শুরুতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রকের উপরোক্ত সুপারিশ ছিল সেই সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যেগুলির মালিকানার ২৫ শতাংশ বা তার অধিক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার অথবা পৌরসভার হেফাজতে. এখনই ঐ সব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া হওয়ার বিন্দুমাত্র আভাস পেলেই তত্ক্ষণাত্ বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স ও প্রোপ্রাইটরদের সেই সম্মন্ধে ওয়াকিবহাল করতে বাধ্য আইনি স্তরে. অন্যথায় শীর্ষ-ব্যবস্থাপকদের আর্থিক জরিমানা ও দু বছর পর্যন্ত পদচ্যুত থাকার আশঙ্কা রয়েছে. অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞেরা ঐ সাজা কঠোরতর করতে চাইছেনঃ তারা আর্থিক জরিমানার অঙ্ক বহুমাত্রায় বাড়ানোর এবং তিন বছর ধরে কোনো কর্তৃপদে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাব দিয়েছেন.

কিন্তু কার্যালয় পর্যায়ে আলোচনা চলাকালেই কথা উঠেছিল, যে শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানই নয়, মালিকানার রূপ ও তার আইনভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো নির্বিশেষে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই উক্ত ব্যবস্থা প্রয়োগ করা দরকার. বর্তমানের নিস্তেজ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ধেয়ে আসা দুর্যোগের প্রথম আভাসগুলি পাওয়া মাত্র পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা আবশ্যক. অন্যথায় নিঃসম্বল হওয়া অনিবার্য. পাবলিক চেম্বারের সদস্য ও হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের অধ্যাপক যোসেফ দিক্সিন বলছেন – তাই আজকের দিনে বিশেষ করে একদম পরিপাটি করে বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের সামনে কোম্পানীর পরিচালকদের দায়বদ্ধতা লিপিবদ্ধ করা অপরিহার্য. –

যতক্ষণ কোম্পানীর বৃদ্ধির হার ও মুনাফা ছিল উঁচুমাত্রার, ততক্ষণ সবাই খুশি ছিল. মালিকরাও যথেষ্ট পরিমাণে মুনাফা লাভ করছিল, শীর্ষ-ব্যবস্থাপকরাও সত্ উপায়ে যথেষ্ট পরিমাণে রোজগার করছিল. এখন পরিস্থিতি ক্ষুরধার হয়ে গ্যাছে এবং মালিকদের সামনে টপ-ম্যানেজমেন্টের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর যুক্তির উদ্ভব হয়েছে. কারণ পরিচালকরা প্রায়শই বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সদের অথবা মালিকদের বিভ্রান্ত করে নতুবা ভুয়ো তথ্য প্রদান করে. পরিস্থিতি ক্রমশঃ দেউলিয়া হওয়ার দিকে এগোচ্ছে, শীর্ষ-ব্যবস্থাপকরা চোরা পথে কোম্পানীর সম্পদ(এ্যাসেট)তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য কোম্পানীতে পাচার করছে, আর মালিক পক্ষ শেষমেষ পাচ্ছে শুধু বাদামের খোলাটা, আসল শাঁসটাই মেরে দিচ্ছে টপ-ম্যানেজাররা. আজকের দিনে এইরকম অপরাধের জন্য শাস্তির মাত্রা বিদ্রুপজনক নীচু. যোসেফ দিক্সিনের দৃষ্টিভঙ্গীতে এরকম অপরাধকে জালিয়াতি বলে অভিহিত করা দরকার এবং তদনুযায়ী এগুলিকে ফৌজদারী দায়ভারের আওতায় ফেলা উচিত্. তিনি জোর দিয়ে বলছেন, যে আর্থিক জরিমানার অঙ্ক হওয়া দরকার শীর্ষ-ব্যবস্থাপকদের দ্বারা বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স অথবা মালিক পক্ষের আর্থিক ক্ষতিসাধনের সমানুপাতিক.

আজকের দিনে দেউলিয়া হওয়া কোম্পানীগুলির সামনে শুধুমাত্র দুটি পথ খোলা আছে. প্রথম পথ – তথাকথিত আর্থিক স্বাস্থ্যোদ্ধার. আর দ্বিতীয় উপায় – সমস্ত সম্পত্তি বেচে দিয়ে বস্তুত কোম্পানীকে বিলুপ্ত করে দেওয়া. রাশিয়ার দেউলিয়া হয়ে যাওয়া কোম্পানীগুলি দ্বিতীয় পথটিকেই বেশি পছন্দ করে – স্বেচ্ছায় বিলুপ্তি. শতকরা ১ ভাগেরও কম কোম্পানী আর্থিক স্বাস্থ্যোদ্ধারের পথে যায়. এরকম হওয়ার কারণ হল এই, যে পরিচালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে দেউলিয়া হওয়ার প্রকৃষ্ট আভাস পেয়েও মালিকপক্ষের কাছে সেসব চেপে যায়, যাতে সেই সুযোগে সর্বাধিক পরিমাণে মুনাফা লুটে নেওয়ার চেষ্টা করা যায়. বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই, যে নতুন আইনের বলে শীর্ষ-ব্যবস্থাপকদের বাধ্য হবে তাদের কার্যকলাপের সাথে তার অনিবার্য পরিণতি নিক্তিতে মেপে দেখতে, এবং নিঃস্ব হওয়া কোম্পানীর সংখ্যা তার সুবাদে কমবে.