“মনে করিয়ে দিই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, ভারত বিগত বছর গুলিতে, ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানী করা অনেকটাই কম করে দিয়েছিল. এই সমস্ত ব্যবস্থা থেকে ক্ষতি ইরানের জন্য প্রথম থেকেই স্পষ্টই দেখতে পাওয়ার মতো ছিল. কিন্তু ভারত নিজেও এই ধরনের পদক্ষেপের নেতিবাচক পরিণাম টের পেয়েছে: সেই দেশ থেকেই খনিজ তেল আমদানী করা বন্ধ করা, যা এর আগে এক অন্যতম উত্স ছিল এই কাঁচামালের জন্য, তা একটি কারণে পরিণত হয়েছে, যা ভারতে জ্বালানীর দামকে দ্রুত উর্ধমুখী করে দিয়েছে, আর তার ফলে সমস্ত রকমের ভোগ্য পণ্যের দামই বেড়েছে হুহু করে. বর্তমানের “পিঁয়াজ সঙ্কট”, যা দেশের বিরোধী পক্ষ মন্ত্রীসভার সমালোচনার জন্য ব্যবহার করছে, তার অনেকটাই যুক্ত ছিল ভারতের ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে”.

রবিবারে জেনেভা শহরে হওয়া সমঝোতা ইরানের সঙ্গে খনিজ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে আবার করে সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতার দরজা খুলে ধরেছে. আলোচ্যের তালিকায় আবার করে উঠে এসেছে ইরান- পাকিস্তান- ভারত খনিজ তেল ও গ্যাস পাইপ লাইনের কথা.

এই সবই কোন রকমের সন্দেহই নেই যে, খুবই জরুরী. কিন্তু মনে হয়েছে যে, দীর্ঘ সময়ের জন্য এই সমঝোতা ভারতের জন্য জ্বালানী ক্ষেত্রের অনেকটাই বাইরে জুড়ে পথ করে দেবে. একটি বাস্তব কারণ, যা ভারতকে প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা মধ্য এশিয়া, ককেশাস, রাশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার বাজার থেকে দূরে রেখেছিল, অর্থাত্ স্থলপথে পরিবহনের অসুবিধা, যা দিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তরে অনবরত পণ্য সরবরাহ করা যেতে পারত. তা হয়েছে পাকিস্তান, কারণ সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তা এই দেশের মধ্যে দিয়েই যায়, আর ভারতের বর্তমানে এখন পাকিস্তানের সঙ্গে অনেক সমস্যা জমা হয়ে রয়েছে. তার ওপরে আবার আফগানিস্তান, যেখানে পরিস্থিতি প্রত্যেক দিনের সঙ্গেই শুধু খারাপ থেকে আরও খারাপই হয়েছে এবং কোন রকমের ভাল হওয়ার সম্ভাবনাও এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, তাই এই প্রসঙ্গেও বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই ক্ষেত্রে ইরানের সংজ্ঞা, যদি তা নিষেধাজ্ঞার বেড় থেকে রেহাই পেতে পারে, তবে অনেক গুণে বেড়ে যেতে পারে. তাহলে আন্তর্জাতিক ভাবে দক্ষিণ থেকে উত্তরের পরিবহন করিডর খুলে যাওয়ার জন্য প্রকল্প নতুন করে আবার শুরু করা যেতে পারে, যা নিয়ে কথা চলছে আজ বিগত বছর দশেক ধরেই, কিন্তু বাস্তবে কোন রকমের কাজই করা হয়ে ওঠে নি.

শেষমেষ, ইরানের উপরে থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অর্থ হতে পারে অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্যই রাজনৈতিক পরিণামের জন্য. আজ ইরান, পাকিস্তান ও ভারতের মতই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ হয়ে রয়েছে. আর যদি এই সংস্থায় ভারত ও পাকিস্তানের যোগদানের বিষয় নিয়ে সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে কথা হয়েও থাকে, তবুও ইরানকে নিয়ে আপাততঃ এক সম্পূর্ণ সদস্য দেশ হিসাবে কথা হয় নি. তার বাধার কারণ ছিল এই সংস্থার সনদ, যেখানে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ভাবে নিষেধাজ্ঞা সমেত কোন দেশ এই সংস্থার সম্পূর্ণ সদস্য হতে পারে না.

এই সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে, ইরানের সম্পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রশ্নকেও আলোচ্যের তালিকায় রাখা হতে পারে. আর এটা, নিজেদের পক্ষ থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ভারত ও পাকিস্তানের যোগদানের বিষয়ে একটা উত্সাহের কারণ হতে পারে”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, খুব বেশী রকমের আশাবাদী হওয়ার এখনই দরকার নেই, আর এই কথা ভারতের সংবাদ মাধ্যমেও লেখা হয়েছে. প্রথমতঃ, হিসাবের মধ্যে আনার দরকার রয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় নি, শুধু সামান্য কিছু ইরানের অর্থ, যা মার্কিন ব্যাঙ্কে আটক অবস্থায় রাখা ছিল, তা ছেড়েছে.

দ্বিতীয়তঃ, মনে রাখা দরকার যে, এই সমঝোতা থেকে সবচেয়ে বেশী করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুটি দেশ হল সৌদী আরব ও ইজরায়েল. যদিও এই দুই দেশের মধ্যে জোটকে মনে হতে পারে প্রকৃতি বিরুদ্ধ, তবুও বিগত সময়ে এই দুই দেশই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরান বিরোধী ফ্রন্টে মুখ্য শক্তির ভূমিকায় রয়েছে.

যদি আরও মনে করা হয় যে, ইরানের থেকে খনিজ তেল রপ্তানী করা আবার সেই সৌদী আরবের স্বার্থের উপরেই সরাসরি আঘাত বলে, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে তারাই খনিজ তেল রপ্তানী থেকে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে, আর তার সঙ্গে সেই কারণকেও হিসাবের মধ্যে আনা হয় যে, এই দেশই সবচেয়ে কট্টরপন্থী ঐস্লামিক শক্তি গুলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক, তবে একটা সিদ্ধান্তে খুবই সহজে অবতীর্ণ হওয়া যেতে পারে, আর সেটা হল, যে এই নিয়ে ইতিহাস মোটেও এখনই শেষ হয় নি, আর খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে দেখতে পাওয়া যেতে পারে অর্জন করা সমঝোতা গুপ্ত বোমার আঘাত পেতে শুরু করেছে.