এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য – আস্থার ভিত্তি তৈরী করা, যা এই সমস্ত বছর ধরে আলোচনার সময়ে কোন পক্ষের কাছেই যথেষ্ট ছিল না ও সেটাই ছিল সমস্ত আলোচনা প্রক্রিয়াকে বারবার থামিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত. আর আরও: ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এর পরে আরও স্বচ্ছ হয়ে যাচ্ছে কারণ চুক্তিতে পৌঁছনো গিয়েছে এক অভূতপূর্ব রকমের প্রবল ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে ও প্রত্যেকদিনই ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে যাওয়ার.

এই দলিলের অন্যান্য অনুচ্ছেদগুলো আগামী ছয় মাসের জন্য দুই পক্ষের দায়িত্বের কথা বলেছে. তাদের মূল কথা হল যে, ইরান নিজেদের পারমাণবিক পরিকল্পনা বন্ধ করছে, তার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করাও থাকছে, প্রাথমিক ভাবে শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত, ইতিমধ্যেই শতকরা ২০ ভাগ সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম নষ্ট করে ফেলতে হবে, আর যেটা বেশী দরকারী – তা হল আরাকে ভারী জলের রিয়্যাক্টর তৈরী করার কাজকে মুলতুবি করে রাখতে হবে.

এর উত্তরে ইরানের বিরোধী পক্ষরা আর্থ – বিনিয়োগ নিষেধাজ্ঞা নরম করবে.

“সম্মিলিত কার্যের পরিকল্পনা” – এটা এক রকমের পথনির্দেশ, যা দুই পক্ষের “সম্পূর্ণ অবিশ্বাসের” বিন্দু থেকে “ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধানের” বিন্দু পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা ও গতিবেগ সম্বন্ধে ধারণা দিতে পারে. এই পথে চলার সময় – ছ’মাস. এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষই এই দলিলের সমস্ত শর্ত পালন করতে বাধ্য ও ইরান এবং বাকী বিশ্ব সমাজের পক্ষ থেকে এক বহু প্রসারিত ও ভিত্তি সংশ্লিষ্ট দলিল তৈরী করতে বাধ্য, যা ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনাকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দাবী, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চাহিদা ও পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার রোধের চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরী করে দেবে.

এটা ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরী করা নিয়ে সম্ভাব্য আতঙ্ক দূর করবে ও ইরানের জন্যই একরাশ খুবই ক্ষতিকর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সাহায্য করবে, যা এই দেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ মানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ করে দেবে.

কিন্তু তার মানে নয় যে, এই সমঝোতা সকলের পক্ষেই সন্তোষজনক হয়েছে. রাজনীতিবিদ ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ উল্লেখ করে বলেছেন:

“এই ধরনের চিত্রনাট্য ওয়াশিংটনে ও তেহরানেই বহু লোকের মানসিকতার সঙ্গে মেলে নি.

আমেরিকার রাজধানীতে ইরানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ওবামার রাজনীতির সঙ্গে সহমত নয় এই ধরনের একদল দাবী করেছে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সমস্ত পারমাণবিক প্রকল্প ধ্বংস করিয়ে দেওয়ার, অর্থাত্ ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির অন্য এক বিরোধী পক্ষ বিশেষ করে সেই রিপাব্লিকান দলের লোকদের মধ্যেই চেষ্টা করে যাচ্ছে পারমাণবিক সমস্যাকে বারাক ওবামার রাজনৈতিক নেতা হিসাবে পরাজয় বলেই দেখানোর জন্য”.

ইরানেও পরিস্থিতি সর্বত্র এক রকমের নয়. তেহরানের রাস্তায় সকলের একসাথে সমঝোতা নিয়ে হর্ষ প্রকাশও এখন বলা যেতে পারে না যে, ইরানের রাজনৈতিক মহলের সমস্ত পক্ষের থেকেই রাষ্ট্রপতি রোহানির কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন বলে. জেনেভা থেকে সমঝোতা নিয়ে ফিরে আসা পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ জারিফ সম্বর্ধনা পেয়েছেন ইরানের যুব সমাজের কাছ থেকে আর সেই সমস্ত লোকদের কাছ থেকেই যারা রোহানিকে তাঁর নতুন রাজনৈতিক পথ নেওয়ার জন্য আগেই সমর্থন করেছেন.

কিন্তু কট্টরপন্থীরা, যারা ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আহমাদিনিজাদের পক্ষে, দেশের ধর্মীয় মহলের একাংশ, শক্তিশালী সামরিক- রাজনৈতিক শক্তি – ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর লোকরা খুব একটা বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে শান্তি উদ্যোগের লক্ষ্য নিয়ে আগ্রহী নয়. তাদের জন্য নিজেদের মতে আর অর্থকরী ভাবেও সুবিধা বেশী একটা “চারপাশ ঘেরা কেল্লায় থাকা”, যাতে যে কোন রকমের আভ্যন্তরীণ সমস্যাকেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের চাল বলে ও বিশ্বের ইহুদীদের ঘৃণ্য কারবার বলেই, বিশেষ করে যখন কখনও শেষ না হওয়া অর্থের প্রবাহ তাদের রাজনৈতিক আদর্শের আর রাজনৈতিক স্বৈরাচারের কাঠামোর মধ্য দিয়েই শুধু প্রবাহিত হতে থাকে সেই সামরিক শিল্প খাতের দিকে. ইরানের খোলামেলা হওয়া তাদের জন্যই মৃত্যুর সমান, অবশ্যই তা রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক ভাবে.

কোন সন্দেহ নেই যে, ওয়াশিংটনে বারাক ওবামা ও তেহরানে হাসান রোহানি নিজেদের দেশের ভেতরেই প্রবল চাপের সম্মুখীণ হচ্ছেন. তাই তাদের প্রত্যেকেই জেনেভা সমঝোতার কাঠামোর মধ্যে রাজনৈতিক কাজের বিষয়ে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাতেও দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়কে নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হবেন. এটা অবশ্যই দ্রুত ও অবাধ ভাবে শেষ চুক্তি পাওয়ার বিষয়ে সহায়তা করবে না. এই ছ’মাসের সময় হবে খুবই জটিল ও মোটেও সোজা পথ নয়.

ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, জেনেভা শহরে শুধু কৌশলগত সাফল্যই পাওয়া গিয়েছে, কারণ ইরান নিজেদের উপরে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে চুক্তির সংলগ্ন বাড়তি দায়িত্ব নিতে রাজী হয় নি, আর পশ্চিম বাস্তবে সমস্ত ভিত্তি মূলক নিষেধাজ্ঞাই বহাল রেখেছে. তা যেমন ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত ব্যাপারে, তেমনই ইরানের খনিজ তেল রপ্তানীর বিষয়েও.

বিশেষজ্ঞের মতের সঙ্গে সহমত হয়ে খুবই সঠিক হবে বললে যে, কৌশলগত সাফল্য সন্দেহাতীত ভাবেই অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু কোন স্ট্র্যাটেজিক ব্রেকথ্রু নিয়ে বলা এখনও তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে. অনেক কিছুই এখনও বদলাতে পারে.