গণ প্রজাতন্ত্রী চিন মোটেও এই প্রথমবার ভারতের কোন উচ্চপদস্থ নেতার অরুণাচল প্রদেশ সফরের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে না. ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে অরুণাচল প্রদেশ সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ. ঠিক তখনই বেজিংয়ের পক্ষ থেকে “ভারতীয় নেতার সফরের বিষয়ে খুবই গভীর অসন্তোষ প্রকাশ” করা হয়েছিল. আর ভারতের কাছ থেকে দাবী করা হয়েছিল এই “বিতর্কিত এলাকায় অপ্রিয় পরিণতির জন্য উস্কানি না দেওয়ার জন্য”, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“মনে হতে পারে যে, যে কোন প্রথম বর্ষের ছাত্রের জানা উচিত্ যে, অরুণাচল প্রদেশ – এটা অখণ্ড ভারতেরই এক রাজ্য, কিন্তু বেজিং শহরে সক্রিয়ভাবেই এই রাজ্যের ভারতের অধীনে থাকার ব্যাপারেই বিতর্ক করা হচ্ছে. এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিন শুধুমাত্র কড়া ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, বরং খুবই বাস্তব সমস্ত পদক্ষেপ নেয়, যাতে এলাকা সংক্রান্ত বিষয়ে স্ট্যাটাস-কো পরিবর্তিত হয়”.

শেষ উদাহরণ – চিনের জাপানের সঙ্গে এলাকা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে বিরোধের বৃদ্ধি. নতুন করে দুটি আঞ্চলিক ভাবে নেতৃস্থানীয় দেশের মধ্যে বিরোধের বৃদ্ধি হয়েছে, যখন গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ঠিক করেছিল যে, তারা পূর্ব-চিন সাগরের উপরে চিনতে পারার মতো করে নিজেদের আকাশ সীমা নিরুপণ করবে, বিশেষত সেই সেনকাকু দ্বীপপূঞ্জ এলাকাতেই, যার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে জাপানের হাতে ও চিন, যা নিয়ে বিতর্ক করছে.

বেজিং শহরে দাবী করা হয়েছিল যে, ২৩শে নভেম্বর থেকে অন্যান্য দেশগুলোর সমস্ত বিমান – তা যেমন সামরিক, তেমনই অসামরিক বিমান, আগে থেকে চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরে তাদের উড়ানের পরিকল্পনা জমা দেবে আর এই চিহ্নিত করা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময়ে চিনের তরফ থেকে করা পরিচয় জানানোর মতো প্রশ্নের উত্তর দেবে. চিনের পক্ষ থেকে যারা এই আকাশ সীমা “লঙ্ঘণ” করবে, তাদের উদ্দেশ্যে একটা সাবধান বাণী জানানো হয়েছিল যে, প্রয়োজনে “প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা”ও নেওয়া হতে পারে.

সুতরাং কে এখন ভারসাম্যের নৌকায় টালমাটাল অবস্থা তৈরী করছে? এই প্রশ্ন নিয়েই এশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহল এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে. প্রত্যেকেই এর উত্তর দিচ্ছে নিজেদের মতো করে. কিন্তু যে রকমের উত্তরই দেওয়া হোক না কেন, বাস্তব ঘটনা স্পষ্টই সকলে দেখতে পাচ্ছে. যদি ভারতীয় রাষ্ট্রপতি দিল্লীর আইন সঙ্গত অধিকারের মধ্যে থাকা অরুণাচল প্রদেশের এলাকা ভ্রমণ করেন, তবে চিন অন্যের এলাকার উপরে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষার এলাকা তৈরী করছে – সেই সমস্ত দ্বীপের উপরে, যা জাপান নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“খুবই সম্ভাব্য যে, বেজিংয়ের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাজ কারবার – রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, যার দুটো লক্ষ্য রয়েছে. প্রথমতঃ, দেশের ভিতরে দেশপ্রেমী মানসিকতাকে নতুন করে উদ্বুদ্ধ করা. দ্বিতীয়তঃ – প্রতিবেশীদের বেজিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্বন্ধে অবহিত করা. যদিও প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আমরা প্রতীক নিয়ে যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না, তবুও এই ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সংঘর্ষ হতেই পারে. কারণ সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে, যে কোন রকমের আচমকা ব্যাপার থেকেই”.

যুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে সীমান্ত লঙ্ঘণ করার বিষয়ে কঠোর বাধা ও অন্যদেশের সার্বভৌমত্বে মর্যাদা দেওয়া এখন বিশ্বের বৃহত্ রাষ্ট্রদের নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে. বিগত সময়ের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমানে থাকা স্ট্যাটাস-কো আবার করে দেখার জন্য আরও বেশী করেই ঘটনার কেন্দ্র এশিয়াতে সরে আসছে. তার মধ্যে আবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশী করে সমস্যা রেখে দিয়েছে একবিংশ শতকের বৃহত্ রাষ্ট্র – চিন.