ভারতের নিরাপত্তা রক্ষীদের যে কাজের অন্ত নেই, তা আরও একবার করে জোর দিয়ে বলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ পাতিল. জঙ্গীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময়ে নিহত ভারতীয় জোয়ানদের স্মৃতি সৌধে মালা দিতে এসে তিনি বলেছেন “সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই চলছে. সন্ত্রাস ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়ে হুমকি তৈরী করা বন্ধ করে নি”.

ভারতীয় শক্তি বাহিনীকে দোষ দেওয়া যে, তারা বিগত বছরগুলোতে নিজেদের কাজ ঠিক করে উঠতে পারে নি, ভারতীয় এলাকায় বৃহত্ সন্ত্রাসের হুমকিকে শূণ্যে পরিণত করতে পারে নি, বলার জন্য কারও ঠিক সাহস হবে না. কারণ মুম্বাই শহরের ট্র্যাজেডির সময়ে তারা এক বিশিষ্ট রকমের সন্ত্রাসের সম্মুখীণ হয়েছিল, যা মাওবাদী জঙ্গীদের অথবা ওই ধরনের কোন জঙ্গী গোষ্ঠী এর আগের কোন বছরে অথবা দশকে কখনও করে নি. দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীতে হানা ছিল দেশের ইতিহাসেই অভূতপূর্ব এক ঘটনা, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এর আগে ঐস্লামিক জঙ্গীদের সন্ত্রাসবাদী হানার কারণ ছিল শুধুমাত্র ভারতের দুই প্রধান ধর্মীয় সমাজ হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে গণ্ডগোল বাধিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য. আর এবারে জঙ্গীদের লক্ষ্য হয়েছে বিদেশীরা – যাদের হাতে ছিল আমেরিকা ও ব্রিটেনের পাসপোর্ট. তার ওপরে আবার এই অপারেশন বিশেষজ্ঞদের মতে তৈরী করার জন্য খুব একটা কম পেশাদার শক্তির প্রয়োজন পড়ে নি”.

পরে যখন বোঝা গিয়েছিল যে, এই সন্ত্রাসের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা “লস্কর –এ-তৈবা” দলের সন্ত্রাসবাদীরা তখন শেষ অবধি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, দুই দেশের প্রশাসনকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে শুধু পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা সন্ত্রাসবাদীরাই নয়, যাদের বলা যেতে পারে “প্রশাসন বহির্ভূত শক্তি” বলে, বরং আরও যোগ হয়েছিল “বিশ্বময় উপস্থিতি থাকা সন্ত্রাসবাদী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী”. বাস্তবে মুম্বাই শহরে আক্রমণ স্পষ্টই দেখিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্তান ইরাক ও আফগানিস্তানের মতই “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর আরও একটা বেড়ে ওঠার জায়গা. এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“সব মিলিয়ে, এটা শুধু দেশের গুপ্তচর বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর প্রতিই একটা চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং ছিল দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্যও – পশ্চিম ও পূর্বের নানা রাষ্ট্র নেতাদের জন্যই. কিন্তু সবার আগে – ভারত ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের জন্য. সন্ত্রাসবাদীরা চেষ্টা করেছিল তাদের দেখিয়ে দেওয়ার জন্য যে, তারা “চাপ নিজেরাই বাড়াতে বা কমাতে সক্ষম”, ভারত-পাকিস্তানের তীক্ষ্ণ সম্পর্কের প্রেসার কুকারে রাজনৈতিক নেতাদের মতই তারাও পারে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচ্যের তালিকা নির্ধারণ করে দিতে”.

তাই সেই প্রশ্ন যে, কি করে সন্ত্রাসবাদী কাজ কারবারের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, তা শুধু দেশের শক্তি বাহিনীর নেতৃত্বের দিকেই বাড়িয়ে দিলে চলবে না, বরং রাজনৈতিক নেতাদের দিকেও এগিয়ে দিতে হবে, কারণ যদি ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা কোন রকমের প্ররোচনায় উত্তেজিত না হন ও ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সুস্থ করার বিষয়ে অফেরতযোগ্য পদক্ষেপ নিতে থাকেন, তবে সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে প্রশাসনের উপরে প্রভাব বিস্তারের প্রধান অস্ত্রই খসে পড়বে, যা দিয়ে তারা বিগত সমস্ত বছরগুলোতেই চাপ বাড়িয়েছে. এটাতেই মুম্বাই ট্র্যাজেডির প্রধান শিক্ষা লুকিয়ে রয়েছে.