অতএব, প্রথমে উত্তর দিচ্ছি পুণা থেকে পরাগ পুরোহিতের পাঠানো প্রশ্নটির. উনি সম্ভবতঃ গত ২১শে নভেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং যখন সরকারি সফরে রাশিয়ায় এসেছিলেন, তখন তাঁর সম্মানে বিমানবন্দর থেকে দূরদর্শনে সরাসরি সম্প্রচারিত কুচকাওয়াজ দেখেছিলেন. তিনি খেয়াল করেছেন, যে রাশিয়ার সৈনিকরা দুটো পতাকা বহন করে নিয়ে গিয়েছিল. তার মধ্যে একটি ছিল রুশ ফেডারেশনের জাতীয় পতাকা, আর গ্বিতীয়টি তার অজানা. এবং পরাগ পুরোহিত জানতে চেয়েঠেন – ওরা সাধারণ সৈনিক কিনা.

ওরা ছিল সরাসরি রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতির অধীনস্থ রেজিমেন্টের সৈনিক. ঐ রেজিমেন্ট রাষ্ট্রপতি এবং ক্রেমলিনে অবস্থিত সমস্ত মূল্যবান স্মৃতিসৌধ ও সামগ্রী প্রহরার দায়িত্বপ্রাপ্ত. যে সব বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীরা সরকারি সফরে আমাদের দেশে আসেন, ঐ রেজিমেন্ট কুচকাওয়াজে স্যালুট দিয়ে তাদের বরণ করে ও বিদায় সম্বর্ধনা জানায়. এমনিতে তারা অজানা সৈনিকের সমাধিস্থলের উপর প্রজ্জ্বলিত শাশ্বত অগ্নিশিখা দিবারাত্র পাহারা দেয়. ঐ রেজিমেন্টের নিজস্ব পতাকা আছে, যার বিবরণ দেওয়া দুরূহ কাজ. পতাকার উপরে জটিল চিত্রের চারটি রঙ আছেঃ লাল, নীল, সাদা ও সোনালী. সুতরাং দ্বিতীয় যে পতাকাটি রাষ্ট্রপতির রেজিমেন্টের সৈনিকটি মস্কোর বিমানবন্দরে উপরোক্ত দিনে বহন করে নিয়ে গিয়েছিল, সেটি ছিল রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতির নিজস্ব রেজিমেন্টের পতাকা.

কিভাবে ঐ রেজিমেন্টে সার্ভিস করার সুযোগ পাওয়া যায় ? লিখিত আবেদনপত্র জমা দেওয়াই কি যথেষ্ট ?

না, সেটাই যথেষ্ট নয়. ওখানে সার্ভিসের সুযোগ পাওয়া বেশ কঠিন. রাশিয়ায় সেনাবাহিনীতে আবশ্যকীয় সার্ভিসের মেয়াদ কমিয়ে আজকাল এক বছর পর্যন্ত করা হয়েছে এবং বহু তরুনই সুন্দর ইউনিফর্ম পরার এবং ক্রেমলিনের প্রাচীরের ভেতরে থাকার আকাঙ্খা করে. রাশিয়ার সংবিধান মাফিক ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী পুরুষদের ডাকা হয় সেনাবাহিনীতে সার্ভিস দেওয়ার জন্য. তাদের মধ্যে থেকেই সামরিক কমিশনগুলি তাদের মতে যোগ্যতমদের বেছে নেয় রাষ্ট্রপতিকে প্রহকা দেওয়ার কাজের জন্য.

কোন কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির রেজিমেন্টে সার্ভিয় করার জন্য সৈনিকদের বেছে নেওয়া হয় ?

অবশ্যই তরুনটিকে স্বাস্থ্যবান হতে হবে, তার উচ্চতা হতে হবে ১ মিটার ৭৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার ৯০ টেন্টিমিটারের মধ্যে, প্রখর দৃষ্টিশক্তি ও শ্রুতিশক্তি থাকতে হবে এবং সর্বোপরি – তাকে হতে হবে মনস্তাত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত দৃঢ়, যাতে মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে সে অবিচল থাকার সক্ষমতা রাখে.

এটাই কি সব অপকিহার্য শর্ত ?

না, কোন পরিবেশে তরুনটি বেড়ে উঠেছে, তাও বিবেচনা করে সামরিক কমিশনগুলি. যদি কোনো নিকটাত্মীয় বড়সড় অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে থাকে, তবে সেটা সার্ভিয়ের জন্য প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে. পূর্বে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিও ঐ রেজিমেন্টে সার্ভিসের অযোগ্য.

কখন রাষ্ট্রপতির রেজিমেন্টে সৈনিকদের নিয়োগ করা হয় ?

মে মাসের শুরুতে. এটা করা হয়, যাতে সৈনিকরা তাদের সার্ভিসের সমাপ্তি পর্বে ৯ই মে বিজয় দিবসে মস্কোর রেড স্কোয়ারে আনুষ্ঠানিক প্যারেডে যোগদান করার সুযোগ পায়.

এবার শেষ প্রশ্নঃ কবে রাষ্ট্রপতির রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ?

১৯৩৬ সালে. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেজিমেন্ট মস্কোর ক্রেমলিনের প্রহরায় নিয়োজিত ছিল, যুদ্ধের ফ্রন্টে লড়াই করেছিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সাইটগুলির সুরক্ষার কাজে মোতায়েন থাকতো. 

‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ অনুষ্ঠানটি শুনছেন আপনারা. পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে আমাদের পাঠক ও শ্রোতা সৌতিক হাতি মস্কোর চিত্রশিল্পী স্তানিস্লাভ প্লুতেঙ্কো সম্পর্কে বিষদে জানানোর অনুরোধ করেছেন.

প্রথমে তার জীবনী সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য দিচ্ছি. স্তানিস্লাভ প্লুতেঙ্কোর জন্ম হয়েছিল ১৯৬১ সালে মস্কোয়. মাধ্যমিক স্কুল থেকে পাশ করার পরে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ইনস্ট্রুমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ইনস্টিটিউটে, দেশের সেনাবিভাগে সার্ভিস দিয়েছিলেন, আর তারপর অধ্যয়ন করেছিলেন স্ত্রোগানভ চারু ও ভারীশিল্প ইনস্টিটিউটে.