“বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনেকদিনই হল দুই মহিলার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যাদের পেছনে রয়েছে দুটি আলাদা রাজনৈতিক গোষ্ঠী, কিন্তু যাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে খুবই কম তফাত রয়েছে – যেন পুরনো ইংরাজী গানের মতো টুইডলডাম আর টুইডলডী. বর্তমানের “আওয়ামী লীগ” দলের নেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেন এঁদের একজন, যিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও যাঁকে ১৯৭৫ সালে দেশ দ্রোহের সময়ে হত্যা করা হয়েছিল, আরেকজন বাংলাদেশের বিএনপি দলের নেত্রী ও ১৯৮১ সালে নিহত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, তাঁকেও চক্রান্ত কারীরা হত্যা করেছিল. এই দুই দলই আপাততঃ একে অপরকে দেশের ক্ষমতার আসনে বদলে এসেছে, আর তাদের নেতারা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী”.

২০০৮ সালে “আওয়ামী লীগ” সর্বজনীন নির্বাচনে খুবই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল ও ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন. প্রসঙ্গতঃ, দেশের ক্ষমতার শীর্ষে মুখ বদলের ফলে দেশের পরিস্থিতিতে খুব কমই পরিবর্তন হয়েছে. বরং উল্টো: অর্থনীতিতে সঙ্কটের প্রভাবই বেড়েছে. এরই প্রমাণ হয়েছে দেশের কাপড় সেলাইয়ের কারখানাগুলোতে এক সার দুর্ঘটনা, যার ফলে বহু শত লোক মারা গিয়েছে. এই ঘটনাগুলো সেই সেলাইয়ের কারখানাগুলোতে কাজ করার অসহ্য রকমের পরিস্থিতিই দেশে গণ বিক্ষোভের সূচনা করেছে, যা বাংলাদেশের শিল্পের এই নেতৃস্থানীয় ক্ষেত্রকেই নষ্ট করে দিতে সক্ষম. আজ এই ক্ষেত্রে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ বিদেশী মুদ্রা আয়ের একমাত্র উপায়.

অর্থনৈতিক ভাবে দেশে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকার চেষ্টা করেছে দেশের সমাজের নজর অন্যদিকে করার জন্য, তার জন্যই নিজেদের রাজনৈতিক ভাবে বিরোধী পক্ষের লোকদের উপরে বাছাই করে বিচার করা দিয়ে শুরু করে – সেই সব লোকরা শুধু এই বিএনপি দলের সহযোগী জোট “জামাত-এ-ইসলামী” দলের সদস্যই নয়, তারা আবার বিএনপি দলেরও নেতা. এর জন্য খুবই ভাল এক কারণ দেখানো গিয়েছে: ঐস্লামিকদের বিচার করা হয়েছে ১৯৭০-৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে রাজাকার হয়ে অত্যাচার করার জন্য. কিন্তু বরিস ভলখোনস্কির মতো অদ্ভুত ধরনের অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেছেন যে, এই বিচারের নামে বাংলাদেশের সরকার নির্বাচনের আগে নিজেদের প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে “সাফাই” করে ফেলেছে, তাই তিনি বলেছেন:

“বর্তমানের বিক্ষোভের কারণ হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ৫ই জানুয়ারী ভোটের দিন ঘোষণা, মনে হতে পারে যে, নতুন করে নির্বাচন বিরোধীদের স্বার্থের অনুকূল, তার ওপরে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার সমাজতত্ত্ব বিদদের তথ্য অনুযায়ী বিএনপি দলই জনমতে জিতছে ও তারাই নির্বাচনে জয়ী হতে পারে. কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ “কিন্তু” রয়েছে. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, যা গত শতকের নব্বইয়ের দশকে উদয় হয়েছে, তা হল যে, নির্বাচনের প্রাক্কালে ও সেই সময়ে দেশের প্রশাসন নিজেদের দায়িত্ব ত্যাগ করে এক তদারককারী প্রশাসন তৈরী করে, যাতে নির্বাচনের সময়ে ভোট গণনা ন্যায্য হয়”.

আর মনে হল যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পথই নিয়েছেন, দেশের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন করে. কিন্তু বিএনপি এই সরকারকে ঘোষণা করেছে পক্ষপাত দুষ্ট বলে, কারণ তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোকই আগের মতই আওয়ামী লীগের লোক বলে, আর শেখ হাসিনা নিজে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন বলে. অর্থাত্ লোকে কি ভোট দেবে, সেটা প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হল কি করে ভোট গণনা হবে, তাই আবারও ভলখোনস্কি বলেছেন:

“মঙ্গলবারে বাংলাদেশ জোড়া হিংসার ঢেউ, আর বিএনপি জোটের তরফ থেকে ভোট বানচালের ভয় সরকারকে বাধ্য করেছে পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে. বুধবার সকালে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন আরও পরে ভোট পিছিয়ে দিতে তৈরী রয়েছে.

কিন্তু খুবই মনে হচ্ছে যে, পরিস্থিতি এবারে আয়ত্বের বাইরে যেতে পারে. আর সবচেয়ে দুঃখের কথা সেটা নয় যে, বিরোধী পক্ষ নির্বাচন বয়কট করার জন্য জেদ ধরতেই পারে, আর এমনকি তাতেও নয় যে, প্রশাসন ভোটের ফলাফল নিয়ে কারচুপি করতে পারে, বরং সেই বিষয়ে যে, নেতাদের নিজেদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য তাদের পিছনে থাকা গোষ্ঠীরা দেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের জন্য কিছুই করছে না”.

পুরনো ইংরাজী এপিগ্রামে যেমন বলা রয়েছে: “Strange all this Difference should be// Twixt Tweedle-dum and Tweedle-dee!”