কিন্তু এই অশান্ত প্রদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একটা প্যারাডক্স হয়েই আমেরিকার পাকিস্তানকে নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্যই সাধন করতে পারে, এই রকম মনে করেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি. তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে একটা পারস্পরিক বিরোধ তৈরী করে দিতে পারে আর তাই দিয়ে দেশের জনগনের বাইরের থেকে চাপকে আটকানোর ক্ষমতাকেও কমিয়ে দিতে পারে.

খাইবার-পাখতুনভা প্রদেশে প্রতিবাদ গত সপ্তাহের শেষে শুরু হয়েছিল, কারণ হয়েছিল এক মাদ্রাসায় আমেরিকার ড্রোন বিমান থেকে আঘাত করে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রকে মেরে ফেলা হয়েছিল. এই প্রতিবাদের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল এই প্রদেশের প্রশাসনে থাকা পাকিস্তানের তেহরিক-এ-ইনসাফ দল. সেই দলের নেতা পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ইমরান খান.

তেহরিক দল শুধু নিজেদের প্রদেশে প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হয় নি, তারা আবার বুধবারে নিজেদের প্রতিনিধি শিরিন মাজারিকে দিয়ে পাকিস্তানে স্থায়ী ভাবে থাকা সিআইএ সংস্থার গুপ্তচরের নাম ফাঁস করে দিয়েছে. সংবাদ মাধ্যমে তাঁর নাম বলা হয়েছে ক্রেইগ ওস্থ আর দাবী করেছে এই লোক ও সিআইএ সংস্থার প্রধান জন ব্রেন্নানকে কয়েকদিন আগের রকেট হামলার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর.

তার ওপরে আবার, এই সপ্তাহের শুরুতে তেহরিক দলের পক্ষ থেকে পেশোয়ার শহরের আদালতে এক দাবী পত্র পাঠানো হয়েছে, যাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও বেশ কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীদের পাকিস্তানের এলাকায় আমেরিকার ড্রোন বিমান আঘাত বন্ধ করতে না পারার জন্য আদালতে অভিযুক্ত হিসাবে হাজির করার কথা রয়েছে.

এই প্রসঙ্গে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রসঙ্গতঃ এই সব কাজই পাকিস্তানকে নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে কোন রকমের পরিবর্তন করতে পারে নি, এই দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘণ করা বন্ধ করা দেখা যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন মোটেও করতে যাচ্ছে না. শুক্রবার সকালেই খবর এসেছে যে, পাকিস্তানে আবারও ড্রোন হামলা করা হয়েছে ও তাতে দু’জন নিহত হয়েছে”.

স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এই আঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজকর্মের বিরুদ্ধে নতুন ঢেউয়ের মতো প্রতিবাদ ডেকে আনতে পারে. কিন্তু একটা প্রশ্নের উদয় হয়: এই ধরনের প্রতিক্রিয়াই কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক যে রকমের চাইছে সেই রকমের নয়? একই প্রশ্ন নিয়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“তারপরে যখন এই বছরের মে মাসে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ দল দেশের সর্বজনীন নির্বাচনে প্রচুর ভোটে জয়লাভ করেছে ও তাদের নেতা নওয়াজ শরীফ দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে একটা কঠিন প্রশ্নই উপস্থিত হয়েছিল: কি করে পাকিস্তানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাস্তবোচিত ভাল সম্পর্ক রাখা ও সামাজিক ভাবে খুবই তীক্ষ্ণ ও নেতিবাচক আমেরিকা বিরোধী মনোভাবের মতো দুটি পরস্পর বিরোধী বিষয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখা সম্ভব হতে পারে? নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পদক্ষেপগুলো দেখে মনে হয়েছিল যে, পাকিস্তান তৈরী রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার জন্য, অন্ততপক্ষে দেশের নেতৃত্ব তৈরী রয়েছে”.

কিন্তু দেশের ভোটাররা নওয়াজ শরীফকে এখন যে আস্থার ঋণ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গচ্ছিত করেছেন, তাই তাঁকে যথেষ্ট বড় একটা সময়ের জন্য দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা ছাড়া মন্ত্রীসভা পরিচালন করার সময় দেওয়া হয়েছে – অন্ততপক্ষে মার্কিন সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাত্ ২০১৪ সাল শেষ হওয়া পর্যন্ত. কিন্তু পাকিস্তানের শক্তিশালী নেতৃত্ব - এটা তা নয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পছন্দসই হতে পারে: তাদের জন্য অনেক সুবিধাজনক আসিফ আলি জারদারির মতো দুর্বল রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কাজ করা, এমনকি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে জটিলতম পারস্পরিক সম্পর্কের সময়েও তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“সেটা না বোঝা যে, পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমে আঘাত করা হলে, তা উল্টো প্রতিবাদের কারণ হবে, ওয়াশিংটনে তা হতে পারে না. কিন্তু মনে হয়েছে যে, এটাই তাদের হিসেব. এই সব আঘাত পাকিস্তানের উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা ইমরান খানকে সুযোগ করে দিচ্ছে নিয়মিতভাবেই নিজের সম্বন্ধে মনে করিয়ে দিতে ও আমেরিকা বিরোধী এবং সরকার বিরোধী কাজকর্ম করতে”.

এটা আবার একদিক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারে অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে. তার মানে হল যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে আরও বেশী সমঝোতায় আসতে প্রস্তুত হবে ও সেই দেশের নেতৃত্বের তরফ থেকে কোন রকমের কড়া আচরণ অন্ততপক্ষে ২০১৪ সালের শেষ অবধি করার সম্ভাবনা রাখতে দেবে না.