সব মিলিয়ে নষ্ট করে ফেলার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে প্রায় এক হাজার তিনশো টন বিষাক্ত রাসায়নিক বস্তুর. আমেরিকার জাহাজে শুধু সবচেয়ে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থই নষ্ট করে ফেলা হতে চলেছে – এটা প্রায় পাঁচশো টনের মতো. সেইগুলো নষ্ট করার জন্যই হাইড্রোলাইসিস প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হতে চলেছে. এই প্রক্রিয়ার ফলে যে সত্তর লক্ষ লিটার বর্জ্য পদার্থ তৈরী হবে, সেগুলোকে নতুন করে ব্যবহারযোগ্য করা ও বিপদ মুক্ত করার জন্য ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা কোম্পানীরা কাজ করবে. আসন্ন অপারেশনের সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করে বলেছেন রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার প্রতিনিধি সিগ্রিড কাগ:

“রাসায়নিক পদার্থ সিরিয়ার বন্দর শহর লাতাকিয়াতে আনা হবে, সেখানে সেগুলোকে প্যাক ও সীল করে রাখা হবে, তারপরে কয়েকটি জাহাজে করে সেগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া জাহাজে পাঠানো হবে”.

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিরিয়া জলসীমার বাইরেই রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলা হবে. বর্তমানে আমেরিকার জাহাজে এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হচ্ছে. এই অপারেশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে, যারা কয়েকদিন আগেও রাসায়নিক অস্ত্র জ্বালিয়ে নষ্ট করে থাকতো, তাদের সহায়তা করা হচ্ছে মস্কো থেকেই, কারণ রাশিয়াতে সামরিক রাসায়নিক অস্ত্র হাইড্রোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নষ্ট করার কাজ আজ বহুদিন থেকেই করা হচ্ছে. আর রাসায়নিক অস্ত্র সিরিয়ার এলাকা থেকে তাও বার করে নিয়ে যাওয়ার দরকার হবেই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত পরিষদের বিশেষজ্ঞ এলেনা সুপোনিনা বলেছেন:

“এই কাজে অনেক ঝুঁকি রয়েছে আর এটা খুবই দামী ব্যাপার. কিন্তু এটা সিরিয়ার এলাকাতে রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করতে যাওয়ার চেয়ে কম বিপজ্জনক, কারণ সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে ও সরকার বিশেষজ্ঞদের জন্য কোন রকমের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারছে না”.

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা – যাঁরা রাসায়নিক অস্ত্র প্যাক ও সীল করার কাজ পরিদর্শন করবেন, তাঁদের সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে তিরিশজন করা হয়েছে. এখন বিশেষজ্ঞ মহল খুবই নিরাপত্তা বিষয়ক কড়াকড়ির মধ্যে কাজ করছেন: পর্যবেক্ষকদের যাতায়াতের রাস্তা খুবই কড়া ভাবে গোপন রাখা হয়েছে. এই প্রসঙ্গে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন জেনারেল সলিম হার্ব বলেছেন:

“সশস্ত্র জঙ্গী গোষ্ঠীদের নিয়ন্ত্রণ করছে কাতার, তুরস্ক ও সৌদী আরব থেকে আর আমি মনে করি যে, এই সমস্ত জঙ্গীদের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে যাতে তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থার পর্যবেক্ষকদের উপরে হামলা করে, যাতে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া যায় ও তা দিয়ে আবার করে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশনের প্রশ্নে ফিরে আসা যায়”.

কম ক্ষতিকর বাকী আটশো টন রাসায়নিক অস্ত্র অন্যান্য দেশের এলাকাতে নষ্ট করে ফেলা হতে চলেছে. তিরিশটিরও বেশী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে. যে সংস্থা এই কাজের জন্য টেন্ডার জিতে যাবে, তারা এই কাজ করার জন্য চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার ইউরো পাবে. রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করণ সংস্থার তৈরী করা রুটিন অনুযায়ী আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সমস্ত রাসায়নিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলা হবে.