গত বছরের পুরো সময় ধরে প্যারাঅলিম্পিকের খেলোয়াড়রা সোচীর সমস্ত খেলার জায়গা গুলোতে প্রতিযোগিতা করে দেখে নিয়েছেন. এই শহর ৭টা রুশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জায়গা হয়েছে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাশিয়ার প্যারাঅলিম্পিক কমিটির সহসভাপতি আন্দ্রেই স্ত্রোকিন বলেছেন:

“আমরা সোচীতে চারটে সারা রাশিয়া চ্যাম্পিয়নশীপ ও তিনটে আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশীপের আয়োজন করেছিলাম: হুইল চেয়ারে বসে কের্লিং চ্যাম্পিয়নশীপ, পাহাড়ে স্কি করার বিশ্বকাপের ফাইনাল ও স্কি এবং বিয়াথলনের বিশ্বকাপের ফাইনাল. এখানে সমস্ত স্কি করার রাস্তাই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে ও ঠিক সেই সমস্ত খেলার আয়োজনের জায়গা ও সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়েছে যেগুলোতে আমরা ২০১৪ সালের মার্চ মাসে প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছি. তাছাড়া এখানে হয়েছে স্লেজ –হকি খেলার “চার দেশের” ট্যুর্নামেন্টের আয়োজনও করা হয়েছিল”.

“বরফের ঘনক” ষ্টেডিয়ামে এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে হুইল চেয়ারে কের্লিং প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নশীপ হয়েছিল, আর তখনই এই ষ্টেডিয়াম খেলোয়াড়দের নজর কেড়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই খেলার প্রতিযোগী জিমি জোসেফ এখানে এসে খুবই সন্তুষ্ট হয়েছেন, তিনি বলেছেন

“এখানে সমস্ত কিছুই খুব সহজে হুইল চেয়ারে বসা লোকদের জন্য করার মতো: কাপড় বদলানোর জায়গা, বিশ্রামের জায়গা, হোটেল সব কিছুই. আর সবচেয়ে ভাল হল যে, এখানে সর্বত্র একটা মিত্রসুলভ পরিবেশ তৈরী হয়ে রয়েছে”.

“চার দেশের” প্রতিযোগিতায় যে সব প্রতিযোগীরা এসেছিলেন, তাঁরা খুব সন্তোষজনক ভাবেই “শাইবা” নামের বরফের ষ্টেডিয়ামের বরফের গুণমান ও সেখানের ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেছেন. সেখানে প্রয়োজনীয় ওপরে ওঠার জন্য ব্যবস্থা ছাড়া, লিফ্ট, ঢাল ইত্যাদি ও জামা কাপড় ছাড়ার জায়গা ছাড়াও একটা বিশেষ বরফের পথ রয়েছে, যা সরাসরি গ্যালারির নীচের জায়গা থেকে খেলার জায়গায় পৌঁছে দেয়. টমাস কোয়েস্টার, যিনি আন্তর্জাতিক প্যারাঅলিম্পিক কমিটির সদস্য হয়ে এসেছেন, তিনি এই “শাইবা” ষ্টেডিয়ামের ব্যবস্থা দেখে চমত্কৃত হয়ে বলেছেন:

“দারুণ ষ্টেডিয়াম, খুব ভাল কাজ করা হয়েছে, দেখা যাচ্ছে. এই ধরনের খেলার জন্য বিশ্বের সেরা ষ্টেডিয়াম তৈরী করা হয়েছে. আমি মনে করি যে, এখানে অনেক ভাল রকমের প্রতিযোগিতাই হবে”.

যেখানে পাহাড়ে স্কি ও বিয়াথলন ইত্যাদি হতে চলেছে, সেই পাহাড়ী এলাকার প্রতিযোগিতার জন্য পৌঁছতে হলে, প্রতিবন্ধী খেলোয়াড় ও ফ্যানদের কোন রকমের অসুবিধাই হবে না. এখানে স্টেশনে রয়েছে ঢাল গড়িয়ে ওঠা নামার ব্যবস্থা, লিফ্ট ইত্যাদি, কিন্তু যদি ইচ্ছা করে, তবে ক্রাসনায়া পলিয়ানা অবধি যাওয়া যেতে পারবে বিশেষ ধরনের বিনা মূল্যের বাসে চড়েও. সমস্ত উপরে ওঠানামার জায়গায় কেবিন গুলো প্রশস্ত আর বড়. স্কি করার রাস্তায় বিশেষ জায়গা রয়েছে হুইল চেয়ারে থাকা লোকদের জন্য. আর যদি দরকার পড়ে, তবে এখানে স্বেচ্ছাসেবকদের কাছেও সাহায্য চাওয়া যেতে পারে, তারা এই প্যারাঅলিম্পিকের জন্য বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ পেয়েছে. এই সব খেলার জায়গা ছাড়াও সোচী শহরও এখন প্রতিবন্ধীদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে. শহরের প্রশাসন বেশ কয়েকটা আতিথ্য ও আনন্দের জায়গা তৈরী করে দিয়েছেন, য়েখানে হুইল চেয়ারে করে দিব্যি যাওয়া যেতে পারে, যারা চোখে কম দেখেন বা শোনেন, তাদের জন্যও ব্যবস্থা রয়েছে. রাস্তায় তৈরী হয়েছে বিশেষ ধরনের টালি দিয়ে যাওয়ার জায়গা, যা কম যারা দেখেন, তাঁদের সুবিধার জন্য করা, প্রত্যেক সিঁড়ির কাছেই রয়েছে আলাদা করে ঢাল ও লিফ্টের ব্যবস্থা. এমনকি সোচীর সমুদ্রতীরের চেহারাও বদলে গিয়েছে. সেখানে প্যারাঅলিম্পিকের জন্যই শুধু নয়, এমনকি তার পরের জন্যও বিশেষ রকমের সমুদ্র স্নানের উপযুক্ত চেয়ার রাখা হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, যা দিয়ে সরাসরি জলে পৌঁছনো যায়, আর সমস্ত তীরের এলাকা জুড়ে হেঁটে বেড়ানোর উপযুক্ত রাস্তাও তৈরী করে ফেলা হয়েছে.