ছয় মাস পরে ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে এই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা একেবারেই তুলে নেওয়া হতে পারে, অথবা তা অনেকটাই ঢিলে হয়ে যেতে পারে. তখন এটা খনিজ তেলের বাজারে কি ধরনের প্রতিফলন ফেলবে? এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও “আলর” নামের বিনিয়োগ কোম্পানীর বিনিয়োগ বিষয়ক প্রধান সের্গেই খেস্তানভ বলেছেন:

“যেহেতু নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা অনেকদিন ধরেই চলছে, ইরানের খনিজ তেল রপ্তানীর অনেকখানি ক্ষমতা বর্তমানে বন্ধ করে রাখা হয়েছে. এটা সেই ধরনের কোন বিশ্লেষণ করতে দেয় না যে, কতখানি খনিজ তেল কত তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছবে. এমনকি বিশ্বের বাজারে বাড়তি রপ্তানী কারকের উপস্থিতি দামের উপরেই চাপ সৃষ্টি করে. এখানে সবচেয়ে আগ্রহের ব্যাপার হল যে, ইরানের খনিজ তেলের রপ্তানী কতটা বেশী হতে চলেছে, আর তার ওপরেও নির্ভর করছে যে, বাজারের অন্যান্য রপ্তানীকারক দেশগুলো কতটা তৈরী থাকবে নিজেদের উত্পাদন কমাতে, যাতে দামের পড়ে যাওয়াকে আটকানো সম্ভব হয়. সমস্ত রপ্তানীকারক দেশই ওপেক সংস্থার সদস্য নয়. আর এই সংগঠনের সমস্ত সদস্য দেশও খুব একটা নিয়ম কানুন মেনে চলে না. নানা রকমের পরিস্থিতিই সম্ভব হতে পারে”.

ওপেক সংস্থার বিভিন্ন অংশীদার দেশের নানা রকমের সবচেয়ে কম দাম মেনে নেওয়ার সীমা রয়েছে. সৌদী আরব যেমন তাদের বাজেট ঘাটতি না করে ব্যারেল পিছু আশি ডলার পেলেই খুশী. আর ভেনেজুয়েলার দরকার কম করে হলেও ১১৫ ডলার. তাই কারাকাস থেকে এখনই ওপেক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, তেহরানের বাজারে প্রত্যাবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা আবার করে বিবেচনা করা হোক. বেশীর ভাগ লোকই পরিস্থিতি খেয়াল করে দেখতে চাইছেন, এই কথা উল্লেখ করে জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের জ্বালানী বিভাগের ডিরেক্টর আলেক্সেই গ্রোমভ বলেছেন:

“একটা পরিস্থিতি এমন তৈরী হতে পারে, যখন ইরানের খনিজ তেলের অনেক পরিমাণ একবারে বাজারে ছেড়ে দিয়ে দাম কমানো হতে পারে. কিন্তু এটা বলা যে, দীর্ঘকালীণ সম্ভাবনা হিসাবে এটা খনিজ তেলের বাজারে বড় কোন পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে বলে জোর দিয়ে বলতে আমি চাইব না. কারণ, তাও একটা সে যত বড় মাপের ক্রীড়নকই হোক না কেন, বাস্তবে সম্পূর্ণ চিত্রে বড় কোন পরিবর্তন আনতে পারবে না. সম্ভাব্য শুধু সাময়িক ঘূর্ণি. কিন্তু পরিণামে বড় ক্রীড়নকরা অবশ্যম্ভাবী ভাবেই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, আর তা অভ্যস্ত পথেই ফিরে আসবে”.

আজকের দিনে ওপেক সংস্থার সদস্য দেশগুলোর খনিজ তেলের উত্পাদনের সম্মিলিত পরিমাণ প্রত্যহ তিন কোটি ব্যারেল. এটা সারা বিশ্বের রপ্তানীর শতকরা ৪০ ভাগ. তাই ওপেক সংস্থার সিদ্ধান্ত বিশ্বের খনিজ তেলের বাজারে লক্ষ্যণীয় রকমের প্রভাব ফেলে. ১৪ই ডিসেম্বর ওপেক সংস্থার প্রতিনিধিরা (আর তাতে সেই ইরান, ইরাক, কুয়েইত, সৌদী আরব, ভেনেজুয়েলা, কাতার, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী, আলজিরিয়া, নাইজিরিয়া, ইকোয়েডর ও অ্যাঙ্গোলা দেশের লোকরাই থাকবেন) ভিয়েনা শহরে পরবর্তী অধিবেশনের জন্য সম্মিলিত হতে চলেছে. এখানে মনে তো হয় না যে, কোন হাল্কা ধরনের বিতর্ক হবে.