অ্যাপার্টমেন্ট, বাংলো, প্রমোদ তরী, বহুমূল্য অলঙ্কার – এক কথায় বলতে গেলে, বিদেশে সন্ত্রাসকার্য অথবা দুর্নীতির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির সন্ধান রাশিয়ায় পাওয়া গেলে তা অতঃপর বাজেয়াপ্ত করা হবে. তাদের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হবে. বাজেয়াপ্ত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাদের, যারা ঐ অপরাধমুলক কার্যকলাপের শিকার হয়েছে. এই প্রসঙ্গে বলছেন রাশিয়ার জাতীয় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিষেবা অ্যাকাডেমির লেকচারার কিরা সাজোনোভা. –

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে সেই ক্ষেত্রে, যদি তত্সম্পর্কিত বিদেশী আদালতের রায় বলবত্ থাকে. হ্যাঁ, বিভিন্ন দেশের ফৌজদারী আইনধারায় হেরফেরের কারণে মতবিভেদের উদ্ভব হতেই পারে, হয়তো বাড়তি দ্বিপাক্ষিক সম্মতিচুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজন হবে. যেমন, এক্সট্র্যাডিশনের প্রশ্নে. ব্যবহারিক সমস্যার নিষ্পত্তি করা হবে প্রতিটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী.

এই খসড়া আইন রাশিয়াকে কালো টাকা সাদা করার বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করবে. এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক প্রয়াসে নিজস্ব অবদান রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত রাশিয়া গ্রহণ করেছিল কয়েক বছর আগেই. আইনজীবি কিরা সাজোনোভা বলছেন যে, অতঃপর এই অভিমুখে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করার সময় ঘনিয়ে এসেছে. –

রাশিয়া প্রায় ১০ বছর হল অর্থ লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক ব্যবস্থা সংকলকদের সংস্থার সদস্য. উপরন্তু রাশিয়া কালো অর্থ সাদা করার প্রতিরোধী সংস্থা ‘এগমন্ট’-এর সদস্য. সুতরাং রাশিয়ার আইন মন্ত্রকের এই নতুন উদ্যোগ অপরাধমুলক উপায়ে রোজগার করা কালো অর্থ সাদা করার বিরুদ্ধে সংগ্রামে একটি বড় পদক্ষেপ.

তদুপরি, রাশিয়ার আইন প্রনয়ণকারীরা চিন্তাভাবনা করছেন রাশিয়ার ফৌজদারী আইনীধারায় সম্পত্তি বাজোয়াপ্ত করার মতো সাজা আবার ফিরিয়ে আনার. আজকের দিনে অপরাধী সাব্যস্ত ব্যক্তির শুধু সেই অর্থ ও সম্পদই বাজেয়াপ্ত করা যায়, যা অর্জন করা হয়েছে প্রমাণিত অপরাধমুলক কার্যকলাপের মাধ্যমে. অতএব হাতিয়ে নেওয়া অর্থ বা সম্পত্তির কেবলমাত্র সামান্য অংশ সরকারি কোষাগারে বা ক্ষতিগ্রস্থ লোকেদের কাছে ফেরত আসে. রাষ্ট্রীয় দ্যুমার সাংসদরা ক্ষতিসাধনের আনুপাতিক ক্ষতিপূরণের বিল আনতে চাইছেন. উপরন্তু শুধুমাত্র অপরাধীর ব্যক্তিগত হেফাজতে থাকা সম্পত্তিই নয়, তার নিকটাত্মীয়দের সম্পত্তিও. এই প্রসঙ্গে বলছেন দ্যুমার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক পরিষদের সদস্য আলেক্সান্দর মিখাইলভ. –

মিখাইলভ বলছেন – সাধারণতঃ এরকম হয়, যে যাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তার না থাকে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট, না থাকে ব্যাংক ব্যালান্স. আর তার পত্নীর অ্যাকাউন্টে হয়তো বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে, যাতে হাত দেওয়া যায় না, কারণ সেটা অন্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তি. এখানে একধরনের দলগত দায়ভারের ব্যবস্থা স্থাপন করা উচিত্.

সবচেয়ে ঘন ঘন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয় ইতালিতে মাফিয়াদের এবং চীনে দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের. ফ্রান্সে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে শুধু মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ অথবা অবৈধ উপায়ে মাদকদ্রব্য উত্পাদন অথবা পাচার করার অপরাধে. অধিকাংশ দেশেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ আইনানুগ, কিন্তু সেটা ক্ষতিসাধনের অঙ্কের সমানুপাতিক.