গণ প্রজাতন্ত্রী চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত দেশের পরে বিশ্বের তৃতীয় দেশ হয়েছে, যারা পৃথিবীর এই উপগ্রহের উপরে নিজেদের মহাকাশ যান নামাতে চলেছে.

অবাক হওয়ার তাই কিছুই নেই যে, চিনের মুখ্য সংবাদ মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রথম চাঁদে যাওয়ার মহাকাশ যান নিয়ে খবরকে বেজিংয়ে মনে করা হয়েছে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের বৃহত্ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আরও একটি বাস্তব প্রমাণ বলেই. এমন এক রাষ্ট্র – যা ভবিষ্যত সম্ভাবনায় নিজেদের মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু অর্থনীতি বা বাণিজ্য দিয়েই নয়, বরং মহাকাশ শিল্প ক্ষেত্রেও পিছনে ফেলে দিতে পারে. “আমরা আমাদের মহাকাশ সংক্রান্ত জাতীয় পুনরুজ্জীবনের স্বপ্নকেই বাস্তব করার প্রয়াস চালিয়ে যাবো”, এই কথা বলেছেন উড়ান কেন্দ্রের ডিরেক্টর ঝাঙ্গ ঝেনঝঙ্গ. লক্ষ্য করার মতো হল যে, গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের নতুন চেয়ারম্যান সি জিনপিনের নেতৃত্বে প্রশাসনের পরিকল্পনায় “মহান চিনের স্বপ্নই” বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্থান নিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার থেকে আগের মতই মহাকাশ গবেষণায় পিছিয়ে থেকে গত কুড়ি বছরে বেজিং মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণে অর্থব্যয় করেছে. এর ফলে তাদের পক্ষে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সামনে লাফ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে আর আজকের দিনে বিশ্বের মহাকাশ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান দখল করার সুযোগ হয়েছে”.

চিনের চন্দ্রযান “ইউইটু” উড়ানের খবর বাস্তবে এশিয়াতে আরও একটি খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ পরিকল্পনার সাথে একই সময়ে এসেছে. ভারতের পক্ষ থেকে নভেম্বর মাসের শুরুতে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ “মঙ্গলযান” ছাড়ার খবর, যা পাঠানো হয়েছে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ নিয়ে গবেষণা করার জন্য, তা গত রবিবারে লাল উপগ্রহের দিকে যাওয়ার পথে পা বাড়িয়েছে. যেমন আশা করা হয়েছে যে, এই উপগ্রহ মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে পৌঁছবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসে.

মঙ্গল অভিযানে সফল হলে ভারত এশিয়াতে প্রথম দেশে পরিণত হবে, যারা মঙ্গল নিয়ে গবেষণা করা দেশগুলোর ক্লাবের সদস্য হয়েছে. এই মুহূর্তে তাতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা. উল্লেখযোগ্য, যে চিন চেষ্টা করেছিল একই ধরনের প্রকল্প ২০১১ সালে করার, তবে তাতে অসফল হয়েছিল. সেই ভাবেই চিনের চেয়ে মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ভারত পিছিয়ে থাকলেও ভারত নিজেদের এশিয়ার প্রতিযোগীদের মঙ্গল প্রকল্পে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“প্রবণতা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে: নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প রূপায়নের প্রতি ঐতিহ্যবাহী মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে মুখ্য রাষ্ট্রগুলোর আগ্রহ কমার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের মহাকাশ প্রতিযোগিতা এখন চিন ও ভারতের শক্তি প্রয়োগের ফলে এশিয়াতে স্থানান্তরিত হয়েছে. মহাকাশ সংক্রান্ত প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যাওয়ার কারণ শুধু অতি দ্রুত বৃদ্ধি হওয়া উন্নতিশীল এশিয়ার অর্থনীতিগুলোই নয়, বরং তাদের পক্ষ থেকে নতুন বিশ্বমানের মর্যাদা আদায়ের লড়াইয়ের সঙ্গেই যুক্ত”.

যখন মহাকাশ গবেষণা নিয়ে কথা হয়, তখন এই সব প্রশ্ন শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে থাকে না, বরং থাকে বৃহত্ রাজনীতির প্রশ্নও. প্রসঙ্গতঃ এর আগে যেমন “সিনহুয়া” সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল যে, চিন তৈরী রয়েছে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে সহযোগিতা করতে, প্রথমতঃ ভারতের সঙ্গেই. অন্য সমস্ত বাদ দিয়েও এখানে কথা হতে পারে বিশ্বের মহাকাশ প্রযুক্তি ও পরিষেবা সংক্রান্ত বাজার নিয়ে, যা এশিয়ার নেতৃস্থানীয় ক্রীড়নকরা নিজেদের মধ্যে পরে বাঁটোয়ারা করতে বসবে. ভারতের মঙ্গল অভিযান প্রকল্পের খরচ হয়েছে সাত কোটি কুড়ি লক্ষ ডলার. এটা একই ধরনের প্রকল্পের চেয়ে ছয় থেকে সাত ভাগ কম, যা মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিনের ক্রীড়নকরা করে থাকে. আর এটা, কোন সন্দেহই নেই যে, আরও একটা কারণ, যা বিশ্বের মহাকাশ প্রতিযোগিতা এশিয়ার দিকে সরে যাওয়ার জন্য উদয় হয়েছে.