দুটি নেতৃস্থানীয় বিরোধী দল – বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি, বিএনপি ও তাদের সহযোগী দল জামাত-এ-ইসলামী সোমবারে ঘোষণা করেছে যে, নির্বাচন বয়কট করা হবে. বয়কটের কারণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পদত্যাগ করতে রাজী না হওয়া. প্রসঙ্গতঃ, এই কারণ অনেক গভীরে রয়ে গিয়েছে – বিগত বছরে সরকার সমস্ত কিছুই করেছে, যাতে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব ধ্বংস হয়. প্রধানতঃ জামাত-এ-ইসলামী হলেও বিএনপি দলের নেতাদের উপরেও বিচার করা হয়েছে, যা স্পষ্টতঃই মনে হয়েছে রাজনৈতিক কারণে করা, যদিও ওপর থেকে দেখলে মনে হয়েছে অভিযোগ করা হয়েছে ফৌজদারী মামলা নিয়ে, যা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে করা হয়েছিল, এই কথা আবার উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই পরিস্থিতিতে এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীসভার পদত্যাগও বিরোধীদের পছন্দসই হয় নি, কারণ নতুন অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের শীর্ষে রয়ে গিয়েছেন আগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ. আর যদিও জনমত গ্রহণের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলের জয়ের সম্ভাবনাই রয়েছে, তবুও এই বিরোধীরা অন্তর্বর্তী কালীণ সরকারের উপরে আস্থা রাখতে পারছে না, তারা নির্বাচন কমিশনের উপরেও কোন আস্থা রাখে না, মনে করে যে, ভোট গোনার সময়ে ফল নিয়ে কারচুপি করা হবে আর ক্ষমতাসীন “আওয়ামী লীগ” গায়ের জোরে নিজেদের হাতেই ক্ষমতা ধরে রেখে দেবে”.

বিরোধী কাজ কারবার চলার সময়েই মাথা তুলেছে নানা রকমের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন. বিরোধী পক্ষের লোকরা শুধু পুলিশের ওপরেই ইঁট পাথর ও হাত বোমা ছুঁড়ছে না, তারা এবারে শহরের যানবাহনের উপরেও আক্রমণ করেছে, যে বাসে করে একেবারেই নিরীহ মানুষরা যাতায়াত করেন আর এই আক্রমণে, অক্টোবর মাসের শেষ থেকে ইতিমধ্যেই ষাট জনের বেশী লোক মারা গিয়েছেন.

বুধবারে সন্ত্রাসবাদীরা আরও একটি অপরাধ করেছে. গাইবান্ধা জেলায় তারা রেলপথের কিছু অংশ ফিশ প্লেট সরিয়ে খুলে দিয়েছে (মনে হয়েছে যে, সেখানের লোকরা খুবই আক্ষরিক অর্থে বিএনপি ও জামাতের বাস, রেল-নৌকা রোখো স্লোগানের ডাকে সাড়া দিয়েছে). ফলে একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন লাইন চ্যুত হয়েছে ও চারজন নিহত হওয়া সমেত প্রায় একশ জন আহত হয়েছে. পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এই সন্ত্রাস আয়োজন করেছে জামাতের ছাত্র সংগঠন – ইসলামী ছাত্র শিবির. এখানে অবশ্য ঐস্লামিক মাদ্রাসায় পড়া ছাত্রদের ও নিরক্ষর বাংলাদেশীদের, প্রচলিত ধারণার ছাত্রদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ঠিক হবে না. তাও বরিস ভলখোনস্কি এদের ছাত্র ধরে নিয়ে বলেছেন:

“মঙ্গলবারে নির্বাচন বয়কটের নতুন শক্তি যোগ হয়েছে, এবারে ডাক দিয়েছে বাংলাদেশে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি – জাতীয় পার্টি. এই পদক্ষেপের গুরুত্ব হল যে, এই দলকে এর আগেই মনে করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের জোটের সঙ্গী, আর তারাও বয়কটের ডাক দেওয়ার মানে হল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দলকে একঘরে করার চেষ্টা”.

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, বাংলাদেশের এক বিখ্যাত বিশেষজ্ঞের মতে, নিজেই সংবিধানের গ্যারান্টি হিসাবে থাকা থেকে সরে গিয়েছেন, কারণ তিনি বলেছেন যে, তাঁর ক্ষমতা সীমিত. এই বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার হারুন উর রশিদ একসময়ে জেনেভায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের দপ্তরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন.

ফলে বাংলাদেশের সঙ্কট মোচনের দায়িত্ব নিজেদের উপরে নিয়েছেন বিদেশী কূটনীতিজ্ঞরা. রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও বেশ কিছু দেশ থেকে ইতিমধ্যেই বিরোধী পক্ষদের হিংসা থামিয়ে আলোচনায় বসতে আহ্বান করা হয়েছে. বুধবারে ভারতের প্রথম উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিদেশ সচিব সুজাতা সিংহ ঢাকায় এসেছেন. শুক্রবারে আশা করা হয়েছে যে, এই দেশে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের রাজনৈতিক প্রশ্নাবলী সংক্রান্ত সহ সচিব অস্কার ফার্নান্ডেজ তারাঙ্কেো আসতে পারেন.

প্রসঙ্গতঃ, মনে হচ্ছে যে, পরিস্থিতি অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে. কোন রকমের আলোচনায় বসা সম্ভব হবে না. রাজনৈতিক পরস্পর বিরোধীতার এক পক্ষ খুবই আকুল হয়ে ক্ষমতার দিকে হাত বাড়িয়েছে ও অন্য পক্ষ সন্ত্রাসবাদী কাজে মত্ত. দুই পক্ষই একে অপরের প্রতি শক্তি প্রয়োগ করছে. এই পরিস্থিতিতে বিদেশের শান্তিরক্ষকদের আহ্বান মনে হচ্ছে যে, না শোনা হয়েই থেকে যাবে.