স্বাভাবিক একচেটিয়া কোম্পানীদের জন্য এবারে তাদের কাজের বাইরে কোন রকমের খরচা বন্ধ করতে বলা হয়েছে. রাষ্ট্রীয় কোম্পানীদের সমস্ত লাভের অর্থ এখন থেকে হয় তাদের নিজেদের উন্নতির কারণে অথবা দেশের কোষাগারে যেতে বাধ্য হবে. এই ধরনের সমাধানের দিকে আইন প্রণেতাদের ঠেলে দিয়েছে দেশে ঘর বাড়ীর জন্য প্রয়োজনীয় জল-বিদ্যুত-তাপ ইত্যাদি বিষয়ে নতুন করে ভাড়া বাড়া, তার সঙ্গে রেল ভ্রমণের খরচ, ডাক সংক্রান্ত খরচা ইত্যাদি. এই সমস্ত বিষয়ে খরচা বেড়েই চলেছে অথচ একই সময়ে “রাশিয়ার ডাক ব্যবস্থা”, “গাজপ্রম”, “রসনেফ্ত”, “রাশিয়ার রেলপথ” ও অন্যান্য একচেটিয়া রাষ্ট্রীয় কোম্পানী, যাদের মূল নিয়ন্ত্রণ যোগ্য শেয়ার প্রশাসনের হাতেই রয়েছে, তারা দেশের নানা রকমের পেশাদার ফুটবল, হকি, বাস্কেটবল ও আরও অনেক রকমের খেলাধূলার সংগঠনের জন্য লক্ষ কোটি ডলার খরচা করে চলেছে.

সমাজে, অংশতঃ, রাশিয়ার ইন্টারনেট ব্লগারদের মধ্যে, খুবই সানন্দে রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রস্তাবকে গ্রহণ করা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রফেসর লিওনিদ পলিয়াকভ বলেছেন:

“সেই বিষয়ে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত উদ্যোগ, যাতে পেশাদার খেলাধূলার বিষয়ে অর্থ বিনিয়োগ রাষ্ট্রীয় কোম্পানীদের থেকে বন্ধ করা খুবই বোধগম্য ও তা যুক্তিযুক্ত. লোকে প্রশ্ন করছেন, কেন ক্লাবগুলি চালানোর খরচ, বিদেশী তারকা খেলোয়াড়দের জন্য বিশাল সাম্মানিক মূল্য, বাস্তবে রাশিয়ার সাধারণ করদাতাদের উপরেই চেপে বসেছে. স্বাভাবিক ভাবেই আইন প্রণেতারা এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে চান”.

২০১২ সালে “গাজপ্রম” রাশিয়ার “জেনিথ” ফুটবল ক্লাবের জন্য পর্তুগালের “পোর্টো” ক্লাব থেকে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড হাল্ক, “বেনফিকা” দল থেকে বেলজিয়ামের খেলোয়াড় ভিট্সেল এই দুজনকে এনেছিল. প্রত্যেকের জন্য দেওয়া হয়েছে চার কোটি ইউরো অর্থ. এমনকি “জেনিথ” দলের বহুদিনের যারা সমর্থক তারাও মনে করেছেন যে, এই খেলোয়াড়দের জন্য আলতো করে বললে বলা উচিত্ যে, বেশী বাড়াবাড়ি রকমের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে. আর এই ধরনের ঘটনা কোন রকমের বিরল ঘটনা নয়. সব মিলিয়ে রাশিয়ার হায়ার ফুটবল লীগে বিদেশী খেলোয়াড়ের সংখ্যা প্রায় দেশী খেলোয়াড়দের চেয়ে বেশীই হবে. অন্যান্য খেলাধূলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি শুধু অন্য দেশের খেলোয়াড়দের জন্য অর্থ ব্যয়ের পরিমাণেই খালি আলাদা হতে পারে.

সুতরাং এই বীজ, যা আজ পার্লামেন্ট সদস্যরা পুঁতেছেন, তা খুবই ভাল একটা জমিতে পড়তে পারে. কিন্তু খেলাধূলার বিশেষজ্ঞরা, আর তারই সঙ্গে ক্লাবগুলোর ডিরেক্টররা এই ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবী বিপদের দিকেই লক্ষ্য করতে বলেছেন. রাশিয়ার খেলাধূলা এখনও বাজার অর্থনীতির ব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত হতে পারে নি. নিজেরা নিজেদের খরচ তুলে নিতে সক্ষম হচ্ছে না. আর ব্যক্তিগত ব্যবসার মধ্যে সেই রকমের লোক যারা নিজেদের পকেটের পয়সা দিয়ে ক্লাব পুষবেন, তেমন পাওয়া যাচ্ছে কমই. আর একচেটিয়া কোম্পানীদের পক্ষ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা – এটা সেই ধরনের রাষ্ট্রীয় সমর্থনেরই বিকল্প মাত্র, যা না পেলে জাতীয় খেলাধূলার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাই নেই, এই রকমই মনে করেছেন বিশেষজ্ঞ লিওনিদ পলিয়াকভ, তিনি বলেছেন:

“যদি এই আইনের প্রকল্প এখন কার্যকরী হয়, তবে খুবই বেশী রকমের সম্ভাবনা রয়েছে যে, অংশতঃ রাশিয়ার হায়ার ফুটবল লীগ স্রেফ বন্ধ হয়ে যাবে ও তার মানের অবনমন হবে আর রাশিয়ার ফুটবল ক্লাবগুলো শুধু বিদেশী খেলোয়াড়ই নয়, এমনকি নিজেদের দেশের জনতাকেও মাঠে টেনে আনতে পারবে না. বিদেশী ফুটবল খেলোয়াড়দের রাশিয়ার করদাতাদের অর্থ দিয়ে আমন্ত্রণ জানানোর অভ্যাস অবশ্যই নিঃসন্দেহে ঠিক কাজ নয়. কিন্তু, একচেটিয়া কোম্পানীদের সহায়তা থেকে খেলাধূলাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে আর তাদের জন্য অন্য কোন রকমের ব্যবস্থা না করে দিয়ে ছেড়ে দেওয়াও চলতে পারে না”.

কিন্তু একচেটিয়া কোম্পানীগুলোকে তারা এই ধরনের ক্লাবকে কত অর্থ দিয়েছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য করা যেতে পারে. আর ক্লাবগুলো – সমাজে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রীয় কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে কোন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশী অর্থ সহায়তা পেলে তা খরচের পরিকল্পনা দিতে বাধ্য করা যেতে পারে. সেই রকমের ক্ষেত্রে আগে থেকেই বলা যেতে পারে যে, রাশিয়ার ফুটবল লীগে খুব নামী দামী খেলোয়াড়ের সংখ্যা কমে যাবে. কিন্তু বাচ্চাদের ও অপেশাদারদের খেলাধূলায় সহায়তা করা নিয়ে কেউ কিছু নেতিবাচক কথা বলছেন না. আর যদি এই আইনের প্রকল্প গৃহীত হয়, তবে একটা সুযোগ রয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানীর অর্থ দামী বিদেশী খেলোয়াড়দের কেনার জন্য ব্যয় করা হবে না, বরং রাশিয়াতে নিজেদের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্যই ব্যয় করা হবে.