প্রথমে আঙ্কারা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিল ২০০৭ সালে, আর দু’বছর ধরে আলোচনার পরে ২০১২ সালে এই সংস্থায় আলোচনার সহকর্মী হিসাবে যুক্ত হয়েছিল, যেমন ভাবে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও বেলোরাশিয়া. বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ ছাড়া তুরস্ক খুবই সক্রিয়ভাবে শুল্ক সঙ্ঘে যোগদান নিয়েও তাদের ধারণাকে বেশ জোর দিয়েই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে ইউরো-এশিয়া অর্থনৈতিক জোটেও যোগ দিতে চেয়েছে. অন্য ভাষায় বলতে হলে তুরস্ক তাদের ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় সঙ্ঘে যোগদানের ইচ্ছার সঙ্গে এবারে এক নতুন দিক এই ইউরো-এশিয়া সমাকলনের সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে.

একদিক থেকে তুরস্কের স্ট্যাটাস – ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ হিসাবে থাকাতে, তা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ইতিবাচক ভাবে সদস্য হওয়ার উপযুক্ত বলে “পরামর্শ দেওয়া” যেতে পারে না. আবার অন্য দিক থেকে, আচমকা ভাবে ও সম্ভাবনাময় বলেই তুরস্কের এই আবেদনকে দেখা দরকার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নতুন ভাবে আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়ে অত্যাধুনিক প্রচেষ্টা বলেই. এটা ঠিক যে, আঙ্কারা মনে তো হয় না যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য আলাদা করে ন্যাটো জোট, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক স্ট্র্যাটেজিক ভাবে এই জন্য নতুন করে ঠিক করতে যাবে. কিন্তু এটা খুবই স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা এবারে নিজেদের বড় ভাইদের থেকে দূরে সরে বসতে চাইছে, আর সেটা কৌশলগত কারণেই. এরই মধ্যে তুরস্কের এই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে পর্যবেক্ষক হিসাবে যোগদান, যেখানে এমনিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুই সহকর্মী দেশ রয়েছে, যেমন ভারত ও পাকিস্তান, তাতে কোন বিপজ্জনক কিছু হওয়ার আশঙ্কা নেই. বরং উল্টো সেই যেমন সিরিয়া ইত্যাদি অন্যান্য প্রশ্ন নিয়েই অন্য ভাবে দিক পরিবর্তনের একটা সুযোগ করে দেয়.

আর ভবিষ্যত সম্ভাবনা হিসাবে কি রকম সহজ ভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জোটসঙ্গীদের ঝেড়ে ফেলে থাকে, সেটা নজর করলে, রেঝেপ এরদোগানের জন্যও একই রকমের ভাগ্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে. কে জানে, হতে পারে যে, তুরস্ক আরও গভীর স্ট্র্যাটেজিক সংশোধন করে ফেলতে পারে ও হতে পারে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্পূর্ণ অর্থেই সদস্য দেশে পরিণত হতে পারে?

মনে হয়েছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় তুরস্কের যোগদানের ইচ্ছা যুক্ত রয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে মধ্য এশিয়ার তুর্কী “এলাকায়” ঢুকে পড়ার জন্য, যা বর্তমানে রাশিয়া ও চিন অভিভাবকের মত পালন করছে. অন্যদিক থেকে, আঙ্কারা এই পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্টই ব্রাসেলসকে একটা চাবুক মেরেছে, যাদের সঙ্গে তুরস্কের আজ বহু বছর ধরে বিরক্তিকর আলোচনা চলছে সেই ইউরোপীয় সঙ্ঘে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের যোগদানের বিষয় নিয়ে. বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় সমাকলন তাদের বাড়তি করে কাছে আসার সুযোগ করে দিতে পারে পর্যবেক্ষক দেশ ভারতের সঙ্গে আরও কাছ থেকে সহযোগিতার জন্য, যাতে ইরান ও পাকিস্তানকে আটকে রাখা যেতে পারে, কারণ তুরস্কের সঙ্গে এই দুই দেশের সম্পর্ক সবসময়ে ঠিক থাকে নি.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় তুরস্কের আরও কাছে আসার পথে অন্তরায় হয়ে রয়েছে ঐস্লামিক ও সিরিয়ার কারণও. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলির ধর্ম নিরপেক্ষ নেতৃত্ব খুবই সাবধান হয়ে রাজনৈতিক ভাবে ইসলামের প্রসারকে দেখেছেন, যা সরকারি ভাবেই তুরস্কে এখন দ্রুত উপরে উঠে আসছে. আঙ্কারার পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সহায়তা দেওয়াও মনে তো হয় না যে, তুরস্ক ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভাবে ভরসা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়তা করবে.

আলাদা করে দেখা হয়েছে চিন- তুরস্কের বাড়তি ভাবে তৈরী করার প্রচেষ্টা সেই “গ্রেট সিল্ক রোডের অর্থনৈতিক বন্ধনীকেও”. যদিও বোঝা যাচ্ছে যে, এই প্রকল্প যেমন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, তেমনই তার বাইরেও.

অন্য কথায় বলতে হলে, বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নতুন করে কাঠামো গঠন, অর্থাত্ তুরস্কের পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে যোগদান ভাল অর্থেই এই সংস্থার ঠাণ্ডা হয়ে থাকা এলাকাকে “ফাটিয়ে প্রসারিত” করতে পারে. ইউরো-এশিয়া এলাকাতে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠন ও প্রকল্প তৈরীর জন্যও সুযোগ ও সম্ভাবনা এনে দিতে পারে. এই সবই – “আমেরিকার নয়” এমন বিশ্ব তৈরীর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ. এই সংস্থা আজ অনেকদিনই হল মধ্য এশিয়ার “কিশোরের পোষাক” ছেড়ে বড় হয়ে গিয়েছে, এবারে সময় এসেছে “বড়দের স্যুট” পরে দেখার.