“এই সম্মেলন আমাদের শুধু ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে দিয়েছে, কিন্তু অনেক আশাই এখানে বাস্তব হয় নি. ঠিক করা হয়েছে, কবে আলোচনা আবার করে করা হবে, সেখানে কতগুলো অধিবেশন করা হবে, যা এই প্রস্তুতির কাজে লাগবে. সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পরবর্তী সেশনের জন্য, অর্থাত্ গরম কালে, সেখানে আলোচনার বয়ান নিয়ে কথা হবে, যাতে ২০১৫ সালের মে মাসের আগে আলোচনার উপযুক্ত বয়ান তৈরী হয়ে যায়. কিন্তু অবশ্যই আরও অনেক কিছুই করা সম্ভব ছিল”.

বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ তহবিলের “আবহাওয়া ও শক্তি ক্ষেত্র” প্রকল্পের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন বেশী কড়া ভাবেই এই নিয়ে বলেছেন:

“এই সম্মেলন সব মিলিয়ে বাজেই হয়েছে. তা দেখিয়ে দিয়েছে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবহাওয়া সংক্রান্ত সম্মেলন সমস্ত প্রযুক্তিগত দ্বিতীয় সারির প্রশ্নের সমাধান করার জন্যই উপযুক্ত. কিন্তু উষ্ণ মণ্ডলীয় বনাঞ্চল নিয়ে, সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোকে সাহায্য করা নিয়ে, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর করা দূষণ নিয়ে - এটা করা যেতে পারে. কিন্তু নতুন চুক্তির বিষয়ে এক পাও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি”.

সম্মেলনের শেষের দিকে অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বহু আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা, তাদের মধ্য বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও গ্রীনপিস কর্মীরাও ছিলেন. আবহাওয়া নিয়ে আলোচনার ইতিহাসে এই ধরনের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথমবার হয়েছে. আমরা সেই ধরনের প্রহসনে অংশ নিতে অস্বীকার করেছি, যখন বিশ্ব জোড়া সমস্যা নিয়ে আলোচনার বদলে, প্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান করেছে, এই কথা উল্লেখ করে ককোরিন আবার বলেছেন:

“প্রত্যেক দেশেরই আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে নিজেদের বিতর্ক রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে কোন কিছুই গ্রহণ করতে সক্ষম হয় নি. অর্থাত্ আমেরিকার লোকরা শুধু তাদের দেশে গৃহীত না হওয়া চুক্তি মেনে নিতে পারে, অর্থাত্ “অর্ধেক স্বেচ্ছায়” করা চুক্তিকে. চিন ও ভারত বিশ্ব জোড়া দূষণ নিয়ে কোন রকমের সংখ্যার সঙ্গেই একমত হতে পারছে না, কারণ তারা নিজেরাই এই বিষয়ে বেড়ে যাওয়ার কারণ হয়েছে. সৌদী আরব, কুয়েইত, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী, সিঙ্গাপুর, যারা সরকারি ভাবে উন্নত দেশ বলে স্বীকৃত নয়, তারা জোর দিয়ে চেষ্টা করছে যাতে তাদের দেশগুলোর স্ট্যাটাস পাল্টে দেওয়া না হয়”.

তার মধ্যে আবার দ্রুত উন্নতিশীল ও দ্রুত ধনী হয়ে ওঠা দেশগুলোর প্রতিনিধি দলেরা চেষ্টা করেছে, যাতে নতুন চুক্তিতে উন্নত দেশগুলোর জন্য সংখ্যা উল্লেখ করে দায়িত্ব বহাল করা হয়, আর উন্নতিশীল দেশগুলোর জন্য শুধু ইচ্ছার কথাই লেখা হয়. এই ধরনের লক্ষ্য, যে অন্যের খরচে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টাই সমস্ত প্রয়াসকে নষ্ট করে দিচ্ছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির অধীনে থাকা আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রশ্ন নিয়ে পরিষদের সদস্য মিখাইল ইউলকিন বলেছেন:

“আজকে কি ভারত ও চিনকে দুর্বল দেশ বলে মনে করা যেতে পারে, যদি তারাই গ্রীন হাউস এফেক্ট তৈরীর জন্য আবহাওয়াতে সবচেয়ে বেশী দূষণ ছড়াতে থাকে তবে? তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, এবারে চুক্তির জন্য পাল্টাতে হবে ধারণা সংক্রান্ত বিষয়েই. আমার মনে হয়েছে যে, ওয়ারশ এটাই স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে”.

১৭৫০ সালের তুলনায় – সেই সময়ের সঙ্গে যখনও বিশ্বে শিল্প বিপ্লবের সূত্রপাত হয় নি, বিশ্বে গড় তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে ০, ৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড. ২১০০ সালে এটা বেড়ে যাবে পাঁচ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড, যদি না আন্তর্জাতিক সমাজ আবহাওয়া ও পরিবেশ সংরক্ষণে কোন রকমের সম্মিলিত ভাবে ব্যবস্থা না নেয়. যাতে ফেরানো যাবে না এমন পরিণতি এড়ানো সম্ভব হয়, তাই প্রয়োজন পড়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড জাতীয় গ্যাসের পরিমাণ কমানোর. দরকার পড়বে ৫০ থেকে কমিয়ে ২৫ গেগাটন করার. প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা বিশ্বজোড়া এক চুক্তিতে লিখতে হবে, যা ২০১৫ সালে আশা করা হয়েছে যে, সকলে মেনে নেবে. কিন্তু দেখা গেল যে, তা নিয়ে কাজ এখনও শুরুই হয় নি.