“আফগানিস্তানের সলিডারিটি” দলের নেতৃত্বের এক সদস্য হাফিজুল্লা রাসেখ মনে করেন যে, এমনকি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুখের কথাতেও কারজাইয়ের শর্ত মেনে নেয়, তবুও কার্যক্ষেত্রে তারা আগে যা করেছে, তাই এখন করবে. তিনি বলেছেন যে, নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আফগানিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা – এটা আফগানিস্তানের জনগনের স্বার্থের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা. এই রকম মনে করে তিনি বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১০০টিরও বেশী দেশে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি তৈরী করেছে. আর সব জায়গাতেই স্থানীয় জনতা এর বিরুদ্ধে. জাপানের ওকিনাওয়া শহরে স্থানীয় মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, তারা বলেছেন যে, এই ঘাঁটি না এই দ্বীপের, না জাপানের জন্য কোন ভাবে লাভজনক হতে পেরেছে. অথবা দেখা যাক ফিলিপাইনস দ্বীপপূঞ্জে, সেখানে যে সমস্ত জায়গায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে মাদক দ্রব্যের উত্পাদনই খালি বেড়েছে, ঠিক আমাদের দেশেরই মত. এই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবী করে থাকে, তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সেই সমস্ত দেশের আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখার জন্য, এটাই তাদের যে কোন ধরনের অপরাধ করতে দেয় ও যা খুশীই করতে দেয়.

এগারো বছর ধরে আফগানিস্তানে থাকার সময়ে, ওরা আমাদের জন্য কি করেছে? কিচ্ছুই না! শুধু আমাদের নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, সেখানে মাদক দ্রব্যের উত্পাদন বৃদ্ধি করেছে, আমাদের জীবনে নিয়ে এসেছে হিংসা ও সন্ত্রাসবাদ. আমাদের নিরীহ আফগান মানুষের জীবনের দাম তারা স্থির করেছে ২০০০ ডলার – ওদের তো বোধহয় এর জন্য ধন্যবাদ বলা উচিত্ হবে, তাই না!

অন্যদিক থেকে ওই সব সামরিক ঘাঁটি আফগানিস্তান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরন্তর উত্তেজনারই কারণ হবে. ওরা নিজেরাই তালিব ও সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরী করেছে. আমি কোনই সন্দেহ করি না যে, ওরা ভবিষ্যতেও এই এলাকা জুড়ে হানাহানি ও নিজেদের মধ্যেই মারামারি বাঁধানোর বিষয়ে উত্সাহ দেবে, আর তার জন্য দোষী হবে আফগানিস্তান”.

এটা হবে, যদি তারা এখানে থেকে যায়, কিন্তু আপনি কি মনে করেন, যদি ওরা এখান থেকে সম্পূর্ণ ভাবে চলে যায়, তবে কি এখানে উল্টো ভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে? রাসেখ বলেছেন:

“আমি স্বীকার করছি যে, আমাদের দেশে যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে, কিন্তু যদি আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার লোকরা চলে যায়, তবে আমরা একই সঙ্গে সেই ধরনের শত্রুর হাত থেকে রেহাই পাবো, যাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই তৈরী করেছে ও এখনও তাদেরই আর্থিক সহায়তা দিয়ে চলেছে. আর কে এমন কথা বলেছে যে, ওরা এখান থেকে চলে যাবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন দিনও আফগানিস্তান থেকে চলে যাবে না. ভেবে দেখুন কেন ওরা আমাদের দেশের নানা প্রদেশে আট খানা সামরিক ঘাঁটি তৈরী করেছে?

কারজাই এই চুক্তিতে সই করুন অথবা নাই করুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এখানে বহুদিনের জন্যই থেকে যাবে. ওদের জন্য আফগানিস্তান এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর জন্য একটা সেতু. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন আফগানিস্তানের মাটি ও আকাশ, সেখানে কোন রকমের স্থিতিশীলতা নয়”.

আফগানিস্তানের মানুষের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে মতামত নানা রকমের. অনেক ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক কর্মী এর বিরুদ্ধে কথা বলছেন, আবার কেউ এমনও রয়েছেন, যাঁরা বরং উল্টো কথা বলছেন যে, আফগানিস্তানের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি প্রয়োজনীয়.

এঁদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ফাহিম হাকিম. “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন:

“সেই সমস্ত লোকরা, যাঁরা মনে করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা – এটা আফগানিস্তানের জনগনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা, তাঁরা খুবই বেশী রকমের ভুল করছেন. বিগত এগারো বছর ধরে আফগানিস্তান শিক্ষা ক্ষেত্রে, মানবাধিকার রক্ষা ক্ষেত্রে, বাক্ স্বাধীনতার বিষয়ে ও অন্যান্য জায়গাতেও অনেক সাফল্য পেয়েছে.আর দেশের জনতা যে চাইছে এই চুক্তি করা হোক, তার প্রমাণ হল যে, তারা ভয় পাচ্ছে আবার করে সেই অতীতে ফিরে যেতে, যখন এই দেশে তালিবরা শাসন করেছে.

এটা ঠিকই যে, আমাদের অবাক করে দিয়েছে, কেন কারজাই সব কিছুর শেষে বলেছেন যে, আমরা শুধু নির্বাচনের পরেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করব. কিন্তু তা যে ভাবেই হোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তি আমাদের দেশের জনগনের ভালোর জন্যই হবে”.