ফিকির তথ্য অনুযায়ী আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে, যা ক্যালেন্ডারের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের সঙ্গে মেলে, বৃদ্ধি হয়েছে বছরের হিসাবে শতকরা ৪, ৮ ভাগ. এটা প্রথম ত্রৈমাসিক অর্থাত্ এপ্রিল থেকে জুনের চেয়ে শতকরা ০, ৪ ভাগ বেশী ও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে শতকরা ০, ২ ভাগ বেশী.

অর্থনীতিবিদরা সঙ্গে সঙ্গেই বলেছেন যে, “ভারতীয় অর্থনীতির একটা মাঝামাঝি সেরে ওঠার লক্ষণ” তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন. অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনীতিবিদ সৌগত ভটাচার্য ঘোষণা করেছেন যে, “ভারতীয় অর্থনীতি বেঁচে ওঠা ও বৃদ্ধি অধ্যায়ে এসে পড়েছে আর আমি মনে করি যে, আমরা এখন একটা বিনীত ও মাঝারি মানের সুস্থ হওয়াকেই দেখতে পাচ্ছি”.

“অর্থনীতির সবচেয়ে খারাপ সময় পার হওয়া গিয়েছে” - এই কথা ভট্টাচার্য, যা বলেছেন, সেই কথাকেই সমর্থন করে বলেছেন “ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার” ভারতীয় শাখার সভাপতি ও প্রধান কাকু নাখাতে.

এই ধরনের আশাবাদী মূল্যায়ণ মনে করা যেতে পারে একটা সময়ের আগেই করা ঘোষণা বলে, তাই বরিস ভলখোনস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

“প্রথমতঃ, এই সমস্ত সূচক এখন প্রয়োজনের চেয়ে অনেক দূরে. অর্থনীতিবিদদের হিসেব মতো, দেশের জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি, মূল সম্পদের ক্ষয় ও অন্যান্য কারণকে হিসাবের মধ্যে ধরলে, শুধুমাত্র দেশের জনগনের জীবন যাপনের গুণমান বজায় রাখার জন্যই ভারতের গড় বার্ষিক উত্পাদনের হার হওয়া উচিত্ কম করে হলেও শতকরা ৬ ভাগ. আজ বছর শেষে উন্নয়নের হারকে শতকরা পাঁচের চেয়ে বেশী হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে না”.

দ্বিতীয়তঃ, পূর্ববর্তী ত্রৈমাসিকের চেয়ে সূচক ভাল হওয়া নিজের থেকে কিছুই বলে দেয় না – ২০১৩-২০১৪ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ছিল. তাই নির্দিষ্ট রকমের প্রত্যাবর্তন আশা করা যেতেই পারত.

তৃতীয়তঃ, গত ত্রৈমাসিকে বেশ কয়েকটি কারণের একসাথে থাকাও কারণ হয়েছে, যা অর্থনীতির ওপরে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ভাল পরিণাম নিয়ে আসে. যেমন এবারের বর্ষা – কিন্তু বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক পরিবেশ থাকা স্বত্ত্বেও কৃষি উত্পাদন গড় বার্ষিক উত্পাদনের সব মিলিয়ে করা বার্ষিক সূচক শতকরা ৪, ৬ ভাগের চেয়ে কমই হয়েছে, তাই আবারও ভলখোনস্কি বলেছেন:

“তাছাড়া এই ত্রৈমাসিকে মন্ত্রীসভা বড় বিদেশী নেটওয়ার্কের জন্য দেশের খুচরো বাজারে ঢোকার পথ খুলেছে, আর এটা অবশ্যই দেশের বিনিয়োগের পরিবেশে পরিবর্তন না করে রাখে নি আর বিনিয়োগের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিয়েছে. যদিও এখনও খুবই কঠিন হবে বলা যে, কতটা স্থিতিশীল হবে এই প্রবণতা. কিন্তু আবার অন্য দিক থেকে এটা খুবই গুরুতর সামাজিক- অর্থনৈতিক পরিণামের কারণ হয়ে দাঁড়াবে – অংশতঃ, ভারতের বহু শত লক্ষ ছোট ও মাঝারি কারবারী মানুষের ব্যবসা লাটে উঠিয়ে দেবে”.

শেষমেষ সবচেয়ে বিপজ্জনক সঙ্কেত তারই সঙ্গে যুক্ত যে, বাস্তব উত্পাদনের ক্ষেত্র গুলি মোটেও সবচেয়ে ভাল সূচক দিচ্ছে না, দিচ্ছে ব্যাঙ্ক, বীমা ও স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্র – এই সব ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে শতকরা দশ ভাগ. তাই বোঝা যাচ্ছে যে কেন অর্থনীতির “সুস্থ” হওয়ার বিষয়ে প্রথমে কথা বলে উঠেছেন সেই ব্যাঙ্ক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকরা.

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, এই ক্ষেত্রগুলোর বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশী করে ফাঁপিয়ে তোলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৮ – ২০০৯ সালে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণ হয়েছিল আর তার পরিণাম সারা বিশ্বেই টের পাওয়া গিয়েছিল, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রুশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

“তার ওপরে আবার ভারতের যে কোন প্রক্রিয়া নিয়েই তথ্যকে আজ প্রাক্ নির্বাচনী পরিস্থিতির সঙ্গে আলাদা করে দেখা যেতে পারে না. বোঝাই যাচ্ছে যে, দেশের মন্ত্রীসভার প্রতি নিষ্ঠাবান সংবাদ মাধ্যমের জন্য লাভজনক হল দেশের অর্থনীতির ভাল হওয়া নিয়ে খবর “বারবার করে বলা”, যাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি যে ঠিক তা প্রমাণ করা যায়. কিন্তু বাস্তব সেই রকমের একটা রঙীণ ছবির চেয়ে অনেক দূরে রয়েছে, যা আজ আশাবাদীরা এঁকে চলেছেন”.

সুতরাং দেখাই যাচ্ছে যে, কিছুটা পরিসংখ্যানের দিক থেকে ভাল হওয়া প্রথমতঃ কোন ভাবেই ভারতের বেশীর ভাগ জনগনের উপরে কোন প্রভাব ফেলবে না, আর দ্বিতীয়তঃ, কোন ভিত্তি নেই দীর্ঘকালীণ সময়ের জন্য খুবই আশাবাদী থাকার. এই ভেবে বরিস ভলখোনস্কি মনে করেছেন যে, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর সংশোধনের কথা বোধহয় উঠবে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের পরেই.