী বাদী আন্না হাজারের আন্দোলন তুলতে সক্ষম হয়েছিল. ভারতের রাস্তায় নেমে পড়েছিল বহু সংখ্যক মানুষের মিছিল, আর মনে হয়েছিল যে, সরকার এবারে টের পেয়েছে ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য দেশের আইন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি করতে বাধ্য হবে, তাই এই প্রসঙ্গে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“প্রসঙ্গতঃ, হাজারে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা এই ধরনের আরও অনেক শুরু হওয়া আন্দোলনের মতই কোন রকমের পরিণাম দেয় নি. একটা প্রশ্নের উদয় হয় যে, কেন? প্রথম সিদ্ধান্ত যে, দুর্নীতির আগে সমূলে উত্পাটন করা দরকার, যা রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনের নানা শাখা প্রশাখার সম্পূর্ণ কাঠামো না থাকার জন্যই হয়েছে. আর এটা স্রেফ এক মাস বা বছরের মধ্যে হয়ে উঠবে না”.

আর আপাততঃ, ভারতে দুর্নীতিই শাসন করছে, যার কোন রকমের রাজনৈতিক একদেশদর্শীতা নেই. প্রসঙ্গতঃ এটা কোন ভাবেই রাজনৈতিক নেতাদের একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে বাধা দিচ্ছে না – দুর্নীতি করছে বলে আঙুল তোলাও বন্ধ করছে না. নির্বাচনের আগে এর থেকে ফায়দা যে হবেই – তা জানা রয়েছে – কারণ ভারতে দুর্নীতির আকার এখন দেশের সমস্ত স্তরের মানুষদের অসন্তোষের কারণ হয়ে রয়েছে.