নিজের এই সর্ব্বোচ্চ সামরিক পদে নিয়োগের আগে রাহীল শরীফ পাকিস্তানের জেনারেলদের জন্য মোটেও কোন “ডার্ক হর্স” ছিলেন না. তিনি দেশের পদাতিক বাহিনীর পুনর্গঠনের কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন. তা স্বত্ত্বেও প্রথম থেকে তাকে মোটেও এই পদের জন্য অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দসই বলে মনে করা হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“তবে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কেন তাঁকেই বেছে নিয়েছেন? অনেকের জন্যই নওয়াজ শরীফের পক্ষ থেকে নিজের নামের সঙ্গে মিল থাকা এই জেনারেলকে বেছে নেওয়া, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এর আগের সামরিক প্রধানের মতো করে দেশের অসামরিক কর্তৃত্বের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্কের ধারা রাহীল শরীফ মেনে নিতে রাজী আছেন বলেই”.

খুবই শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করার মতো ক্ষমতা হাতে থাকলেও জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি তা স্বত্ত্বেও সবসময়েই পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন যে, দেশের প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর অংশ নেওয়ার সময় ফুরিয়ে গিয়েছে ও কোন রকমের সামরিক অভ্যুত্থানের আর প্রশ্নই উঠতে পারে না. নিজের পদত্যাগ করার সামান্য আগেও তিনি এই কথা আবার করে বলেছিলেন.

রাহীল শরীফ একটাও কোন কারণ তৈরী হতে দেন নি যে, মনে করা যেতে পারে যে, তিনি আশফাক পারভেজ কায়ানির মতের সঙ্গে কোথাও একমত নন. এই অর্থে তাঁর সামরিক প্রধানের পদে নিয়োগকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পক্ষ থেকে একটা আইন সঙ্গত পদক্ষেপ বলেই মনে করা যেতে পারে. ১৯৯৯ সালে রাষ্ট্রপতি মুশারফের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে এবারে ক্ষমতায় ফিরে এসে নওয়াজ শরীফ চেষ্টা করছেন দেশের অসামরিক প্রশাসন ও প্রবল প্রতিপত্তি শালী সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের মধ্যে যে কোন রকমের ভূমিকার পুনর্বন্টন বন্ধ করার, কারণ সামরিক বাহিনী এই দেশে বহু দশক জুড়েই কর্তৃত্ব করেছে.

তাছাড়া, নওয়াজ শরীফের জন্য দেশের সামরিক বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ রকমের বশ্যতা স্বীকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক কারণ হয়েছে, যেহেতু দেশের ভিতরে প্রশাসন ও কট্টরপন্থী ঐস্লামিক শক্তিদের মধ্যে শান্তি আলোচনার কাজে কয়েকদিন আগেই এক বড় রকমের ক্ষতি হয়েছে. পাকিস্তানের তালিবরা ঘোষণা করেছে যে, তারা প্রশাসনের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনায় বসতে তৈরী নয়. আর তাদের নতুন নেতা ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদকে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, এই প্রসঙ্গে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রশাসনের প্রধানের জন্য বিশেষ করেই দরকার একেবারে শতকরা একশ ভাগ ভরসাযোগ্য ও বশে থাকা সামরিক বাহিনী. সেই বাহিনী, যা প্রয়োজনের সময়ে ফেলে দেবে না ও তালিবদের সঙ্গে কোন রকমের গোপন ষড়যন্ত্র করবে না. সেই রকমের বাহিনী, যারা দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে ও দেশে ঐস্লামিক গোষ্ঠীদের প্রভাবকে ছড়িয়ে পড়তে দেবে না”.

আরও একটি বিশেষ পরিস্থিতি, যা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে রাহীল শরীফকেই নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে, তা হল যে, পাকিস্তানে প্রাক্তন সামরিক শাসক পারভেজ মুশারফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা শুরু হয়েছে, যাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে.

জেনারেল মুশারফের উপরে এই রকমের একটা “শতাব্দীর মামলার” কথা মনে করলে সামরিক মহলে একটা অসন্তোষ ফেনিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে. তাই প্রধানমন্ত্রী শরীফ হয়তো চেয়েছেন নিজের কাছে এক অসামরিক প্রশাসনের প্রতি অনুগত সামরিক বাহিনীর প্রধানকেই রাখতে.

এই ভাবেই দেশের সর্ব্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের পরে নতুন পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় হুমকির জবাব হতে পারে সেই “শরীফ শরীফের জোটের” ফর্মুলা.