আজ এই সমস্ত জটিলতাই পেছনে চলে গিয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে যে, সহকর্মীদের প্রতি তারা এগোতে তৈরী রয়েছে, আর ভারতের পক্ষ থেকে দেখানো ধৈর্য ও পরিস্থিতিকে ঘোরালো না করার জন্য উপযুক্ত রকমের প্রজ্ঞার উপস্থিতি যুক্তিযুক্তই হয়েছে. ফলে এই সপ্তাহে ভারতীয় সমুদ্র উপকূলের দিকে রওয়ানা হবে সম্পূর্ণ নতুন এক জাহাজ, যা তৈরী করা হয়েছে সর্বাধুনিক সমুদ্রের দিক নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি দিয়ে ও যে জাহাজে ৩০টি উড়তে সক্ষম এমন যন্ত্র রাখা যেতে পারে, তার মধ্যে যুদ্ধবিমান মিগ- ২৯ক ও হেলিকপ্টার কা- ২৭ ও কা-৩১ রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এর ফলে সকলেই আজ লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে. মস্কো সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বিষয়ে ভারতের প্রধান সহকর্মী দেশের মর্যাদাকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছে. যা মনে হতে যাচ্ছিল যে, সম্মানের অবধারিত ভাবে পতন, তা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে. যারা ভাল চায়না, তারা তখন বলেছিল যে, দেখো মস্কো ভারতকে নিজের জন্য লাভের বন্দোবস্ত করে চেষ্টা করেছিল “বর্তমানের অনুপযুক্ত এক জং ধরা বাটি দিতে”, আজ তারাই চুপ করে গিয়েছে. তেমনই রাশিয়াতেও সেই সব লোকরা চুপ করে গিয়েছে, যারা ভারতকে দোষ দিয়েছিল যে, ভারত আধুনিক বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ কিনতে চেয়েছে প্রায় বিনা পয়সায়, আর তাই দাম নিয়ে চালাকি করেছে”.

“বিক্রমাদিত্য” জাহাজের চুক্তি স্রেফ ভারতীয় নৌবহরের নিয়ন্ত্রণে “বিক্রমাদিত্য” যুদ্ধ জাহাজ দিয়ে দেওয়াতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না. রাশিয়া তারই সঙ্গে ভারতীয় নাবিকদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে. তাছাড়া, রাশিয়ার পক্ষ থেকে “বিক্রমাদিত্য” জাহাজের স্থায়ী ঘাঁটির জন্য পরিকাঠামো তৈরী করা হচ্ছে ভারত মহাসাগরের জলে. যদি দেখা হয় যে, “বিক্রমাদিত্য” জাহাজের পরিষেবা দেওয়ার সময়সীমা তিরিশ বছর, তবে খুবই ভরসা করে বলা যেতে পারে যে, “বিক্রমাদিত্য” জাহাজের সঙ্গে শুধু আজকের দিনের ভারত – রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সহযোগিতাই জুড়ে থাকবে না, বরং তা ভবিষ্যতের জন্যও অটুট থাকবে, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“আজ ভারতের সামনে যে সমস্ত নতুন কাজ রয়েছে, তার মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত করা, কাঁচা মালের কাছে পৌঁছনোর পথ খুলে দেওয়া ও এশিয়াতে বহু সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা. আর এটাই সামরিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক অংশে ভরকেন্দ্র স্থানান্তরিত করে দিয়েছে. অন্য কথায় বলতে হলে, স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য হওয়া উচিত্ “বিক্রমাদিত্য” জাহাজ নৌবাহিনীতে পেয়ে ভারতের এক বৃহত্ সামুদ্রিক-সামরিক শক্তিতে পরিণত হওয়া”.

নতুন সর্বাধুনিক বিমানবাহী জাহাজ হাতে পেয়ে ভারতের সামুদ্রিক নৌবাহিনী এবারে একেবারেই “অন্য ওজনের শক্তিদের দলে” এসে দাঁড়াবে. এটাই তাদের সম্পূর্ণ রকমের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য পূরণ করতে দেবে: ভারতের এশিয়া এলাকায় স্ট্র্যাটেজিক ভাবে সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে. “অ্যাডমিরাল গর্শকভ” জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” হওয়ার কারবারের পেছনে এটাই ভূ-রাজনৈতিক মাত্রা.