মার্কিন অর্থমন্ত্রনালয়ের তথ্যমতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে কম করে হলেও বাড়তি ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের পথ প্রশ্বস্ত করবে। আর এর অর্থ অচ্ছে অতিরিক্ত আরো কয়েক হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আর অন্যদিকে ইরানের অন্যতম বানিজ্যিক সহযোগি দেশ জার্মানি আশা করছে যে, নিষেধাজ্ঞা তুলে ফেলার পরে ইরানি বাজারে নিজেদের রপ্তানি পণ্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ইউরো আয় করা যাবে। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পূর্বে দেশটিতে জার্মানির পণ্যের চাহিদা এমনটিই ছিল। শুধু তাই নয়, জেনেভা সমঝোতার অনেক আগেই ইরানে মার্কিন কোম্পানীগুলোর প্রতিনিধিরা সফর করেছেন। ইউরোপীয় বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুোর সাথে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্যই ওই সফর অনুষ্ঠিত হয়। বারাক ওবামার জন্য একে একটি ভাল সুযোগ বলা যেতে পারে।

ইরানি চাহিদা পূরণ করে মার্কিন অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এদিকে ওবামা ও জন কেরিকে নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে মার্কিন রাজনীতিতে। তাই বিতর্ক এড়াতে কেরিকে আলাদাভাবে বিশেষ ভিডিও বার্তায় ব্যাখ্যা করতে হয়েছে যে সত্যিকার অর্থে জেনেভা সমঝোতা বলতে কি বোঝানো হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অপরিবর্তিতই থাকছে। আমরা এর বিনিময়ে ইরানের সাথে কিছু চুক্তি পূরণ করতে যাচ্ছি। তেহরান খুব বড় অংকের যে অর্থ পাচ্ছে না। আর যদি ইরান শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে পূনরায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। আমরা তাদের জন্য নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করবো মাত্র। তেহরান নিজেদের তেল বিক্রি করে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেতে পারে।“

ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বেশ ভালভাবেই বহাল ছিল। এটি ইরানের অর্থনীতির ওপর আঘাত হেনেছিল। আর এখন আমরা নিজেরাই ওই আঘাতের পরিচর্চা করার চেষ্টা করছি। এমনটি বলছেন সেনাটর লিনদসি গ্রেম। তিনি বলেন, ''জেনেভা সমঝোতায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে প্রাথমিক পর্য়ায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের পথ তৈরী করে দেয়া হল। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রকল্পের ওপর কোন প্রভাবই ফেলবে না। ১০ বছর আগেও ইরানের ২০০ সেন্টিফুট ইউরেনিয়াম ছিল এবং আজ তাদের এ পরিমান হচ্ছে ১৮ হাজার। উত্তর কোরিয়ার জন্য আমরা কখনও তা করেনি। তারা চুল্লি চালু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যখন উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তখন কোরিয়ানরা চু্ক্তি বাতিল করে নিজেদের অর্থ ফেরত নিয়ে গিয়েছিল।“

ইরানকে নিয়ে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতি ওবামাকে ঠিক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিকসনের সময়কালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যিনি চীনের সাথে নতুন করে সম্পর্ক তৈরী শুরু করেছিলেন। আর ওই সময়েও নতুন বন্ধুত্বের বিরোধীতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এবং শুরুতেই ছিল জাপান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির ক্ষেত্রে কংগ্রেসে বিরোধী পক্ষের তেমন কাউকে দেখা যায়নি।

তবে মার্কিন প্রশাসনকে দুই প্রধান আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানক ইসরাইলি ও আরব পন্থিদের সাথে সমন্বয় করার নজির আগে ছিল না। বিগত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই বেশি সংক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত নতুন আইন নিয়ে আলোচনা চলছে মার্কিন কংগ্রেসে। নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করার জন্য ওবামাকে এখন “ইরানি বিজয়” অর্জন করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।