আজ দামাস্কাসের রাশিয়ার দূতাবাস সাধারণ কাজই করে চলেছে. তবে এটা সত্যি যে, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবারে বাড়াতে হয়েছে. গতকাল সন্ধ্যায় যেখানে রুশ দূতাবাস রয়েছে সেই এলাকায় সরকারি বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে মাইন ছুঁড়ে আঘাত করার ফলে একটি মাইন এই দূতাবাসের এলাকাতেই ফেটেছে – আরও একটি খুবই কাছে.

রাশিয়ার নাগরিকরা এখানে আহত কেউ আহত হন নি. একজন সিরিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছেন ও ন’জন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে দূতাবাসের সিরিয়ার রক্ষীরাও রয়েছে, তারা আহত হয়েছেন. দূতাবাসের বাড়ীটিতে সামান্য ক্ষতি হয়েছে, খবর দেওয়া হয়েছে সিরিয়া থেকে, যা রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের সাইটে রয়েছে.

সিরিয়ার সরকার প্রয়োজনীয় রকমের সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয় ভেবে বহু দেশের পক্ষ থেকে, তাদের মধ্যে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও একসারি আরব দেশও সেই গত বছরেই সিরিয়া থেকে নিজেদের দূতাবাসের কর্মীদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে. তারই মধ্যে সেই দেশের সরকার সব কিছুই করার চেষ্টা করছে, যাতে শান্তিপ্রিয় জনগনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মিশনের সুরক্ষা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়. কিন্তু শতকরা একশ ভাগ নিরাপত্তার জন্য দরকার হল দামাস্কাসের উপকণ্ঠে জঙ্গীদের ধ্বংস করা, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করে নিকটপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই সেরিওগিচেভ বলেছেন:

“উপকণ্ঠের এলাকা গুলোতে গণহারে জঙ্গীমুক্ত করা দরকার. আর এটা আবার দেশের নিরীহ মানুষের জন্যই বিপজ্জনক, কারণ জঙ্গীরা তাদের পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে. বাশার আসাদের সরকার ও সামরিক বাহিনীর লোকরা চেষ্টা করছে অন্য পথে: ফাঁদ পেতে ও আরও নানা ভাবে, যাতে জনতার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়”.

বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার সরকার জঙ্গী ধ্বংস করার বিষয়ে সফল অভিযান করছে. আর শহরের শান্তিপ্রিয় এলাকাতে বোমা বর্ষণ – এটা দুঃখের হলেও, কিন্তু এই বিরোধের এক এড়ানো যায় না এমন পরিণাম, আর রাশিয়ার দূতাবাসে বোমা পড়াটা মোটেও কোন আচমকা ঘটা ঘটনা নয়, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী বরিস দোলগভ বলেছেন:

“এখানে লক্ষ্য হল, সবার আগে মনোযোগ আকর্ষণ করা. এটা করা হচ্ছে একটা মনস্তাত্বিক উদ্দেশ্য নিয়ে: দূতাবাসের প্রতিনিধিদের ভয় দেখানো ও রাশিয়ার লোকদের একটা সঙ্কেত দেওয়া, যে সরকার বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীদের তরফ থেকে শান্তি স্থাপনের প্রয়াস এই ধরনের মূল্যই পাবে. কোন সন্দেহই নেই যে, এটা করা হয়েছে একটা সামাজিক মতামত তৈরীর উদ্দেশ্যে”.

সিরিয়াতে রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশন এর আগেও আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে. এই বছরেই দুবার সেখানে মাইন ছুঁড়ে আঘাত করা হয়েছে. ৪ঠা জুন দূতাবাসের এলাকায় চারটে মাইন পড়েছিল. তখন স্থানীয় শান্তিরক্ষক বাহিনীর লোকরা আহত হয়েছিল. ২২শে সেপ্টেম্বর মাইন ফেটেছিল দূতাবাসের মধ্যেই. তখন দূতাবাসের তিনজন কর্মী আহত হয়েছিল.