এই বছরের অক্টোবর মাসের শেষে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর, যা রাশিয়ার সহায়তায় তৈরী হয়েছে, তা বিদ্যুত উত্পাদন শুরু করেছে. আপাততঃ প্রকল্পে স্থির হওয়া ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উত্পাদন তারা করতে শুরু করে নি, কিন্তু এখনই ভারতের সংবাদপত্র “দ্য হিন্দু” জানিয়েছে যে, ৩৭০ মেগাওয়াট তৈরী করা শুরু করেছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“আর এই যে হাত বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে সেই ইদিনথাকারাই গ্রামে, তার সঙ্গেই মনে করা দরকার যে, এই গ্রাম থেকেই তথাকথিত গণ বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরী নিয়ে, যার পেছনে ছিল কিছু বেসরকারি সংগঠন, যাদের সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরও কিছু পশ্চিমের দেশ থেকেও অর্থ সাহায্য করা হয়েছিল. আর পুলিশের করা প্রাথমিক ঘোষণা থেকে দেখা গিয়েছে যে, যারা এই সব বোমা তৈরী করেছে ও যারা “পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের” (PMANE) নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের মধ্যে যোগসূত্র একেবারেই সরল. এই বিস্ফোরণের ফলে যারা আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে এই আন্দোলনের নেতা এস পি উথয়াকুমার. এখন তিনি ও তাঁর কিছু সঙ্গীকে একটা সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড নিয়ে আয়োজনের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে”.

সুতরাং সমস্ত রকমের কথাবার্তা যে, এই প্রতিবাদ আন্দোলন, যে বিষয়ে আবারও মনে করিয়ে দেবো যে, বাইরের দেশ থেকেই অর্থ সহায়তা দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল, তা আসলে ছিল নাকি স্থানীয় জনগনের শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিবাদ, তা দেখা গেল একেবারেই মিথ্যা কথা. সেই উথয়াকুমার পিএইচডি শেষ করেছেন হাওয়াই ইউনিভার্সিটিতে ও দীর্ঘকাল আমেরিকাতেই ছিলেন. একজন রাজনীতি বিশারদ হয়ে তিনি খুব ভাল করেই জানেন যে, কি করে সামাজিক মতামত নিয়ে ওলোটপালট করতে হয়, যাতে খুব ভাল করে পরিকল্পিত নানা রকমের অপারেশনকে জনগনের প্রতিবাদ বলেই দেখানো যেতে পারে. তাই আবারও ভলখোনস্কি বলেছেন:

“তার নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনের নামও একই রকমের মিথ্যা – পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন. এখানে কথা হচ্ছে মোটেও সমগ্র পারমাণবিক শক্তি নিয়ে নয়, শুধু সেই সমস্ত কেন্দ্র নিয়ে, যা রাশিয়ার সহায়তায় তৈরী হয়েছে. ভারতে শক্তির বাজারের সম্ভাবনা প্রচুর, আর তাতে বিশ্বের একেবারেই নানা দেশের বড় খেলোয়াড়রা এবারে খেলতে নেমেছে. আর জর্জ বুশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতিত্বের মেয়াদের সময়ে ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক কারবার নিয়ে চুক্তি করে এই বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজরের মধ্যে এসে পড়েছে. যাতে এখানে আমেরিকার কোম্পানীদের পক্ষে প্রবেশ করা সহজ হয়ও তারা এই বাজারে টিকে থাকতে পারে, তাই প্রথমে সেখান থেকে প্রতিযোগীদের ঠেলে বার করা দরকার, আর প্রাথমিক ভাবে রাশিয়াকেই, যারা এই ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই ফলপ্রসূ ভাবে কাজ করে চলেছে”.

দেখা গেল যে, এই উথয়াকুমার ও তার আন্দোলন একেবারেই শান্তিপূর্ণ পথে চলতে রাজী নয় – তার ওপরে আবার তাদের আন্দোলন শুধু এই কেন্দ্রের কাজকেই দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু কুদানকুলাম প্রকল্পের প্রথম রিয়্যাক্টরের কাজ শুরু হওয়াকে আটকাতে পারে নি. আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে, এই বিক্ষোভের আন্দোলন এখন তৈরী হয়েছে আরও বেশী রকমের ঝুঁকি সমেত কাজ কারবারে. আর এই রকমের একটা বিস্ফোরণ সেই পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে একবার হলে, তার পরিণামে সমগ্র তামিলনাডু রাজ্যের মানুষের যে কি অপরিসীম ক্ষতি হতে পারে, যাদের মধ্যে সেই সমস্ত মাছ ধরা লোকরাও রয়েছে, যাদের জন্যই নাকি সেই আন্দোলন উত্তাল হয়েছিল, সেই কথা একবারও এই দলের নেতারা ভাবতে বসেন নি, তাই এদের কথা তুলে বরিস ভলখোনস্কি আবারও বলেছেন:

“এই প্রস্তুত হওয়া সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড একটা প্রশ্নের উদয় করেছে, তথাকথিত পারমাণবিক দায়িত্বে সংক্রান্ত আইন কি এবারে কিছুটা পরিবর্তন করার সময় আসে নি? অবশ্যই কেউই রপ্তানীকারক পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করবে না, যদি যন্ত্রপাতি কোন নোংরা সন্ত্রাসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু খুবই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা পেয়ে সন্ত্রাসবাদীরা এবারে আরও সূক্ষ্ম কৌশল করতেই পারে, যা ততটাই ক্ষতির পরিণাম এনে দিতে সমর্থ হবে: যেমন, যন্ত্রপাতি এমন ভাবে খারাপ করে দিতে পারে, যাতে প্রমাণ করাই অসম্ভব হয়ে যাবে যে, এখানে কোন সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড কি আদৌ হয়েছিল, অথবা হয় নি”.

ইদিনথাকারাই গ্রামে যে সন্ত্রাস করা সম্ভবপর হয় নি, তা এই ভাবেই শুধু দেশের আইন রক্ষী বাহিনীর সামনেই নয়, বরং রাজনীতিবিদদের সামনেও এই প্রশ্নকে তুলে ধরেছে.