২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিরিয়াতে ১৭ বছরের কম বয়সের ১১৪২০টি বাচ্চা মারা গিয়েছে. বিশেষজ্ঞরা সিরিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যেখানে সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহতদের সম্বন্ধে তথ্য রয়েছে, আর তার মধ্যে খুব একটা কম সংখ্যক শিশু নেই, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” জানিয়ে এই রিপোর্টের এক সহ লেখক হামিট দার্দাগান বলেছেন:

“এখানে বলা কঠিন যে, কতটা ঠিক এই সংখ্যা. আমরা হিসাবের সময়ে শুধু নাম যাদের জানা রয়েছে, সেই সমস্ত নিহতদের তালিকাই দেখেছি. যখন কোন বাচ্চাকে শনাক্ত করা যায় নি, তখনই ঝুঁকি থাকে কাউকে দ্বিতীয়বার করে হিসাবের মধ্যে আনার, তাই আমাদের তালিকায় নাম না জানা বাচ্চাদের সংখ্যা উল্লেখই করা হয় নি”.

কিন্তু বিষয়টা শুধু সংখ্যা সঠিক হওয়া নিয়ে নয়. যখন অনেক হাজার ও লক্ষ মানুষ নিহত হয়, তখন তাদের মধ্যে অনেক বাচ্চাও থাকে. এখানে শিশুরা শুধু আচমকা আক্রমণেরই শিকার হয় নি. সিরিয়ার বহু শত অল্প বয়সী বাচ্চাকে বিশেষ ভাবে মারাও হয়েছে - গুলি করে, কেটে ফেলে ও অত্যাচার করেও.

নিকটপ্রাচ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ সিমিওন বাগদাসারভ বলেছেন:

“সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ – এটা গৃহযুদ্ধ. আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধ হয় তখন, যখন তা হয় ধর্মীয় কারণে. এটা ঐতিহাসিক ভাবেই সবসময়েই এরকম ছিল. যোদ্ধারা যাকে খুশী মেরে ফেলতে পারে, যারা তাদের ধর্মীয় সমাজের অংশ না হয়. আজ বহু সংখ্যক বাস্তব ঘটনা জানা রয়েছে, যখন আলেপ্পোর খ্রীষ্টান অধ্যুষিত এলাকায় স্নাইপার জঙ্গীরা যে কোন লোকের উপরেই গুলি করেছে, তাদের বয়সের কথা না ভেবে আর স্ত্রী- পুরুষ নির্বিশেষে”.

কয়েকদিন আগে পশ্চিমের দেশগুলো খুবই মন দিয়ে বিচার করেছিল সিরিয়ার উপরে সামরিক আঘাত হানা নিয়ে, যাতে সেই দেশের সরকারি ফৌজকে দুর্বল করে দেওয়া যেতে পারে ও জঙ্গীদের তাদের লক্ষ্য সাধন করতে সহায়তা করা যেতে পারে. সেই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীরা নিরীহ মানুষের মধ্যে ক্ষতি হওয়ার কথাও হিসাব করে ফেলেছিল, আর ধরেছিল যে, এটা তো হবেই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার লিবিয়া ও সিরিয়ার জনগনের সঙ্গে সলিডারিটি কমিটির সহসভাপতি ওলেগ ফোমিন বলেছেন:

“আমেরিকার লোকরা কি যখন “টম হক” দিয়ে লিবিয়ার উপরে অথবা যখন বাগদাদের উপরে বোমা ফেলেছিল তখন বাচ্চাদের কথা ভেবেছিল? ড্রোন বিমান কি চিন্তা করে, যখন আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানে নিরীহ মানুষের উপরে গুলি চালাতে থাকে? সেগুলো ভাবে না যে, তাদের সামনে বাচ্চা নাকি বড় মানুষরা রয়েছে”.

শুধু শান্তি পারে সিরিয়ার বাচ্চাদের বাঁচাতে. কোন এক শক্তির অন্য শক্তির উপরে জয় নয়, শুধু সমস্ত পক্ষদের স্বেচ্ছায় অস্ত্র সম্বরণ ও গোল টেবিলের চারপাশে বসে সমস্ত সমস্যার সমাধান করাই একমাত্র পথ হতে পারে বলে মনে করে ওলেগ ফোমিন বলেছেন:

“রাশিয়া নিয়মিত ভাবেই সিরিয়ার বিরোধকে শান্তি আলোচনার স্তরে আনার জন্য আহ্বান করে এসেছে. রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে উপায় নেই. সশস্ত্র পথে এই সমস্যাকে সমাধান করা যাবে না. এমনকি যদি মনে করাও হয় যে, জঙ্গীরা ও তাদের সহযোগী সৌদী আরব, কাতার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ন্যাটো জোটের সহযোগীরা এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে যায়, তাহলেও. কারণ আজ যারা প্রশাসনে রয়েছে, তারাই আগামীকাল বিরোধী পক্ষ হবে. আর এই যুদ্ধ চলতে থাকবে অনন্তকাল ধরেই. বিশ্ব সমাজ এই লড়াই থামাতে বাধ্য, তখনই শুধু আর ক্ষয় ক্ষতি হবে না”.

সোমবারে জানা গিয়েছে যে, সিরিয়ার সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, তথাকথিত জেনেভা -২ পরিকল্পনা করা হয়েছে ২০১৪ সালের ২২শে জানুয়ারী শুরু করার. এখানে কারা অংশ নেবে তাদের সম্পূর্ণ তালিকা এখনও নির্দিষ্ট হয় নি. কিন্তু রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আশা করা হয়েছে যে, এবারে সমস্ত রকমের বাধা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে, আর সিরিয়াতে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে.